PIB Backgrounder
গোবর্ধন (GOBARdhan): দূষণমুক্ত জ্বালানি এবং গ্রামীণ সমৃদ্ধি
प्रविष्टि तिथि:
06 AUG 2026 8:13PM by PIB Kolkata
০৬ আগস্ট, ২০২৬
গোবর্ধন: বর্জ্যকে সমৃদ্ধির ইঞ্জিনে রূপান্তর
ভারত বর্তমানে তার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়, যা শক্তি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অন্তরালে সৃষ্টি ভারতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, এ বছর ৬ আগস্ট, অর্থাৎ আজ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা মোট ২৩,৭৩১ কোটি টাকা খরচে জাতীয় জৈবজ্বালানি প্রকল্প 'গোবর্ধন' (GOBARdhan) অনুমোদন করেছে।
২০১৮ সালে 'স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)'-এর অধীনে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসাবে প্রথম গোবর্ধন (Galvanizing Organic Bio-Agro Resources Dhan) চালু করা হয়। এটি জৈব বর্জ্যকে বায়োগ্যাসে পরিণত করে গ্রাম পরিষ্কার রাখতে এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
পূর্বে কমপ্রেসড বায়োগ্যাস (CBG) ক্ষেত্রটি চারটি আলাদা মন্ত্রকের অধীনে বিভক্ত ছিল। সুসংহত নীতি ও দ্রুত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনে এটিকে একত্রিত করেছে। এই প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩৫-৩৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে এবং সিবিজি-কে ভারতের ভবিষ্যৎ শক্তি ক্ষেত্রে একটি প্রধান স্তম্ভ হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
* *লক্ষ্য:* দেশীয় সিবিজি উৎপাদন প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি করা, বৃহৎ আকারের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং জৈব-অর্থনীতি (circular bioeconomy) গড়ে তোলা।
* *নোডাল মন্ত্রক:* পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক (MoPNG)।
* *বাস্তবায়নকাল:* ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩৫-৩৬ অর্থবর্ষ।
* *মোট ব্যয় বরাদ্দ:* ২৩,৭৩১ কোটি টাকা।
* *দূরদৃষ্টি (Vision):* ভারতের বর্জ্যই ভারতের বৃদ্ধিকে চালিত করবে, গ্রামগুলি হবে দূষণমুক্ত শক্তির কেন্দ্রবিন্দু এবং কৃষকরা হবেন দেশের শক্তি নিরাপত্তার মজবুত অংশীদার।
একটি মজবুত ভিত্তি
বিগত বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগের মাধ্যমে সিবিজি ক্ষেত্রটির ভিত্তি স্থাপন করেছে:
* সতত (SATAT - Sustainable Alternative Towards Affordable Transportation) উদ্যোগ।
* জৈব সারের জন্য মার্কেট ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (MDA) স্কিম।
* বায়োমাস এগ্রিগেশন মেশিনারি (BAM) স্কিম।
* ডেভেলপমেন্ট অফ পাইপলাইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) স্কিম।
* ন্যাশনাল বায়োএনার্জি প্রোগ্রাম-এর অধীনে সিবিজি প্ল্যান্টের জন্য কেন্দ্রীয় আর্থিক সাহায্য (CFA)।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের ৫৬৪.৭৫ কোটি টাকার BAM প্রকল্পের অধীনে এ বছর ১৬ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২৪৮ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তাসহ ৩৭টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া, ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৮-২৯ মেয়াদের DPI স্কিমের অধীনে ৫৬.৩১ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।
রসায়ন ও সার মন্ত্রকের অধীনে সার বিভাগ গোবর্ধন ও সিবিজি প্ল্যান্ট থেকে তৈরি জৈব সার ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনে ১,৫০০ টাকা এমডিএ সাহায্য প্রদান করছে। এ বছর ৪ মার্চ পর্যন্ত ১২০টি সিবিজি/বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নিবন্ধিত হয়েছে এবং ৪৫টি চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে ২৮ কোটি এবং ২০২৫-২৬ সালে ৮৩.৭২ কোটি টাকা সহ মোট ১১১.৭২ কোটি টাকা এমডিএ হিসাবে প্রদান করা হয়েছে।
ভারতের জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ
পরিবহন, গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সিবিজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় পুনর্ব্যবহারযোগ্য সিবিজি গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং শক্তি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বাড়াবে। এর ফলে ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
রাসায়নিক গঠনের দিক থেকে সিবিজি প্রাকৃতিক গ্যাসের সমতুল্য এবং এটি সহজেই ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি সিবিজি প্ল্যান্ট কৃষি বর্জ্য, গোবর ও অন্যান্য জৈব সম্পদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে একটি চক্রাকার অর্থনীতি তৈরি করে, যা কর্মসংস্থান ও গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সহায়তা করে।
গোবর্ধন স্কিমের ছয়টি প্রধান স্তম্ভ (Six Growth Engines)
১. *সিবিজি ক্রয় (Assured CBG Offtake):* সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) সংস্থাগুলির জন্য সিবিজি মিশ্রণের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে—২০২৬-২৭ সালে ৩%, ২০২৭-২৮ সালে ৪% এবং ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ থেকে সিএনজি ও পিএনজি ক্ষেত্রে ৫% সিবিজি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. *স্থায়ী সিবিজি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা (Stable CBG Pricing Framework):* সরকার প্রতি MMBTU সিবিজি-র দাম ২,১১০ টাকা (বা প্রতি কেজি ১০৫ টাকা) নির্ধারণ করেছে। অন্তত ১০ বছরের জন্য নির্ধারিত এই দর বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী আয়ের নিশ্চয়তা দেবে।
৩. *মূলধনী সহায়তা (Capital Assistance):* নতুন স্থাপিত সিবিজি প্রকল্পগুলি দৈনিক ১ টন সিবিজি উৎপাদন ক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনী সহায়তা পাবে। ব্রাউনফিল্ড বা পূর্বে ব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত এলাকার সম্প্রসারণ এবং এ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিও এর আওতায় থাকবে।
৪. *পাইপলাইন পরিকাঠামোর উন্নয়ন (Development of Pipeline Infrastructure):* সিবিজি প্ল্যান্টগুলিকে মূল পাইপলাইন এবং শহরভিত্তিক গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ক্লাস্টার এবং একক পাইপলাইন পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করা হবে।
৫. *ক্রেডিট গ্যারান্টি সহায়তা (Credit Guarantee Support):* এমএসএমই (MSME) ভিত্তিক সিবিজি প্রকল্পগুলির জন্য একটি বিশেষ ক্রেডিট গ্যারান্টি ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য ঋণের ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যারান্টি কভারেজ দেওয়া হবে।
৬. *সিবিজি ইকোসিস্টেম চ্যালেঞ্জ ফান্ড (CBG Ecosystem Challenge Fund):* জেলা পর্যায়ে বর্জ্য ও কাঁচামাল মানচিত্রায়ন, সংগ্রাহক পরিকাঠামো, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জৈব সারের মানোন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জমূলক তহবিল গঠন করা হয়েছে।
গোবর্ধন প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল
* দেশীয় সিবিজি উৎপাদনে প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি করা।
* জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস এবং শক্তি নিরাপত্তা অর্জন।
* শক্তিশালী বিনিয়োগ ও স্থায়িত্বের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
* কৃষক, সংগ্রাহক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তাদের নতুন আয়ের সুযোগ ও জীবিকা উন্নয়ন।
* বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃষি বর্জ্য, গোবর ও পৌর জৈব বর্জ্যের ফলপ্রসূ ব্যবস্থাপনা।
* পরিবেশদূষণ ও গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস।
এক দশকে সম্ভাব্য সুবিধা
আগামী ১০ বছরে গোবর্ধন প্রকল্পের সাফল্যগুলি:
* সিবিজি উৎপাদন ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বিশাল ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আসবে।
* আমদানি নির্ভরতা কমে ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
* ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টন (MMT) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমবে।
* জাতীয় জিডিপিতে (GDP) ৭৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি যোগ হবে।
* মূল্য শৃঙ্খলে ১.৫ লাখেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
* ডাম্পিং গ্রাউন্ড বা ল্যান্ডফিল থেকে বর্জ্য সরিয়ে ৪০ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও বেশি CO₂ নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব হবে।
* ২৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদিত হবে।
গোবর্ধন ইউনিফাইড রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল
ভারতে যে কেউ সিবিজি/বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্ট চালু করতে চাইলে গোবর্ধন ইউনিফাইড রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে (gobardhan.eil.co.in) নাম নথিবদ্ধ করতে পারেন। আজকের তারিখ পর্যন্ত এই পোর্টালে মোট ১,৯০৮টি প্ল্যান্ট নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ২১৭টি প্ল্যান্ট চালু হয়েছে (যা দৈনিক ০.৪ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার গ্যাস তৈরি করছে) এবং ৩৩৯টি প্ল্যান্ট বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে।
গোবর্ধন: ভারতের জৈব-অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করবে
গোবর্ধন ভারতের জৈব সম্পদকে দূষণমুক্ত শক্তি, পরিবেশবান্ধব সমৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক মূল্যে রূপান্তরিত করার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। নিশ্চিত চাহিদা, স্থায়ী মূল্য নির্ধারণ, মূলধনী সাহায্য, পাইপলাইন সংযোগ ও ঋণ সুবিধা এক ছাতার তলায় এনে প্রকল্পটি ভারতের সিবিজি ক্ষেত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে পরিণত করতে সাহায্য করবে, অর্থাৎ, 'আত্মনির্ভর ভারত' এবং 'বিকশিত ভারত'-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
Ministry of Petroleum & Natural Gas
Ministry of Jal Shakti
Ministry of Chemicals and Fertilizers
Ministry of Electronics and Information Technology
Ministry of Information and Broadcasting
- https://www.youtube.com/watch?v=LkdCb8khJJs&t=1121s
https://www.youtube.com/watch?v=LkdCb8khJJs&t=1121s
Click here for pdf file.
*******
SSS/PK/...
(रिलीज़ आईडी: 2295968)
आगंतुक पटल : 2