অর্থমন্ত্রক
পশ্চিমবঙ্গের ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ সালের রাজ্য অর্থ সংক্রান্ত অডিট রিপোর্ট উদ্ঘাটন করলেন ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)
प्रविष्टि तिथि:
25 JUL 2026 5:31PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ২৫ জুলাই, ২০২৬
ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) আজ বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের রাজ্য অর্থ সংক্রান্ত অডিট রিপোর্ট পেশ করে এই বিষয়ে সংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করলেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অডিট-১) শ্রী বিভু দত্ত বসন্তিয়া, পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অডিট-২) শ্রী মনীশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড এনটাইটেলমেন্ট) শ্রী অনিন্দ্য দাসগুপ্ত-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকবৃন্দ।
২০২৪-২৫ সালের রাজ্য অর্থ সংক্রান্ত অডিট রিপোর্টটিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি তিনটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত, যেখানে রাজ্যের আর্থিক অবস্থার সার্বিক চিত্র, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং রিপোর্টিং সংক্রান্ত বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ফলাফল উপস্থাপন করতে গিয়ে অডিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিএসডিপি) ৯.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং জিএসডিপি ২০১৫-১৬ সালের ৭.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ সালে ১৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে, যা এই দশকে ৯.৫৭ শতাংশের একটি কম্পাউন্ড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট (সিএজিআর) নথিভুক্ত করতে পেরেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪-২৫ সালে ৩৯,৭২৭ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি ছিল, যা জিএসডিপির ২.১৯ শতাংশের সমান। রাজস্ব ঘাটতি (ফিসকাল ডেফিসিট) দাঁড়িয়েছে ৬১,৯২৪ কোটি টাকা, যা জিএসডিপির ৩.৪১ শতাংশ, এবং এটি অর্থ সংক্রান্ত দায়িত্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনা (এফআরবিএম) আইনের ৩.৫০ শতাংশের লক্ষ্যের মধ্যেই রয়েছে। তবে, রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, রাজ্যের মোট বকেয়া জিএসডিপির ৩৮.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি এফআরবিএম-এর ৩৮ শতাংশের বেঞ্চমার্ককে অতিক্রম করেছে।
অডিটের ফলাফল অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গ ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব ঘাটতি নথিভুক্ত করেছে। অন্যদিকে, এই দশকে সিএজিআর-এ ১২.৮৩ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ২০২৪-২৫ সালে রাজস্ব প্রাপ্তি ছিল ২,১৩,৭০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ৬.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, রাজস্বের স্থিতিস্থাপকতা (বয়াণ্সি) একের নিচে ছিল, যেটি নির্দেশ করে যে রাজস্ব বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনীতির বৃদ্ধির সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি। এতে আরও বলা হয়েছে যে, এই বছরে রাজ্যের রাজস্ব প্রাপ্তি ৫২ শতাংশ হয়েছে। এই প্রাপ্তির পেছনে রয়েছে ভারত সরকারের কাছ থেকে হস্তান্তরিত অর্থ।
ব্যয়ের ক্ষেত্রে, রাজস্ব ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২,৫৩,৪২৭ কোটি টাকায়। এই অংক রাজস্ব প্রাপ্তির ১১৮.৫৯ শতাংশ। রিপোর্টে আর-ও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত পাঁচ বছরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যয় রাজস্ব ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি ছিল এবং ১৯,৪৪৪ কোটি টাকার ভর্তুকি ব্যয়ের সঙ্গে মিলে ২০২৪-২৫ সালে রাজস্ব প্রাপ্তির প্রায় ৭৪ শতাংশ গ্রাস করেছে। পাশাপাশি, অডিটে এটিও তুলে ধরা হয়েছে যে, রাজস্ব ব্যয়ের ৪১ শতাংশ অর্থায়ন নিট ঋণের মাধ্যমে করা হয়, যেটি ভবিষ্যতের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করেছে। এই বছরে ভর্তুকি ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৮৫.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অডিটে বলা হয়েছে যে, মূলধনী ব্যয় ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে, ২০২৩-২৪ সালের ২৮,৯৬৩ কোটি টাকা থেকে কমে এই ব্যয় ২০২৪-২৫ সালে ২১,৬২২ কোটি টাকা হয়েছে, যা রাজ্যের জিএসডিপির মাত্র ১.১৯ শতাংশ।
২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের বকেয়া ছিল ৭,০১,৭২৪ কোটি টাকা। ডেট-টু-জিএসডিপি অনুপাত ২০২০-২১ সালের ৪২.৬০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে ৩৮.৬৬ শতাংশে নেমে আসলেও, একই সময়কালে রাজস্ব প্রাপ্তির অনুপাত হিসাবে সুদ পরিশোধের পরিমাণও ২২.৭৭ শতাংশ থেকে কমে ২১.২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
রিপোর্টে বাজেট ব্যবস্থাপনারও পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে, ৩,৯০,৬৩৮.০৪ কোটি টাকার মোট বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে রাজ্য ৩,১৯,৯৭৫.৭৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যার ফলে মোট ৭০,৬৬২.২৫ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ১৮.০৯ শতাংশ সাশ্রয় হয়েছে।
অডিট রিপোর্টে এমন-ও ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে যেখানে অতিরিক্ত বরাদ্দ হয় অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত প্রমাণিত হয়েছে, অন্যদিকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪-২৫ সালে সাতটি অনুদান এবং একটি বরাদ্দের অন্তর্গত ১৩,৪৮৬.৯২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের নিয়মিতকরণ প্রয়োজন। এতে আরও বলা হয়েছে যে, ২০০৯-২০২৪ সময়কালের সঙ্গে সম্পর্কিত অনিয়মিত অতিরিক্ত ব্যয় পুঞ্জীভূত হয়ে ৫৭,২৬৩.৬২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলির (সিএসএস) বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করে রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, রাজ্য ২০২৪-২৫ সালে কেন্দ্রীয় অংশ হিসাবে ৫,৮৮৯.৪৯ কোটি টাকা পেলেও ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত একক নোডাল এজেন্সিগুলির (এসএনএ) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৮,২৯৬.৫১ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। এতে আরও দেখা গেছে যে, অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ ৬৭টি কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ১৪টি প্রকল্পকে এসএনএ-স্পর্শ (SNA-SPARSH) প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, অর্থবর্ষের মধ্যে রাজ্যের একত্রিত তহবিল (কনসোলিডেটেড ফান্ড) থেকে ব্যক্তিগত আমানত অ্যাকাউন্টে (পার্সোনাল ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট) ৫৩৫.৫৯ কোটি টাকা স্থানান্তরিত করা হয়, যার একটি বড় অংশ স্থানান্তরিত হয়েছে অর্থবর্ষের শেষ মাসে।
অডিট রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫৬৮.৯৮ কোটি টাকার ৪,৪৫৪টি অ্যাবস্ট্রাক্ট কন্টিনজেন্ট বিল সমন্বয়ের অপেক্ষায় অমীমাংসিত ছিল, যার মধ্যে চলতি অর্থবর্ষ সংক্রান্ত ৮০৭টি বিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, সেসের অর্থ স্থানান্তরিত না করা সম্পর্কিত। রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪-২৫ সালে তহবিলে জমা হওয়া ১,৮০৯.৬৬ কোটি টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে (পাবলিক অ্যাকাউন্ট) স্থানান্তরিত করা হয়নি কারণ প্রয়োজনীয় সংরক্ষিত তহবিল তৈরি করা হয়নি।
অডিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, রিপোর্টটির উদ্দেশ্য হল, রাজ্য সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি এবং বাজেট সংক্রান্ত অনুশীলনের একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদানের মাধ্যমে রাজস্ব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা।

********************
SSS/PK/Kol/25.7.26......
(रिलीज़ आईडी: 2289430)
आगंतुक पटल : 16
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English