শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

গত ১২ বছরের রূপান্তরমূলক সাফল্য তুলে ধরল বাণিজ্য বিভাগ; চা রপ্তানিতে ঐতিহাসিক সাফল্যের নজির

प्रविष्टि तिथि: 09 JUN 2026 8:53PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ৯ জুন ২০২৬

 

ভারত সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীন বাণিজ্য বিভাগ আজ কলকাতার টি বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে গত ১২ বছরে অর্জিত রূপান্তরমূলক সাফল্য তুলে ধরে এবং রপ্তানিনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করার রূপরেখা প্রকাশ করে। যৌথভাবে এই সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য বিভাগের যুগ্মসচিব শ্রী অমিত কুমার এবং টি বোর্ড ইন্ডিয়ার উপ-চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগান।

 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে শ্রী অমিত কুমার বলেন, “ভোকাল ফর লোকাল” এবং “লোকাল টু গ্লোবাল”-এর নীতিকে সামনে রেখে বাণিজ্য বিভাগ ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে চলেছে। তিনি জানান, ভারতের মোট রপ্তানি ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ৪৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৮৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্বব্যাপী বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপের সাফল্যের প্রতিফলন।

 

শ্রী কুমার জানান, রপ্তানি প্রবণতা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল রূপান্তর, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)-র মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ, ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’ প্রচার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি উন্নয়ন কর্মসূচির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিষেবা ক্ষেত্র ভারতের অন্যতম প্রধান বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এই ক্ষেত্রে রপ্তানি ২০১৪-১৫ সালে ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৪৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধশিল্প, কৃষি, রত্ন ও গয়না এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

 

ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সহজতর করতে বাণিজ্য বিভাগ ট্রেড কানেক্ট ই-প্ল্যাটফর্ম, ট্রেড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স পোর্টাল, মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড প্রোমোশন পোর্টাল (MIMP) এবং ডিজিএফটি–র মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের মতামত সংগ্রহের মতো একাধিক ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উপস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শ্রী কুমার জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), EFTA গোষ্ঠীভুক্ত দেশসমূহ, যুক্তরাজ্য, মরিশাসসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওমান এবং নিউজিল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির সঙ্গে আলোচনাও এগিয়ে চলেছে। এই উদ্যোগগুলি ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করছে।

 

বাণিজ্য বিভাগ ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’ প্রচারের অংশ হিসেবে ‘নির্যাত প্রোৎসাহন’ এবং ‘নির্যাত দিশা’–সহ একাধিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে। একইসঙ্গে ভারতের বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে ভারত মণ্ডপম এবং ইন্ডিয়া ট্রেড প্রোমোশন অর্গানাইজেশন (ITPO)–এর ভূমিকার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

 

বিকশিত ভারত ২০৪৭–এর লক্ষ্যপূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শ্রী কুমার বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাণিজ্য বিভাগ বিভিন্ন মন্ত্রক, পণ্য বোর্ড, রাজ্য সরকার, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং শিল্পমহলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

 

তিনি আরও জানান, সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) এবং সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (GeM) ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। SEZ থেকে রপ্তানি ২০১৪-১৫ সালে ₹৪.৯৯ লক্ষ কোটি থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ₹১৩.৫৫ লক্ষ কোটিতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, GeM চালুর পর থেকে ₹১৭.৭২ লক্ষ কোটি টাকার ক্রয় আদেশ সম্পন্ন হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে।

 

চা শিল্পের প্রসঙ্গে টি বোর্ড ইন্ডিয়ার উপ-চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের চা উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১,৩৮২.৭৪ মিলিয়ন কিলোগ্রামে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে চা রপ্তানিও সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে ২৮২.১১ মিলিয়ন কিলোগ্রাম হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। রপ্তানি থেকে আয় ₹৮,৭১৮.৮৩ কোটি হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।

 

শ্রী মুরুগান বলেন, পশ্চিম এশিয়ার ঐতিহ্যগত বাজারগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় চা শিল্প স্থিতিশীল ও আশাবাদী রয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় রপ্তানিকারকরা চীন, উত্তর আফ্রিকা, কানাডা ও মিশরের মতো উদীয়মান বাজারে প্রবেশ করেছে। যদিও পশ্চিম এশিয়া এখনও ভারতের চা রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

 

তিনি জানান, টি বোর্ড ইন্ডিয়া বিশ্বজুড়ে নতুন ও অনাবিষ্কৃত বাজারে প্রচারমূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। একইসঙ্গে দেশীয় বাজারে ভারতীয় চায়ের ব্র্যান্ড মূল্য বৃদ্ধি করতে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বন্দে ভারত ট্রেন, বিভিন্ন মহানগরে মেট্রো রেল র‍্যাপ, সংবাদপত্র প্রচারাভিযান এবং স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

শ্রী মুরুগান বলেন,

“লক্ষ্যভিত্তিক বাজার সম্প্রসারণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা গত বছরের রেকর্ড রপ্তানি পরিমাণ বজায় রাখতে সক্ষম হব বলে আত্মবিশ্বাসী।”

 

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রৎসাহান যোজনা (PMCSPY)–এর আওতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ₹১,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্য অসম ও পশ্চিমবঙ্গের চা–বাগান শ্রমিকদের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন সুবিধার উন্নয়ন। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি রাজ্যস্তরের কমিটি গঠিত হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন রাজ্যের চা উৎপাদনকারী অঞ্চলে আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে শ্রী মুরুগান বলেন, টি বোর্ড–সমর্থিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি জলবায়ু সহনশীল ও খরা–প্রতিরোধী চা গাছের নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ করছে। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থা এবং জলবায়ু–উপযোগী প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য চা চাষিদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

 

সাংবাদিক বৈঠকে দার্জিলিং চা, চা আমদানি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রচারমূলক কর্মসূচি এবং গুণমান নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। টি বোর্ড ইন্ডিয়া জানায়, পুনরোপণ কর্মসূচি, উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগ এবং বাজার সম্প্রসারণের ধারাবাহিক উদ্যোগ চা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

বৈঠকের শেষে শ্রী মুরুগান আশা প্রকাশ করেন যে, ভারত সরকার, টি বোর্ড ইন্ডিয়া, রাজ্য সরকার, রপ্তানিকারক, উৎপাদক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারতীয় চা শিল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে এবং বিশ্বব্যাপী বাজারে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

****

০৯.০৬.২০২৬ তারিখে কলকাতার টি বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে চা শিল্পের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য বিভাগের যুগ্মসচিব শ্রী অমিত কুমার এবং টি বোর্ড ইন্ডিয়ার উপ-চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগন।

 

 ০৯.০৬.২০২৬ তারিখে কলকাতার টি বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে চা শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য বিভাগের যুগ্মসচিব শ্রী অমিত কুমার এবং টি বোর্ড ইন্ডিয়ার উপ-চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগন।

 

 

 ০৯.০৬.২০২৬ তারিখে কলকাতার টি বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের বাণিজ্য বিভাগের ১২ বছরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্য বিভাগের যুগ্মসচিব শ্রী অমিত কুমার এবং টি বোর্ড ইন্ডিয়ার উপ-চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগন।

 

০৯.০৬.২০২৬ তারিখে কলকাতার টি বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের বাণিজ্য বিভাগের ১২ বছরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্য বিভাগের যুগ্মসচিব শ্রী অমিত কুমার এবং টি বোর্ড ইন্ডিয়ার উপ-চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগন।

 

********


(रिलीज़ आईडी: 2270952) आगंतुक पटल : 73
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English