আবাসনএবংশহরাঞ্চলেরদারিদ্র্যদূরীকরণমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিমবঙ্গে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপের উদ্বোধন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লালের

প্রকাশিত: 30 MAY 2026 4:47PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ৩০ মে ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ, আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী মনোহর লাল আজ কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের জন্য 'স্বচ্ছ অ্যাপ'-এর সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী; পশ্চিমবঙ্গের পৌর বিষয়ক দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী শ্রীমতি অগ্নিমিত্রা পাল; বিদ্যুৎ মন্ত্রকের সচিব শ্রী পঙ্কজ আগরওয়াল; দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শ্রী সুরেশ কুমার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অ্যাপটির সূচনা করে শ্রী মনোহর লাল বলেন যে, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হল, নগর উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তিনি বলেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ, বর্জ্যের পৃথকীকরণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলির প্রক্রিয়াকরণ; এবং উন্নত ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোর মাধ্যমে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান যে, সদ্য চালু হওয়া 'স্বচ্ছ অ্যাপ' নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে সক্ষম করে তুলবে। বাসিন্দারা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় বর্জ্য জমে থাকা বা পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কোনও সমস্যার ছবি তুলে এই অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করতে পারবেন। অভিযোগগুলি 'জিও-ট্যাগ' করা হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান যে, পৌর আধিকারিকরা পরিষ্কার করা স্থানটির 'আগের ও পরের' ছবি তুলে আপলোড করবেন; পাশাপাশি, নাগরিকরাও কর্তৃপক্ষের সাড়াদান বা কাজের মান মূল্যায়নের জন্য একটি 'ফিডব্যাক মেকানিজম' বা মতামত প্রদানের ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন। শ্রী মনোহর লাল স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১১ বছর আগে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী 'স্বচ্ছ ভারত মিশন'-এর সূচনা করেছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতকে খোলা জায়গায় মলত্যাগ মুক্ত করা এবং সকলের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন জীবনযাত্রার পরিবেশ সুনিশ্চিত করা।

সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে শ্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, 'স্বচ্ছ অ্যাপ'-এর পরীক্ষামূলক বা 'পাইলট' পর্যায়টি প্রাথমিকভাবে ১০টি পৌরসভায় চালু হবে, যার মধ্যে রয়েছে আসানসোল, দুর্গাপুর, বসিরহাট, পূজালি, তুফানগঞ্জ, কাঁথি, কৃষ্ণনগর, বৈদ্যবাটি এবং মধ্যমগ্রাম; এরপর ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত পৌরসভায় এই অ্যাপের পরিষেবা সম্প্রসারিত করা হবে।

তিনি বলেন যে, এই উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদৃষ্টি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি 'বিকশিত ভারত' গড়ে তোলার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পশ্চিমবঙ্গের পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরে শ্রী অধিকারী 'জল জীবন মিশন'-এর অধীনে ৩৯,০০০ কোটি টাকা, 'জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন'-এর অধীনে ২,১০৩ কোটি টাকা এবং 'আয়ুষ্মান ভারত'-এর অধীনে ৯৭৬ কোটি টাকার বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে, নগর উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে; পাশাপাশি তিনি এই আশ্বাসও দেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রকল্পই কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।

শ্রী অধিকারী সুস্থায়ী পরিবহন ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে রেল ও মেট্রো প্রকল্পের সম্প্রসারণ দূষণ হ্রাস এবং শহরাঞ্চলে চলাচলের মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।

তিনি 'প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা'-র গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এই আস্থা প্রকাশ করেন যে, রাজ্য প্রশাসন ও ডিভিসি-র পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে সেচ পরিকাঠামো শক্তিশালী হবে এবং কৃষি উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীমতি অগ্নিমিত্রা পাল বলেন যে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং স্মার্ট বাংলা গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল পরিবেশগত স্থায়িত্ব অর্জন করা এবং জীবনযাত্রার মানের উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

তিনি বলেন যে, 'স্বচ্ছ বাংলা'-র এই ভাবনাটি 'সোনার বাংলা' এবং 'বিকশিত ভারত'-এর বৃহত্তর লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি, অংশীদারিত্ব ও যৌথ দায়িত্ববোধের মাধ্যমে আধুনিক ও পরিবেশ-বান্ধব নগর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি ব্যক্ত করেন।

 

SC/MP/AS

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


(রিলিজ আইডি: 2267098) ভিজিটরের কাউন্টার : 32
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English