স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
রাষ্ট্রপতি ২০২৬ সালের পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রদান করবেন আগামী ২৫ মে
পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পদ্মশ্রী গ্রহণ করবেন প্রখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
प्रविष्टि तिथि:
18 MAY 2026 6:01PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ১৮ মে, ২০২৬
ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু আগামী ২৫ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্রথম নাগরিক অলঙ্করণ অনুষ্ঠানে (Civil Investiture Ceremony-1) এই বছরের পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রদান করবেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্ষেত্রের এগারোজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই রাজ্য থেকে মর্যাদাপূর্ণ পদ্মশ্রী পুরস্কার পাবেন। তাঁরা হলেন- তবলা বাদক শ্রী কুমার বোস, চলচ্চিত্র তারকা শ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সরোজ মণ্ডল, কাঁথা সেলাই শিল্পী শ্রীমতী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়, কিংবদন্তি নাট্য পরিচালক, নাট্যকার ও অভিনেতা শ্রী হরি মাধব মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক গম্ভীর সিংহ ইয়োনজোন, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক শ্রী অশোক কুমার হালদার, মসলিন জামদানি তৈরির শিল্পে দক্ষতার জন্য শ্রী জ্যোতিষ দেবনাথ, উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট রসায়নের অধ্যাপক শ্রী মহেন্দ্র নাথ রায়, প্রখ্যাত সাঁওতালি লেখক শ্রী রবিলাল টুডু এবং প্রখ্যাত সন্তুর বাদক শ্রী তরুণ ভট্টাচার্য। গত ২৫ জানুয়ারি, কেন্দ্র সেই পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করেছিল যাঁরা পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী পাবেন। ২০২৬ সালের জন্য, রাষ্ট্রপতি ১৩১টি পদ্ম পুরস্কার প্রদানের অনুমোদন দিয়েছেন। এই তালিকায় পাঁচটি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী পুরস্কার রয়েছে। পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে ১৯ জন মহিলা এবং এই তালিকায় বিদেশী / এনআরআই (NRI) / পিআইও (PIO) / ওসিআই (OCI) বিভাগের ছয়জন ব্যক্তি এবং ১৬ জন মরণোত্তর পুরস্কার প্রাপকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
প্রখ্যাত তবলা বাদক শ্রী কুমার বোস ভারতের বহু বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী এবং যন্ত্রশিল্পীদের কাছে এক অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন সঙ্গতকারী। তিনি বিশ্বজুড়ে পরিবেশনায় বিরল সংবেদনশীলতা ও কর্তৃত্বের সাথে অবদান রেখেছেন। তাঁর সঙ্গত সুরের কল্পনা, স্বরের সমৃদ্ধি এবং রাগ ও লয়ের সহজাত অনুধাবনের দ্বারা স্বতন্ত্র, যা তাঁকে "সঙ্গীতজ্ঞদের সঙ্গীতজ্ঞ" হিসেবে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। পেশকার, কায়দা, রেলা, গত এবং টুকড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী রূপের ওপর দক্ষতা, বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা এবং শক্তিশালী গঠনশৈলীর জন্য তাঁর একক পরিবেশনাও সমানভাবে সমাদৃত। শ্রী বোসের স্তিতধী, নৈতিক সততা এবং ধ্রুপদী মূল্যবোধের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি তাঁকে অল ইন্ডিয়া রেডিও বা আকাশবানীতে 'টপ গ্রেড' মর্যাদা, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার এবং পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর পুরস্কারের পাশাপাশি, শৈল্পিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অপরিসীম শ্রদ্ধা এনে দিয়েছে।

বর্তমান বাঙালি চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত তারকা, শ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যাঁকে ভালোবেসে 'বুম্বাদা' বলে ডাকা হয়। তাঁর ঝুলিতে ৪০০-রও বেশি চলচ্চিত্র রয়েছে এবং সেলুলয়েডে তাঁর যাত্রা ধারাবাহিক বিবর্তন, শৃঙ্খলা এবং সৃজনশীলতার প্রতিফলন। আজ, তিনি কেবল একজন বিখ্যাত অভিনেতাই নন, বাংলা চলচ্চিত্রের একটি প্রতিষ্ঠান। উৎসর্গ, পুনর্নির্মাণ এবং সিনেমাটিক শ্রেষ্ঠত্বের এক স্থায়ী প্রতীক। তিনি 'জুবিলি', 'শেষ পাতা', 'দেবী চৌধুরানী', 'গুমনামী', 'জ্যেষ্ঠপুত্র', 'চোখের বালি', 'স্বপ্নের দিন', 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ', 'অটোগ্রাফ', 'জলসাঘর', 'দোসর', 'মনের মানুষ', 'বাইশে শ্রাবণ', 'জাতিস্মর', 'শঙ্খচিল' এবং 'ময়ূরাক্ষী' চলচ্চিত্রে স্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

অধ্যাপক (ডাঃ) সরোজ মণ্ডল এমন-ই এক দূরদর্শী চিকিৎসাবিজ্ঞানী, যিনি ২০২২ সালে কলকাতায় 'কৃষ্ণায়া ইনস্টিটিউট কার্ডিয়াক অ্যান্ড ফিটাল সায়েন্সেস' (KICFS) প্রতিষ্ঠা করেন, যেই প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার মানুষের জন্য সুলভ ও সাশ্রয়ী মূল্যে হৃদরোগের চিকিৎসা প্রদান করে। তিনি তাঁর পারিশ্রমিক হাসপাতালের কল্যাণ ট্রস্টে দান করেন, যাতে প্রতিটি পয়সা সুবিধাবঞ্চিতদের সেবায় লাগে। তাঁর পরোপকার নেপালগঞ্জ থেকে পৈলান ও কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে তিনি একটি সম্প্রদায়-ভিত্তিক কার্ডিওভাসকুলার ইউনিট স্থাপন করেছেন; শত শত বিনামূল্যের চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে তাঁর এক দশকের দীর্ঘ সেবার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগটি জনস্বাস্থ্য উদ্ভাবনের একটি মডেল। তিনি পশ্চিমবঙ্গে 'টেলি কার্ডিওলজি স্টেমি' (STEMI) কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন, যা গ্রামীণ এলাকার হাজার হাজার মানুষের হৃদয়ে সময়মতো হৃদয়ের চিকিৎসা পৌঁছে দেয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য হাইপারটেনশন এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রোটোকল এবং জরুরি কার্ডিওলজি ম্যানেজমেন্ট নির্দেশিকা তৈরিতে অবদান রেখেছিলেন। তিনি ৩৫ বছরে ওপিডিতে ৬,০০,০০০-এরও বেশি রোগীকে পরিষেবা দিয়েছেন এবং স্বাধীনভাবে ৫০,০০০ করোনারি অ্যানজিওগ্রাম, ১৫,০০০ অ্যানজিওপ্লাস্টি, ১৫,০০০ পেসমেকার ডিভাইস ইমপ্লান্টেশন এবং ৫,০০০ ভালভ মাইক্রো-সার্জারি পদ্ধতি সম্পন্ন ও তদারকি করেছেন।

শ্রীমতী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় তাঁর জ্ঞানের সাহায্যে গ্রামীণ মহিলাদের আয়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি মহিলাদের অনেক দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যা তাঁদের নিজস্ব সেলাই-এর কাজ শুরু করতে সাহায্য করেছে। তিনি সিউড়িতে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন যেখানে স্থানীয় প্রান্তিক মহিলাদের কাঁথা সেলাই, শাড়ির নকশা এবং বিভিন্ন ধরণের ওয়াল হ্যাঙ্গিং, বিছানার চাদর, স্টোল ও ওড়না তৈরি করতে শেখানো হয়। তিনি বিভিন্ন সরকারি বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত প্রদর্শনী এবং মেলায় তাঁদের হস্তশিল্প প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, তাঁদের পণ্য বিক্রি ও অর্থ উপার্জনে সহায়তা করেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে, শ্রীমতী মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সফর করেন। এই প্রকল্পটি ভারত সরকার স্পনসর করেছিল। নিজের কাজ প্রদর্শনের পাশাপাশি, তিনি অংশগ্রহণকারীদের জন্য এই শিল্পটি কিভাবে সাঙ্গ করা হয় সেও প্রদর্শন করেছিলেন। বার্মিংহামে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল। এটি তাঁর সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যোগ করে। তিনি ভারতীয় হস্তশিল্পের সরাসরি প্রদর্শনী এবং প্রচারের জন্য ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে জাপানের টোকিও সফর করেন। এই প্রকল্পটি ২৩ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই, ২০২৫ পর্যন্ত ১৪তম ইন্ডিয়া ট্রেন্ড ফেয়ারে ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের হস্তশিল্প রপ্তানি উন্নয়ন কাউন্সিল দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে তিনি জাপানের টোকিওতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে শংসাপত্র লাভ করেন। গত বছর, তিনি নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপমে 'ক্রাফট ডেমোনস্ট্রেশন কাম অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম ভারত টেক্স ২০২৫' অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে মতবিনিময়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি (রিসোর্স পার্সন) হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রী হরি মাধব মুখোপাধ্যায়ের জীবন এক সত্য প্রমাণ করে যে, চরম প্রতিকূলতা এবং পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কঠোর অধ্যবসায় এবং অবিচল নিষ্ঠা কি অর্জন করতে পারে। শৈশব থেকেই পরিবেশন কলার জাদুতে আকৃষ্ট হলেও, ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত কলকাতায় তাঁর ছাত্রাবস্থায় ও কর্মজীবনে থিয়েটারের সাথে তাঁর যোগসূত্র বিকশিত হয়। তিনি বাংলা থিয়েটারের দিকপাল শ্রী শম্ভু মিত্র, শ্রী বিজন ভট্টাচার্য, শ্রী উৎপল দত্ত, শ্রী অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। শ্রী মুখোপাধ্যায় 'ত্রিতীর্থ'-এর হয়ে ষাটেরও বেশি নাটক প্রযোজনা, নির্দেশনা ও অভিনয় করেছেন। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল 'নাট্যকারের সন্ধানে ছয়টি চরিত্র', 'তিন বিজ্ঞানী', 'মঞ্জরী আমের মঞ্জরী', 'ভাঙ্গা পথ', 'দেবী গর্জন', 'গ্যালিলিও', 'জল', 'দেবাংশী', 'বিছান' (হিন্দি), 'মন্ত্রশক্তি', ' পত্রশুদ্ধি', 'মাতৃতান্ত্রিক', 'পিমামা', 'রক্তকরবী' এবং আরও অনেক। বিভিন্ন ধারার এই প্রযোজনাগুলি, পশ্চিমবঙ্গ ও এই রাজ্যের বাইরে নতুন দিল্লি, লক্ষ্ণৌ, বারাণসী, পাটনার মতো শহরে একাধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছে, সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে এবং থিয়েটার পরিচালক/অভিনেতা হিসাবে শ্রী মুখোপাধ্যায়ের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কালিম্পং-এর অধ্যাপক গম্ভীর সিংহ ইয়োনজোন সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনায় শিক্ষাগত সংযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এক অসাধারণ কর্মজীবনে- প্রথম দানিংয়ের (দার্জিলিংয়ের) পার্বত এলাকার বিদগ্ধ পণ্ডিত (হিল স্কলার) হিসাবে দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজের বোটানির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিভাগের প্রধান, কালিম্পং কলেজের অধ্যক্ষ, পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (পার্বত্য অঞ্চল)-এর চেয়ারম্যান, ফুলব্রাইট সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এবং দ্য ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি (ইউএসএ)-র ভিজিটিং প্রফেসর ও যুক্তরাজ্যে ভিজিটর সায়েন্টিস্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিকিম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবেও কাজ করেছেন এবং বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংস্থায় সদস্যপদ ও ফেলোশিপ গ্রহণ করেছেন। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবেশ সচেতনতার প্রবল প্রবক্তা, তিনি ছয় বছরের একটি সংরক্ষণ আন্দোলনের (১৯৭৮-১৯৮৪) নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যার ফলে, পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগম কর্তৃক অনাবাদি পার্বত্য বনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হয়। তিনি সিঙ্গালিলা ও নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মালদার প্রাক্তন রেলওয়ে গার্ড শ্রী অশোক কুমার হালদার একজন স্বীকৃত দলিত লেখক, যাঁর ঝুলিতে ১৩টি বই রয়েছে—আটটি ইংরেজিতে এবং পাঁচটি বাংলায়। ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর "The Radical Change of Human Society and Its Scientific Observation" (মানব সমাজের আমূল পরিবর্তন এবং এর বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ) বইটি বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি এই বইটির একটি কপি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও পাঠিয়েছিলেন, যার পর তাঁকে রাষ্ট্রপতি ভবনে (রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন) আমন্ত্রণ জানানো হয়। একজন সাধারণ রেলকর্মী থেকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত লেখক হয়ে ওঠার এই যাত্রা আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক এবং বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের প্রাক্তন ডিন অধ্যাপক মহেন্দ্র নাথ রায় 'হোস্ট-গেস্ট ইনক্লুশন কমপ্লেক্স', 'ন্যানো পার্টিকেলস', 'সল্যুশন থার্মোডিনামিকস', 'সারফ্যাক্ট্যান্ট এবং পলিমার কেমিস্ট্রি' ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালিয়েছেন। অধ্যাপক রায় ৮৭টি পিএইচডি তদারকি করেছেন, ৫৫টি পিএইচডি থিসিস এবং অনেক পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছেন এবং রসায়নে ৪৪১টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ এবং বই লিখেছেন। তাঁকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি (FRSC)-র ফেলো হিসাবে ভূষিত করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) থেকে মৌলিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার অধীনে "ওয়ান টাইম গ্রান্ট পুরস্কার", ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি থেকে "অধ্যাপক সুরেশ সি. আমেতা পুরস্কার", কেমিক্যাল রিসার্চ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া থেকে "CRSI ব্রোঞ্জ মেডেল ২০১৭" এবং "শিক্ষা রত্ন পুরস্কার ২০১৮" ইত্যাদি লাভ করেন।

শ্রী জ্যোতিষ দেবনাথ জামদানি শিল্পের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, বহু তাঁত শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি ভারতের তাঁতবস্ত্রের জীবন্ত ঐতিহ্যের প্রতিনিধি। তাঁর মসলিন ও জামদানি শিল্পকর্ম বাংলার শতাব্দী প্রাচীন বস্ত্রশিল্পের ঐতিহ্যকে রক্ষা করার পাশপাশি, পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেে।

প্রশংসিত সাঁওতালি লেখক শ্রী রবিলাল টুডু, তিন দশকের নাটক, গল্প, থিয়েটার এবং প্রবন্ধের মাধ্যমে সাঁওতালি ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। গত কয়েক দশক ধরে, শ্রী টুডুর লেখা সাঁওতালদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক অনন্য প্রকাশে পরিণত হয়েছে, যা সম্প্রদায়, ঐতিহ্য, পরিচয় এবং স্থিতিস্থাপকতার অনন্য নিদর্শন। তাঁর শক্তিশালী গল্প কথন নাট্যবোধ এবং এমন সব আখ্যান ও সাংস্কৃতিক মোটিফ বা রূপরেখা রক্ষা করেছেন যা খুব কমই নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি এগুলিকে সাহিত্য ও থিয়েটারের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ব্যাঙ্কিং পেশায় থেকে উপজাতি ভাষার জন্য সীমিত সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, তিনি নাটক লেখা এবং প্রযোজনা চালিয়ে যান, যা সাঁওতালি সাহিত্যের বিকাশ এবং স্বীকৃতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

সবশেষে, পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য। পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিষ্য, শ্রী ভট্টাচার্য সন্তুর বাদ্যযন্ত্রে বিপ্লব আনার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তিনি সন্তুরের জন্য "মনকা" (ফাইন টিউনার) আবিষ্কার করেছিলেন, যেটি নাটকীয়ভাবে এই যন্ত্রের টিউনিংয়ের নির্ভুলতা বাড়িয়ে তোলে। যন্ত্রটিতে মিঁড় (গ্লাইডিং নোট) কৌশল প্রবর্তনের কৃতিত্বও তাঁকে দেওয়া হয়। পদ্মশ্রীর পাশাপাশি, তাঁর গৌরবময় কর্মজীবন জাতীয় তানসেন সম্মান (২০২৫) এবং সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারে (২০১৮) স্বীকৃত হয়েছেন।

************
SSS/PK
(रिलीज़ आईडी: 2262713)
आगंतुक पटल : 11
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English