PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ), ২০২৫

ভিবি-জি রাম জি আইন, ২০২৫

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 11 MAY 2026 11:42AM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ১১ মে, ২০২৬

 

বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫ গ্রামীণ কর্মসংস্থানের কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই আইন সুস্থায়ী উন্নয়ন এবং বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর ভাবনার সঙ্গে মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থানকে যুক্ত করেছে। এই আইনে প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারের জন্য প্রতি অর্থবর্ষে আইনি কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। এই কাঠামোয় জল নিরাপত্তা, গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকা সম্পদ এবং বিপর্যয় মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলাফলভিত্তিক কাজ এবং ডিজিটালভাবে সংযুক্ত পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ, জিও-রেফারেন্সিং, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুরি প্রদানের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে, স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা আরও শক্তিশালী হবে। বাধ্যতামূলক সামাজিক নিরীক্ষা, নির্দিষ্ট তদারকি ব্যবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি কাঠামো বাস্তবায়নকে আরও সুদৃঢ় করবে। এই আইন গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে সুস্থায়ী গ্রামোন্নয়ন এবং স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টির একটি কার্যকর চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

দেশের সমস্ত গ্রামীণ অঞ্চলে ভিবি–জি রাম জি আইনের ঐতিহাসিক কার্যকরী সূচনা

ভারত সরকার এ বছর ১ জুলাই থেকে দেশের সমস্ত গ্রামীণ অঞ্চলে বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ): ভিবি-জি রাম জি আইন, ২০২৫ কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ভিবি–জি রাম জি আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (মনরেগা), ২০০৫ একই তারিখ থেকে বাতিল হবে। এই পরিবর্তন ভারতের গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামোয় একটি ঐতিহাসিক রূপান্তর নির্দেশ করছে। এর মাধ্যমে সমন্বিত, ভবিষ্যৎমুখী এবং উৎপাদনমুখী গ্রামীণ রূপান্তরের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। এই উদ্যোগ বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর জাতীয় ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে মহাত্মা গান্ধী মনরেগার পূর্ববর্তী কাঠামো থেকে একটি আধুনিক গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামোয় পরিবর্তন ঘটছে। এই নতুন কাঠামোয় জীবিকা নিরাপত্তা, স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং জলবায়ু সহনশীলতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা অদক্ষ শারীরিক শ্রমে অংশ নিতে চাইলে প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি গ্যারান্টি পাবেন। এই বর্ধিত গ্যারান্টির ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয়, জীবিকা নিরাপত্তা, গ্রাম স্তরের পরিকাঠামো নির্মাণ এবং সুস্থায়ী গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে এই আইন স্থায়ী এবং উৎপাদনশীল গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মাধ্যমে জল নিরাপত্তা, গ্রামীণ পরিকাঠামো, গ্রামীণ জীবিকা, স্থানীয় অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

পটভূমি এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রকল্পগুলি ভারতের গ্রামীণ উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে কাজ করেছে। এই প্রকল্পগুলি অপ্রতুল কর্মসংস্থান এবং জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে থাকা গ্রামীণ পরিবারগুলিকে আয় সহায়তা দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভৌত এবং ডিজিটাল সংযোগ উন্নত হয়েছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শক্তিশালী হয়েছে। জীবিকার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে, বর্তমান গ্রামীণ কর্মসংস্থান কাঠামোয় নতুনভাবে সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রয়োজন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর জাতীয় ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই এর লক্ষ্য।

এই উদ্দেশ্য পূরণে জীবিকা গ্যারান্টির কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। প্রতি অর্থবর্ষে আইনি কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হচ্ছে। এই বর্ধিত গ্যারান্টি গ্রামীণ উন্নয়নের দ্রুত অগ্রগতিকে সমর্থন করবে। আয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এর ফলে, গ্রামীণ পরিবারগুলি আরও ক্ষমতায়িত হবে।

এই লক্ষ্য পূরণে বিকশিত ভারত - গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ): ভিবি-জি রাম জি আইন, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন একটি ভবিষ্যৎমুখী গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলবে। জীবিকা নিরাপত্তার সঙ্গে উৎপাদনশীলতা, সমন্বিত পরিকল্পনা, সহনশীলতা এবং সুস্থায়ী সম্পদ সৃষ্টিকে যুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ভিবি-জি রাম জি আইন, ২০২৫ একটি বিস্তৃত আইনগত পুনর্গঠন। এর লক্ষ্য- গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর জাতীয় ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সংসদে এই আইন পাশ হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দশক পুরনো মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (মনরেগা), ২০০৫-এর পরিবর্তন ঘটেছে। এই নতুন কাঠামোয় পৃথক কল্যাণমূলক উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত উন্নয়ন এবং স্থিতিশীল পরিকাঠামো নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্ধিত জীবিকা গ্যারান্টি এবং শ্রমিককেন্দ্রিক কাঠামো

এই আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল কর্মসংস্থানের আইনি গ্যারান্টি বৃদ্ধি। প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারের জন্য প্রতি অর্থবর্ষে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এই বর্ধিত গ্যারান্টির লক্ষ্য জীবিকা নিরাপত্তা শক্তিশালী করা। আয় স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা। গ্রামীণ ভোগব্যবস্থা এবং আর্থিক সহনশীলতা আরও মজবুত করা। এই কাঠামো “রোজগার ভি, সম্মান ভি” নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের সঙ্গে মর্যাদারও নিশ্চয়তা।

শুধুমাত্র মজুরি ভিত্তিক কাজ দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য নয়। গ্রামীণ শ্রমিকদের স্থায়ী এবং উৎপাদনশীল জনসম্পদ নির্মাণের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। এই সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে গ্রামোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

মহাত্মা গান্ধী নারেগা থেকে নতুন কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও সহজ এবং শ্রমিকবান্ধব করা হয়েছে। বর্তমানে কার্যকর ই-কেওয়াইসি যাচাইকৃত জব কার্ডগুলি গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড প্রদান না হওয়া পর্যন্ত বৈধ থাকবে। যেসব শ্রমিকের জব কার্ড নেই, তাঁরা গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে আবেদন করতে পারবেন। নতুন কার্ড প্রদান এবং নথিভুক্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলেও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার জন্য সহায়ক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কর্মস্থলেই সেই সুবিধা দেওয়া হবে।

সময়মতো মজুরি প্রদান এবং শক্তিশালী স্বচ্ছতা ব্যবস্থা

এই আইনে সময়মতো, স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ মজুরি প্রদানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মজুরি সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘর অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের বা সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এর ফলে, স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হবে। বিলম্বও কমবে।

এই কাঠামো অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে মজুরি প্রদান করতে হবে। অন্যথায় মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে মজুরি প্রদান হলে শ্রমিকরা বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণের অধিকারী হবেন।

আইনে বলা হয়েছে, মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি প্রদান না হলে ১৬তম দিনের পর থেকে প্রতিদিনের জন্য বকেয়া মজুরির উপর ০.০৫ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই বিধান মজুরি প্রদানে দায়বদ্ধতা আরও শক্তিশালী করবে। শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।

কর্মস্থলে উপস্থিতি এনএমএমএস-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। মুখমন্ডল শনাক্তকরণভিত্তিক উপস্থিতি ব্যবস্থাও চালু করা হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত বা সংযোগজনিত সমস্যার কারণে প্রকৃত শ্রমিকরা যাতে সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মসৃণ পরিবর্তন: “রোজগার ভি, সম্মান ভি”

এই আইনের অধীনে গ্রামীণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করে একটি মসৃণ পরিবর্তন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সমস্ত গ্রামীণ অঞ্চলে কার্যকরী সূচনা:
আইন কার্যকর হওয়ার দিন থেকে দেশের সমস্ত গ্রামীণ অঞ্চলে এই আইনের বিধান একযোগে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ০১/০৭/২০২৬ থেকে মনরেগা আইন বাতিল হবে।

ভিবি-জি রাম জি আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত মনরেগার অধীনে কর্মসংস্থান স্বাভাবিক এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।

সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হল সময়মতো কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং দ্রুত মজুরি প্রদান নিশ্চিত করা।

এই লক্ষ্য পূরণে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পর্যাপ্ত শ্রম বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষেত্রভিত্তিক চাহিদা এবং প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বরাদ্দ করা হয়েছে।

শ্রমিকদের ধারাবাহিকতা

যেসব শ্রমিকের ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের বর্তমান জব কার্ড পরিবর্তনের সময়েও বৈধ থাকবে। নতুন গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড প্রদান না হওয়া পর্যন্ত এই কার্ড কার্যকর থাকবে।

চলতি কাজকর্ম

আইন কার্যকর হওয়ার দিনে মনরেগার অধীনে চলমান কাজগুলি নতুন আইনের অধীনে চালিয়ে যাওয়া যাবে।

নতুন কাজ

চলতি কাজ কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট না হলে নতুন কাজ শুরু করা যাবে। এই কাজগুলি নতুন আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী হতে হবে।

ঐতিহাসিক বাজেট প্রতিশ্রুতি

নতুন কাঠামো কার্যকর করতে ভারত সরকার ব্যাপক আর্থিক বরাদ্দ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে ৯৫,৬৯২.৩১ কোটি টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে। বাজেট অনুমান পর্যায়ে এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান কর্মসূচির জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ। এই বরাদ্দ সরকারের অগ্রাধিকার, পরিসর এবং প্রতিশ্রুতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান এবং জীবিকার সুযোগ নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের সম্ভাব্য অংশ যুক্ত করলে মোট কর্মসূচির বরাদ্দ ১.৫১ লাখ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এই বিপুল আর্থিক বরাদ্দ গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৃহৎ পরিবর্তনের প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থায়ী গ্রামস্তরের সম্পদ সৃষ্টি এবং গ্রামীণ পরিবারের আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্ষেত্রস্তরের কর্মী: সক্ষমতা, দায়বদ্ধতা এবং দক্ষতা

প্রকল্প আধিকারিক, মেট, গ্রাম রোজগার সেবক এবং ক্ষেত্রস্তরের অন্যান্য কর্মীদের ভূমিকা ভিবি-জি রাম জি আইনে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আইনের অধীনে প্রশাসনিক ব্যয়ের পরিমাণ ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, মানবসম্পদ শক্তিশালীকরণ, পারিশ্রমিক প্রদান এবং ক্ষেত্রস্তরে বাস্তবায়ন আরও উন্নত হবে। এই সুসংগঠিত সংস্কার তৃণমূল স্তরে কর্মরত কর্মীদের আরও দক্ষ এবং ক্ষমতাসম্পন্ন করে তুলবে।

কাজের বিস্তৃত পরিধি: উন্নয়নে নতুন গতি

বিকশিত ভারত–জি রাম জি আইন, ২০২৫-এর অধীনে কাজের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই কাঠামো বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর লক্ষ্য অনুযায়ী তৈরি হয়েছে। কাজকে চারটি প্রধান বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলি হল- জল নিরাপত্তা, মূল গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকাভিত্তিক পরিকাঠামো এবং চরম আবহাওয়া মোকাবিলার কাজ।

এর ফলে, বাস্তবায়নে আরও ফলাফলভিত্তিক এবং সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে। আইনের অধীনে অনুমোদিত কাজ শুধুমাত্র শ্রমনির্ভর কার্যকলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে এমন বহুস্তরীয় কাজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি গ্রামীণ জীবনের মান উন্নত করবে। একই সঙ্গে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করবে। এই সম্পদ ভবিষ্যতে আরও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি “রোজগার ভি, সম্মান ভি” নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এখানে শ্রমিকরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার। বিষয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, কর্মসংস্থানের প্রতিটি দিন স্থায়ী এবং উৎপাদনশীল গ্রামীণ পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করবে।

জল নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ

জল নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের মধ্যে থাকবে সেচ সহায়তা, ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ কাঠামো, জলাধার উন্নয়ন, জলাশয়ের পুনরুজ্জীবন, বনসৃজন এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ অঞ্চলের জল সহনশীলতাকে শক্তিশালী করবে।

মূল গ্রামীণ পরিকাঠামো

মূল গ্রামীণ পরিকাঠামোর মধ্যে থাকবে গ্রামীণ রাস্তা, জনপরিষেবা ভবন, বিদ্যালয় পরিকাঠামো, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি পরিকাঠামো, আবাসন সংক্রান্ত কাজ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ। এর ফলে, মৌলিক পরিষেবা এবং জনপরিষেবার নাগাল আরও উন্নত হবে।

জীবিকাভিত্তিক পরিকাঠামো

জীবিকাভিত্তিক পরিকাঠামোর মধ্যে থাকবে গ্রামীণ বাজার, সংরক্ষণ পরিকাঠামো, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, হিমঘর, পশুপালন পরিকাঠামো, মৎস্য পরিকাঠামো, কম্পোস্ট ইউনিট এবং দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র।
এই উদ্যোগ স্থানীয় জীবিকা শক্তিশালী করবে। গ্রামীণ আয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় হবে। কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপও বৃদ্ধি পাবে।

জলবায়ু সহনশীলতা এবং চরম আবহাওয়া মোকাবিলা

এই কাঠামোয় চরম আবহাওয়া মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীলতা সংক্রান্ত কাজকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে থাকবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, বাঁধ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং দাবানল মোকাবিলার কাজ।

এই বিষয়ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে সরাসরি উৎপাদনশীল সম্পদ সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সহনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

এই কাজগুলি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। মূল্য সংযোজন ঘটাবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটাবে।

পরিষেবার প্রাপ্যতাও উন্নত হবে। এর ফলে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে এবং আয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় হবে।

কৃষি মরশুমে ভারসাম্য: কৃষক এবং শ্রমিক উভয়ের স্বার্থরক্ষা

বপন এবং ফসল কাটার ব্যস্ত মরশুমে কৃষিশ্রমিকের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এই আইনে রাজ্যগুলিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার একটি অর্থবর্ষে মোট ৬০ দিনের জন্য সমষ্টিগত বিরতি সময় ঘোষণা করতে পারবে। এই বিধান ধারা ৬-এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে, সম্পূর্ণ ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান গ্যারান্টি অক্ষুণ্ণ থাকবে। বাকি সময়ে সেই কর্মসংস্থান প্রদান করা হবে।
এই কাঠামো কৃষি উৎপাদনশীলতা এবং শ্রমিক নিরাপত্তার মধ্যে সুষম ভারসাম্য বজায় রাখবে।

বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনা

বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ ভারত একটি নতুন পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে।উন্নয়নের দিশা এখন আর শুধুমাত্র মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থানে সীমাবদ্ধ নয়।
এটি এখন “কর্মসংস্থান, জীবিকা এবং উৎপাদনশীল সম্পদ সৃষ্টি”-র সমন্বিত কাঠামোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিকশিত ভারত–জি রাম জি প্রকল্প এই বিকেন্দ্রীকৃত এবং সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এই কাঠামোয় গ্রাম পঞ্চায়েতকে উন্নয়নের কেন্দ্রস্থলে রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে তাদের প্রকৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেরাই উন্নয়নের দিশা নির্ধারণ করবে। এই কাঠামোয় পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকে নীচু স্তর থেকে উপরের স্তরে গড়ে তোলা হয়েছে।

গ্রামসভায় স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত কাজ চিহ্নিত এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। পরে তা ব্লক, জেলা এবং রাজ্য স্তরে সমন্বিত হবে। এই ব্যবস্থা পিএম গতি শক্তি, জিআইএস এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে, বৈজ্ঞানিক এবং ভৌগোলিক পরিকল্পনা নিশ্চিত হবে।

কর্মস্থল পরিষেবা: শ্রমিকের মর্যাদা এবং নিরাপত্তার উপর জোর

বিকশিত ভারত–জি রাম জি আইন, ২০২৫-এর তফসিল-২ অনুযায়ী কর্মস্থল পরিষেবাকে আইনি গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি শ্রমের মর্যাদা এবং মানবিক সম্মানের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠছে। এই বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মস্থলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গ্রামীণ ভারতের গ্রীষ্মকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত ছাউনি এবং বিশ্রামস্থলের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যেক কর্মস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মহিলা শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব কর্মস্থলে পাঁচ বছরের কম বয়সী, পাঁচ বা পাঁচ ঊর্ধ শিশু থাকবে, সেখানে শিশুদের দেখাশোনার জন্য একজন মহিলা শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। তাঁকে নির্ধারিত মজুরি প্রদান করা হবে। এই ব্যবস্থা মহিলাদের কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। কর্মস্থলকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সংবেদনশীল করে তুলবে।

শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে চিকিৎসার অধিকারও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন হলে থাকা, চিকিৎসা, ওষুধ এবং দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এই ভাতা নির্ধারিত মজুরির অর্ধেকের সমান হবে। মৃত্যু বা স্থায়ী ভিত্তিতে অক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনার বিধান অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

এইভাবে আইনটি কর্মস্থলে নিরাপত্তা, সংবেদনশীলতা এবং সামাজিক সুরক্ষার একটি বিস্তৃত কাঠামো নিশ্চিত করেছে। কর্মস্থলে স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতাও আরও শক্তিশালী করা হবে। অনুমোদিত কাজ, শ্রমের হিসাব, ব্যয় এবং উপকরণ ব্যবহারের তথ্যসহ জনতা বোর্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কাঠামোয় সাপ্তাহিক জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ, সম্পদের জিও-ট্যাগিং, রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড, মোবাইলভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং শক্তিশালী সামাজিক নিরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে, স্বচ্ছতা, জনঅংশগ্রহণ এবং তৃণমূল স্তরে কার্যকর জনপর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে।

বাস্তবায়নে বিশেষ ছাড়ের বিধান

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনও অসাধারণ পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।

এর ফলে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে করা সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সময়মতো সহায়তাও পাবেন।

ভিবি-জি রাম জি আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামোর সামঞ্জস্য

বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ): ভিবি–জি রাম জি আইন, ২০২৫ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামো বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর জাতীয় ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

এই কাঠামোয় মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থান, সম্পদ সৃষ্টি এবং সরকারি বিনিয়োগকে একযোগে যুক্ত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য- আরও সমৃদ্ধ, সহনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ ভারত গড়ে তোলা।

গ্রামীণ কাজকর্মকে উন্নত পরিকাঠামো, শক্তিশালী জীবিকা এবং জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলার প্রধান মাধ্যম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে “বিকশিত পঞ্চায়েত”-এর ভিতর দিয়ে “বিকশিত ভারত”-এর লক্ষ্য পূরণের পথ তৈরি হবে।

সমন্বিত এবং সর্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি

এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আইনানুগভাবে সমন্বিত এবং সর্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পকে একটি সুসংগঠিত গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিভিন্ন তহবিল, দপ্তর এবং প্রকল্প পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে সমস্ত যোগ্য পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা। গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতিগুলিও পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। বিক্ষিপ্ত বা এককালীন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী এবং সমন্বিত উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক এবং সম্পদকেন্দ্রিক জনপরিষেবা কাজ

এই কাঠামোর ভিত্তিতে জনপরিষেবা কাজের বিষয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে, গ্যারান্টিযুক্ত কর্মসংস্থানের প্রতিটি দিন উৎপাদনশীল এবং স্থায়ী গ্রামীণ সম্পদ তৈরিতে সহায়তা করবে।

বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারিত সমস্ত কাজ বিকশিত ভারত–ন্যাশনাল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্ট্যাক (ভিবি-এনআরআইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে, বিকশিত ভারত ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত এবং ভবিষ্যৎমুখী গ্রামীণ পরিকাঠামো কাঠামো গড়ে উঠবে।

চারটি অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্র

জল নিরাপত্তা

জল সংরক্ষণ কাঠামো, সেচ সহায়তা, ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ, জলাশয়ের পুনরুজ্জীবন, জলাধার উন্নয়ন এবং বনসৃজন সংক্রান্ত কাজ গ্রামীণ অঞ্চলের জল নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে।

মূল গ্রামীণ পরিকাঠামো

গ্রামীণ রাস্তা, জনপরিষেবা ভবন, বিদ্যালয় পরিকাঠামো, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি পরিকাঠামো এবং কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের আবাসন সংক্রান্ত কাজের মাধ্যমে মৌলিক পরিষেবা এবং জনপরিষেবার নাগাল আরও উন্নত হবে।

জীবিকাভিত্তিক পরিকাঠামো

কৃষি, পশুপালন, মৎস্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বাজার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চক্রাকার অর্থনীতি-ভিত্তিক উদ্যোগের জন্য উৎপাদনশীল সম্পদ তৈরি করা হবে। এর ফলে, সুস্থায়ী জীবিকা, মূল্য সংযোজন এবং গ্রামীণ আয়ের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে।

চরম আবহাওয়া মোকাবিলার বিশেষ কাজ

দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জলবায়ু অভিযোজন সংক্রান্ত কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, পুনর্বাসন কাজ এবং বন অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা ব্যবস্থা। এই উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীল গ্রাম গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো

এই আইনে আধুনিক, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এর লক্ষ্য কার্যকর বাস্তবায়ন, দায়বদ্ধতা এবং উচ্চমানের পরিষেবা নিশ্চিত করা। ডিজিটাল সংযোগ, জনপরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত নাগাল বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোকেও আরও শক্তিশালী করা হবে। ডিজিটাল জন-পরিকাঠামো, রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিক করা হবে। এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিষেবা প্রদানকে আরও নির্ভরযোগ্য করবে। পুনরাবৃত্তি কমবে। সম্পদের গুণমান উন্নত হবে। ক্ষমতায়ন, বৃদ্ধি, সমন্বয় এবং সর্বব্যাপী উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করবে, যাতে গ্রামীণ ভারত বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর জাতীয় লক্ষ্যপূরণের উপযুক্ত ব্যবস্থার সঙ্গে এগোতে পারে।

প্রধান আইনগত বিধান

ক) বর্ধিত জীবিকা গ্যারান্টি

এই আইনের প্রধান লক্ষ্য হল বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর ভাবনার সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

এই উদ্দেশ্যে জীবিকা গ্যারান্টি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

যেসব গ্রামীণ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা অদক্ষ শারীরিক শ্রমে স্বেচ্ছায় অংশ নিতে চান, তাঁদের জন্য প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।

খ) ভিবি-এনআরআইএস-এর সঙ্গে সমন্বয়

সমস্ত কাজ বিকশিত ভারত ন্যাশনাল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্ট্যাক বা ভিবি-এনআরআইএস-এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এখানে জল নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জল সংক্রান্ত কাজ, মূল গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকাভিত্তিক পরিকাঠামো এবং চরম আবহাওয়া মোকাবিলার বিশেষ কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গ) ভিজিপিপি-ভিত্তিক পরিকল্পনা

বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত এই পরিকল্পনা তৈরি করবে। পিএম গতি শক্তিসহ জাতীয় ভৌগোলিক পরিকল্পনা ব্যবস্থার সঙ্গে এই পরিকল্পনাকে যুক্ত করা হবে। স্থানীয় উন্নয়নের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনও এতে বিবেচনা করা হবে।

ঘ) কৃষির ব্যস্ত মরশুমে সুরক্ষা

রাজ্য সরকারকে আগাম ৬০ দিনের একটি সময়সীমা ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই সময়সীমা বপন এবং ফসল কাটার ব্যস্ত মরশুমকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সময়ে আইনের অধীনে কাজ করা হবে না। এর ফলে, গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মরশুমে পর্যাপ্ত কৃষিশ্রমিক পাওয়া নিশ্চিত হবে।

ঙ) কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প

এই প্রকল্প কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসাবে বাস্তবায়িত হবে। কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়ের যৌথ দায়িত্বে এই প্রকল্প পরিচালিত হবে।

চ) মানদণ্ডভিত্তিক বরাদ্দ

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আর্থিক সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার প্রতিটি রাজ্যকে মানদণ্ডভিত্তিক বরাদ্দ দেবে। নিয়মে নির্ধারিত বস্তুনিষ্ঠ সূচকের ভিত্তিতে এই বরাদ্দ নির্ধারিত হবে। এই বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হবে। রাজ্য সরকার জেলা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছ এবং প্রয়োজনভিত্তিক অর্থ বণ্টন নিশ্চিত করবে। পঞ্চায়েতের শ্রেণী এবং স্থানীয় উন্নয়নের প্রয়োজনও এতে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে, সমতা, স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা আরও মজবুত হবে।

ছ) বিশেষ ছাড়ের বিধান

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনও অসাধারণ পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার অস্থায়ী বিশেষ ছাড় দিতে পারবে। এর ফলে, দ্রুত ত্রাণ এবং সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে।

জ) স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা

বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ, ভৌগোলিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা, মোবাইল এবং ড্যাশবোর্ডভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, সাপ্তাহিক জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ এবং শক্তিশালী সামাজিক নিরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।

ঝ) প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি

আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কাউন্সিল এবং রাজ্য গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কাউন্সিল গঠন করা হবে।কেন্দ্র এবং রাজ্য স্তরে পরিচালন সমিতিও গঠন করা হবে। সমিতি মানদণ্ডভিত্তিক বরাদ্দ, সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে সুপারিশ করবে।

ঞ) মজুরি হার নির্ধারণ

অদক্ষদের শারীরিক শ্রমের জন্য মজুরি হার কেন্দ্র সরকার নির্ধারণ করবে।

ট) ছয় মাসের মধ্যে রাজ্য প্রকল্প ঘোষণা

আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে নিজেদের প্রকল্প ঘোষণা করতে হবে। এই প্রকল্প আইনের বিধান অনুযায়ী তৈরি করতে হবে।

ঠ) বেকার ভাতা

যোগ্য আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী তাঁদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে।

ড) শ্রমিকদের ন্যূনতম আইনগত সুরক্ষা

এই আইনে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ন্যূনতম বৈশিষ্ট্য এবং শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Rural Development

Click here to see pdf

*****

PS/Agt


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2260110) ভিজিটরদের কাউন্টার : 2
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English