শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারত-ইএফটিএ টিইপিএ-র বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করতে বাণিজ্য সচিব শ্রী রাজেশ আগরওয়ালের সুইজারল্যান্ড সফর

প্রকাশিত: 08 MAY 2026 9:49PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৮ মে ২০২৬

 

 

বাণিজ্য সচিব শ্রী রাজেশ আগরওয়াল ভারত-ইএফটিএ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (টিইপিএ)-এর বাস্তবায়নকে এগিয়ে নিতে এবং ভারত ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে জোরদার করতে ২০২৬ সালের ৬ থেকে ৭ মে সুইজারল্যান্ডে এক সরকারি সফর করেন।

 

এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল টিইপিএ-র মাধ্যমে অর্জিত বাজার-প্রবেশের সুযোগগুলোকে সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং শিল্পের বৃহত্তর ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দেওয়া। এই সফরটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে; সেই সময় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল নতুন দিল্লিতে সুইস কনফেডারেশনের রাষ্ট্রপতি মাননীয় জনাব গাই পারমেলিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং চুক্তিটিকে কেবল একটি নীতিগত কাঠামো থেকে বাণিজ্যিক সফলতায় রূপান্তরের রূপরেখা পর্যালোচনা করেন।

 

সফরকালে বাণিজ্য সচিব সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিবালয়ের স্টেট সেক্রেটারি বা সচিব, মিস হেলেন বুডলিগার আর্টিয়েদার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। টিইপিএ কার্যকর হওয়ার পর থেকে অর্জিত অগ্রগতি উভয় পক্ষ পর্যালোচনা করে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা জোরদার করা, শুল্ক-বহির্ভূত বাধাগুলো দূর করা এবং গভীরতর ব্যবসায়িক সংযোগ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করে। বাণিজ্য সচিব এই চুক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে উভয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সুবিধার্থে, বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই সমাধানের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

 

বাণিজ্য সচিব ২০২৬ সালের ৬ মে অনুষ্ঠিত ৫৫তম 'সেন্ট গ্যালেন সিম্পোজিয়াম'-এও অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে, তিনি স্টেট সেক্রেটারি মিস হেলেন বুডলিগার আর্টিয়েদার সঙ্গে “নেটওয়ার্কিং ডিনার @ স্কয়ার: ২০০ ডেস অফ টিইপিএ – লেশনস ফর্ম দ্য সুইস-ইন্ডিয়া ট্রেড এগ্রিমেন্ট” শীর্ষক অধিবেশনে যোগ দেন।

 

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই সিম্পোজিয়ামে মূল বক্তব্য প্রদান করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত ৩৮টি উন্নত দেশের সঙ্গে নয়টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ভারতীয় নির্মাতা, পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, কৃষক, মৎস্যজীবী, শ্রমিক, নারী, তরুণ সমাজ, স্টার্টআপ, এমএসএমই এবং পেশাজীবীদের জন্য সম্প্রসারিত সুযোগের সৃষ্টি করেছে।

 

শ্রী গোয়েল জোর দিয়ে বলেন, ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর লক্ষ্য হলো পণ্যের গুণমান ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের একীকরণ, পরিষেবার অবাধ চলাচল, বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ করা। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, এই চুক্তিগুলোর উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চ-মানের বৈশ্বিক বাজারগুলোতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করতে এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগকে সুস্থায়ী রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করা। টিইপিএ কার্যকর হওয়ার ২০০ দিনের মধ্যে অর্জিত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নতুন নতুন ভারতীয় পণ্য সুইস বাজারে প্রবেশ করেছে; সেবা বাণিজ্যে গতি সঞ্চার হয়েছে এবং বিনিয়োগের আগ্রহ জোরদার হয়েছে। তিনি আরও অভিমত প্রকাশ করেন যে, ভারতের বিশাল উপভোক্তা বাজার, চলমান সংস্কার কার্যক্রম, ডিজিটাল জন-পরিকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি এবং সম্প্রসারিত শিল্প সক্ষমতা—সব মিলিয়ে সুইজারল্যান্ড এবং বৃহত্তর ইএফটিএ অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করতে সক্ষম।

 

ভারতের বাণিজ্য সম্পৃক্ততা কৌশলের ক্ষেত্রে টিইপিএ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এটি ইএফটিএ-ভুক্ত অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে ভারতের প্রথম বাণিজ্য চুক্তি এবং কোনো ইউরোপীয় অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে দেশটির প্রথম কার্যকর বাণিজ্য ব্যবস্থা। আশা করা হচ্ছে যে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় মূল্য শৃঙ্খলে 'মেক ইন ইন্ডিয়া' পণ্যগুলোর গভীরতর সংহতি বা একীভূতকরণে সহায়তা করবে; এক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বা 'গেটওয়ে' বাজার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, এই চুক্তিটি কৃষক ও মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি বননির্ভর জনগোষ্ঠী, শ্রমিক, নারী ও তরুণ সমাজ—এবং সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে।

 

টিইপিএ-র আওতায়, ইএফটিএ তার শুল্ক তালিকার ৯২.২ শতাংশ ক্ষেত্রে ভারতের জন্য উন্নততর বাজার প্রবেশের সুযোগ প্রদান করেছে। এই সুযোগ ভারতের মোট রপ্তানির ৯৯.৬ শতাংশকে আওতাভুক্ত করে এবং এর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যগুলোর ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড়ের সুবিধাও প্রদান করে। আশা করা হচ্ছে যে, এই চুক্তিটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের জন্য - যেমন আঙুর চাষে মহারাষ্ট্র, কফি উৎপাদনে কর্ণাটক, মশলা বাণিজ্যে কেরালা, সামুদ্রিক খাদ্য বা 'সি-ফুড' রপ্তানিতে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উদ্যানপালন বা হর্টিকালচার খাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য - বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ভারতও দুগ্ধশিল্প এবং অন্যান্য সংবেদনশীল পণ্যসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর খাতকে এই চুক্তির আওতা থেকে সুরক্ষিত রেখেছে।

 

ভারত ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সুইজারল্যান্ডে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডে ভারতের সেবা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬.৮৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার ফলে সেবা বাণিজ্যে ৪.২৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে।

 

রাষ্ট্রসচিব মিস হেলেন বুডলিগার আর্টিয়েদার সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বাণিজ্য সচিব ভারতের ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন; যা মূলত ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম, প্রসারমান ডিজিটাল জন-পরিকাঠামো এবং দ্রুত বর্ধনশীল উৎপাদন খাতের দ্বারা চালিত হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাণিজ্য চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প খাতকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে একীভূত করা এবং এমএসএমই, স্টার্টআপ ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোগগুলোর জন্য সুযোগ সৃষ্টির ওপর নিবদ্ধ।

 

বাণিজ্য সচিব ৭ মে ২০২৬ তারিখে একটি উচ্চ-পর্যায়ের 'বিজনেস রাউন্ডটেবিল' বা ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকেও বক্তব্য রাখেন। এই বৈঠকে উন্নত উৎপাদন শিল্প, প্রকৌশল, প্রযুক্তি এবং আর্থিক পরিষেবা খাতের শীর্ষস্থানীয় সুইস কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছিলেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল টিইপিএ (বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি)-এর আওতায় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন সুযোগ-সম্ভাবনা।

 

এই সফরের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ওষুধ শিল্প, জৈবপ্রযুক্তি, প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা সূক্ষ্ম প্রকৌশল, যন্ত্রপাতি, মেশিন টুলস, প্লাস্টিক, চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পের মতো খাতগুলোতে সুইস বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। বাণিজ্য সচিব সুইস এবং ইএফটিএ-ভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ভারতে উৎপাদন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি মাধ্যম বা মঞ্চ হিসেবে টিইপিএ-কে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

 

সরকার-থেকে-সরকার, ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখার আহ্বানের মধ্য দিয়ে এই সফরের সমাপ্তি ঘটে। বাণিজ্য সচিব ভারতে আয়োজিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক অনুষ্ঠানে সুইস এবং ইএফটিএ-ভুক্ত কোম্পানিগুলোর অধিকতর অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, টিইপিএ-র সাফল্য শেষ পর্যন্ত রপ্তানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব স্থাপন এবং একটি স্থিতিস্থাপক মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার মাধ্যমেই পরিমাপ করা হবে। 

 

 

SC/SB/AS


(রিলিজ আইডি: 2259272) ভিজিটরের কাউন্টার : 3
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , हिन्दी