PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

অনলাইন গেমিং পরিচালন ব্যবস্থার নতুন যুগ

অনলাইন গেমিং বিধি, ২০২৬-এর সাহায্যে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল গেমিং-এর নিশ্চিতকরণ

প্রকাশিত: 30 APR 2026 4:50PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

 

অনলাইন গেমিং বিধি, ২০২৬ ২০২৬-এর ১ মে থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে অনলাইন গেমিং ক্ষেত্রের জন্য সুস্পষ্ট ও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে উঠবে। এই বিধিতে গেমের শ্রেণীবিভাগের স্বচ্ছ ব্যবস্থা আনা হয়েছে। নিষিদ্ধ অনলাইন অর্থভিত্তিক গেম এবং অনুমোদিত ই-স্পোর্টস ও অনলাইন সামাজিক গেমের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। একক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে অনলাইন গেমিং অথরিটি অব ইন্ডিয়া গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত গেমের জন্য নিয়মতান্ত্রিক নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর সুরক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইন প্রয়োগ, সামঞ্জস্যপূর্ণ জরিমানা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্বিস্তরীয় আপিল ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে এবং শিল্পক্ষেত্রের দায়িত্বশীল বিকাশও এগোবে।

অনলাইন গেমিং আইন, ২০২৫ বাস্তবায়নের পথে

অনলাইন গেমিং বিধি, এ বছর  ১ মে থেকে কার্যকর হবে। এটি ভারতের ডিজিটাল গেমিং ক্ষেত্র গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই বিধি অনলাইন গেম পরিচালনার জন্য নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করেছে। ব্যবহারকারীর সুরক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের বিকাশের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, নীতিগত ঘোষণার পর্যায় পেরিয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের যুগ শুরু হচ্ছে।

এই বিধির ভিত্তি হল অনলাইন গেমিং প্রসার ও নিয়ন্ত্রণ আইন (PROG), ২০২৫। সংসদ ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই আইন পাশ করে। আইনটির লক্ষ্য অনলাইন অর্থভিত্তিক গেমের বাড়তে থাকা ক্ষতিকর প্রভাব রোধ করা। পাশাপাশি, ই-স্পোর্টস ও অনলাইন সামাজিক গেমের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা।

ভারতকে আন্তর্জাতিক গেমিং কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এই আইনে রয়েছে। উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা এবং ব্যবহারকারীদের আর্থিক ও সামাজিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

অনলাইন গেমিং ক্ষেত্রকে বোঝা

অনলাইন গেমিং ক্ষেত্র দ্রুত প্রসার লাভ করেছে এবং এখন ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৪ সালে ভারতীয় বাজারে এই ক্ষেত্র থেকে আয় হয়েছে ২৩২ বিলিয়ন টাকা। এর ৭৭ শতাংশ এসেছে লেনদেনভিত্তিক গেম থেকে।

এই ক্ষেত্রের বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে বাজারের আয় ৩১৬ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছতে পারে। এই প্রেক্ষিতে অনলাইন গেমিং বিধি, ২০২৬ নিরাপদ ও ক্ষতিকর গেমের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন এনেছে। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের জন্য শ্রেণীবিভাগকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই ক্ষেত্রকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

ই-স্পোর্টস:

এগুলি প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল ক্রীড়া। বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অংশ হিসাবেও থাকে। দল বা ব্যক্তি সংগঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কৌশল, সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখানে জরুরি।

অনলাইন সামাজিক গেম:
এগুলি দৈনন্দিন বিনোদনের অংশ। সাধারণত দক্ষতাভিত্তিক হয়। বিনোদন, শিক্ষা বা সামাজিক যোগাযোগের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়। সাধারণভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত।

অনলাইন অর্থভিত্তিক গেম:
এগুলিতে অর্থের ঝুঁকি থাকে। ভাগ্য, দক্ষতা বা উভয়ের মিশ্রণে পরিচালিত হতে পারে। আসক্তি, আর্থিক ক্ষতি, অর্থপাচার এবং আত্মহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ এই ক্ষেত্রকে ঘিরে উঠেছে।

এই ক্ষেত্রের দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমন সুরক্ষার প্রয়োজনও রয়েছে। ই-স্পোর্টস ও সামাজিক গেম উদ্ভাবন ও বিনোদনকে উৎসাহ দেয়। কিন্তু অর্থভিত্তিক গেম গুরুতর সামাজিক ও আর্থিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ এই ধরনের মঞ্চের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অনুমান। ক্ষতির পরিমাণ ২০,০০০ কোটিরও বেশি টাকা।

এই পরিস্থিতি স্পষ্ট শ্রেণীবিভাগ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। নাগরিক সুরক্ষা এবং নিরাপদ গেমিং প্রসারে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।

PROG আইন, ২০২৫-এর সারাংশ

অনলাইন গেমিং প্রসার ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৫ ভারতের অনলাইন গেমিং ব্যবস্থায় স্পষ্টতা ও ভারসাম্য আনার জন্য প্রণীত হয়েছে। এই আইন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন সামাজিক গেমে উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেয়। একই সঙ্গে অনলাইন অর্থভিত্তিক গেম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

অনুমোদিত ও নিষিদ্ধ কার্যকলাপের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানা হয়েছে।

আইনে অনলাইন অর্থভিত্তিক গেমের সব রূপের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভাগ্যনির্ভর, দক্ষতানির্ভর অথবা উভয়ের মিশ্রণ, সবই এর আওতায় পড়বে।

এই ধরনের গেমের বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং সুবিধা প্রদানও নিষিদ্ধ। ব্যাংক ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা এই গেমের সঙ্গে যুক্ত লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে না।

তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০ অনুযায়ী, বেআইনি মঞ্চ বন্ধ করা যাবে।

কঠোর শাস্তির বিধান

অনলাইন অর্থভিত্তিক গেম পরিচালনা বা সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

পুনরাবৃত্ত অপরাধে ন্যূনতম তিন বছর কারাদণ্ড হবে। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। জরিমানা ১ কোটি থেকে ২ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।

এই ধরনের গেমের বিজ্ঞাপন দিলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড হতে পারে। অথবা ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পুনরাবৃত্ত অপরাধে আরও কঠোর শাস্তি হবে।

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাইবার সেল আধিকারিকদের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। থানাস্তর, জেলা স্তর এবং কমিশনারেট স্তরের আধিকারিকরাও এই দায়িত্ব পালন করবেন।

নিরাপদ গেমিং-এর পরিবেশ

নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, আইনটি নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক গেমিং পরিবেশ গড়ে তুলেছে।

ই-স্পোর্টস ও অনলাইন সামাজিক গেমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন গেমিং অথরিটি অফ ইন্ডিয়া গঠন করা হয়েছে।

স্বচ্ছ শ্রেণীনির্ধারণ ও নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা বিধান রাখা হয়েছে।

বিধির লক্ষ্য

এই বিধি অনলাইন গেমিং প্রসার ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৫-এর বিধানকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। আইনের উদ্দেশ্যকে সুস্পষ্ট পদ্ধতি ও বাধ্যবাধকতায় রূপান্তর করা হয়েছে।

এর মূল লক্ষ্যগুলি হল:

অনলাইন গেম কোনও অর্থভিত্তিক গেম কি না তা নির্ধারণের জন্য স্বচ্ছ, নির্দিষ্ট সময়সীমাবদ্ধ এবং স্পষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে অনুমোদিত অনলাইন সামাজিক গেম বা ই-স্পোর্টস কি না তা নির্ধারণ করা।

অনলাইন গেমিং অথরিটি অব ইন্ডিয়াকে একক ও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা।

ই-স্পোর্টস এবং সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করা নির্দিষ্ট অনলাইন সামাজিক গেমের জন্য আইনসম্মত নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থা চালু করা।

ব্যবহারকারীর সুরক্ষা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক নিয়ম প্রণয়ন করা।

আইনের ১২ নম্বর ধারায় দেওয়ানি জরিমানা আরোপের পদ্ধতি নির্ধারণ করা।

দায়বদ্ধতা, ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতি বজায় রাখতে আপিলের ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এই সমস্ত পদক্ষেপ মিলিয়ে অনলাইন গেমিং ক্ষেত্রের জন্য স্পষ্ট, ন্যায্য এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর প্রধান স্তম্ভ

এই বিধি ছয়টি প্রধান স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এগুলি মিলিয়ে ভারতে অনলাইন গেমিং নিয়ন্ত্রণের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। মূল ভিত্তি হল তদারকি, শ্রেণীবিভাগ, ব্যবহারকারী সুরক্ষা এবং আইন প্রয়োগ।

অনলাইন গেমিং অথরিটি অফ ইন্ডিয়া

এই সংস্থা বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন সংযুক্ত দপ্তর হিসাবে গঠিত হয়েছে। প্রধান কার্যালয় দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে। এটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল দপ্তর হিসাবে কাজ করবে। সংস্থাটি ছোট কিন্তু বহুক্ষেত্রভিত্তিক কাঠামোয় গড়া হয়েছে। চেয়ারম্যান হবেন মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া, আইন ও বিচার মন্ত্রকের যুগ্মসচিব স্তরের প্রতিনিধিরা এতে থাকবেন।

সংস্থা অনলাইন অর্থভিত্তিক গেমের তালিকা প্রকাশ করবে। অভিযোগের তদন্ত করবে। নির্দেশ, আদেশ এবং আচরণবিধি জারি করবে। ব্যবহারকারীর অভিযোগে আপিল শুনবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আইনরক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। এর ফলে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

অনলাইন গেম নির্ধারণ

কোনও গেম অনলাইন অর্থভিত্তিক গেম না অনুমোদিত শ্রেণীর গেম, তা নির্ধারণের জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড রাখা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে তিনভাবে:

সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগে।
পরিষেবা প্রদানকারীর আবেদনে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেখা হবে:

অংশগ্রহণে অর্থের ঝুঁকি আছে কি না।
অর্থ জয়ের প্রত্যাশা রয়েছে কি না।
আয়ের ধরন কী।
গেমের সম্পদ গেমের বাইরে অর্থে রূপান্তর করা যায় কি না।

যতদূর সম্ভব ৯০ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ফলাফল নির্দিষ্ট গেম ও পরিষেবা প্রদানকারীর নামে আদেশ আকারে প্রকাশ হবে।

অনলাইন গেমের নথিভুক্তিকরণ

কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করলে তবেই নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক হবে।

সমস্ত ই-স্পোর্টস গেম এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। ব্যবহারকারীর ঝুঁকি, গেমের পরিসর, আর্থিক লেনদেন এবং উৎস দেশ বিবেচনা করা হবে।

সফল হলে ডিজিটাল নিবন্ধন শংসাপত্র দেওয়া হবে। একটি স্বতন্ত্র নম্বর থাকবে। সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে।

অনলাইন অর্থভিত্তিক গেমকে জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন, ২০২৫-এর অধীনে ই-স্পোর্টস হিসেবে স্বীকৃতি বা নথিভুক্তিকরণ দেওয়া যাবে না।

পরিষেবা প্রদানকারীদের নথিভুক্তির তথ্য প্রকাশ করতে হবে। যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক রাখতে হবে। তথ্য সংরক্ষণ নিয়ম মানতে হবে। অর্থপ্রদানের বিষয়ে নির্দেশও মানতে হবে।

ব্যবহারকারী সুরক্ষা ব্যবস্থা

গেমের ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী প্রযুক্তিগত, প্রক্রিয়াগত এবং আচরণভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে:

বয়স যাচাই
বয়স-ভিত্তিক সীমাবদ্ধতা
সময় নিয়ন্ত্রণ
অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

এছাড়া থাকবে:
অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা
পরামর্শ সহায়তা
সুষ্ঠু ক্রীড়া ও সততা পর্যবেক্ষণ

গেম নির্ধারণ বা নথিভুক্তির আবেদনের সময় এই সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থার তথ্য জানাতে হবে।

দ্বিস্তরীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি ও আপিল ব্যবস্থা

প্রতিটি অনলাইন গেম পরিষেবা প্রদানকারীকে কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ব্যবহারকারী সংস্থার সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে ৩০ দিনের মধ্যে অথরিটির কাছে যেতে পারবেন।

কতৃপক্ষ পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করবে।

দ্বিতীয় আপিল করা যাবে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে। এই পদে থাকবেন বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব। যতদূর সম্ভব ৩০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে।

জরিমানা ও আইন প্রয়োগ

প্রয়োজন না হলে সমস্ত কার্যক্রম ডিজিটাল মাধ্যমে চলবে। শারীরিক উপস্থিতি প্রয়োজন হলে তবেই ডাকা হবে।

অভিযোগ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে মামলা শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

জরিমানা নির্ধারণে দেখা হবে:
নিয়মভঙ্গ করে কত লাভ হয়েছে।
ব্যবহারকারীর কত ক্ষতি হয়েছে।
পুনরাবৃত্তি হয়েছে কি না।
অপরাধ কত গুরুতর।
পরিষেবা প্রদানকারী ক্ষতি কমাতে কি পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও বিবেচনায় আনা হবে।
আইনের অধীনে আদায় হওয়া সমস্ত জরিমানা ভারতের সংযুক্ত তহবিলে জমা হবে।

নাগরিক ও অর্থনীতিতে প্রভাব

আইন এবং বিধি একত্রে সমাজ ও অর্থনীতিতে বহু ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সৃজনশীল অর্থনীতিতে গতি:

ই-স্পোর্টস ও নিরাপদ অনলাইন গেম উৎসাহ পেলে নকশা, প্রযুক্তি ও বিষয়বস্তু নির্মাণ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বাড়বে। রপ্তানি ও বিনিয়োগও বাড়বে।

যুবসমাজের ক্ষমতায়ন:

যুবকদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল ক্ষেত্র তৈরি হবে। ই-স্পোর্টস ও দক্ষতাভিত্তিক গেম আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং দলগত কাজ শেখাবে। নতুন পেশার পথও খুলবে।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ:

পরিবারগুলি প্রতারণামূলক অর্থভিত্তিক গেম থেকে সুরক্ষা পাবে। এই ধরনের মঞ্চ সহজ লাভের ভ্রান্ত প্রচার করে এবং আসক্তি ও মানসিক চাপ বাড়ায়। আইন এই প্রবণতা বন্ধ করেছে।

আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব মজবুতিকরণ:

দায়িত্বশীল গেমিং ও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণে ভারত অগ্রণী দেশ হিসাবে উঠে আসবে। উদ্ভাবন এবং সামাজিক সুরক্ষার ভারসাম্যের একটি উদাহরণ তৈরি হবে।

আইন ও বিধি মিলিয়ে উদ্ভাবন এবং সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা করে স্থায়ী উন্নয়নের পথ তৈরি করেছে।

ভারতের অনলাইন গেমিং ক্ষেত্রের আগামী পথ

এ বছর ১ মে থেকে এই বিধি কার্যকর হওয়া ভারতের অনলাইন গেমিং পরিচালন ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় শুরু করল। দ্রুত বাড়তে থাকা কিন্তু একক কাঠামোহীন ক্ষেত্র এখন স্পষ্ট নিয়মের আওতায় এল। আইন ও বিধি একসঙ্গে উদ্ভাবন এবং সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য এনেছে। ই-স্পোর্টস ও অনলাইন সামাজিক গেমের বিকাশের পথ খুলেছে। একই সঙ্গে অর্থভিত্তিক গেমের ঝুঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে, ব্যবহারকারীর আস্থা বাড়বে এবং শিল্পক্ষেত্রও সুস্পষ্ট দিশা পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই কাঠামো দায়িত্বশীল সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। আন্তর্জাতিক ডিজিটাল নীতিতেও ভারতের বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নিরাপদ ও সুস্থায়ী বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও নিয়ম এখন কার্যকর হয়েছে।

তথ্যসূত্র 

PIB Backgrounders:

Ministry of Electronics & IT:

Ministry of Information and Broadcasting:

 

A New Era of Online Gaming Governance

 

SSS/SS...


(রিলিজ আইডি: 2257433) ভিজিটরের কাউন্টার : 6
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , हिन्दी