পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতি বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
24 MAR 2026 6:24PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ২৪ মার্চ ২০২৬
কেন্দ্রীয় সরকার আজ পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে জাতীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একটি আন্তঃমন্ত্রক সম্মেলন করেছে। প্রাত্যহিক এই সাংবাদিক সম্মেলনে পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিভিন্ন মন্ত্রক কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে সেই সম্পর্কে জানানো হয়েছে। আজকের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। সম্মেলনে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতি, সামুদ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল, পশ্চিম এশিয়ার বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে নজরাদারি চালানোর মতো বিষয়গুলি স্থান পেয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছে । হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রেক্ষিতে পেট্রোপণ্য এবং রান্নার গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপগুলির বিষয়ে এখানে জানানো হয়েছে। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে অশোধিত পেট্রোলিয়াম রয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের মজুতও যথেষ্ট। বিভিন্ন শোধনাগারে রান্নার গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে স্বাভাবিক কেনাবেচা চলছে। গুজবের কারণে কোথাও কোথাও আতঙ্কে জ্বালানি কেনার ফলে এগুলির বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। জনসাধারণকে এ ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত পিএনজি এবং সিএনজি-র সরবরাহ ১০০ শতাংশ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে শিল্প সংস্থাগুলির জন্য এই সরবরাহ ৮০ শতাংশে রাখা হয়েছে। সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনকে হোটেল, রেস্তোরাঁ সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পিএনজি সরবরাহের সংযোগ তাড়াতাড়ি দেওয়া পরমর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকার সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে বকেয়া এবং নতুন অনুমতিগুলি দ্রুত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক পর্ষদ ২৩ মার্চ এক নির্দেশিকায় আবাসিক বিদ্যালয়, কলেজ, হস্টেল, কমিউনিটি কিচেন এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাইপ বাহিত রান্নার গ্যাসের সংযোগ দ্রুত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে রান্নার গ্যাস সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার্থে ৫ কেজি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করছে। দেশে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন তেল বরাদ্দ করা হয়েছে। ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যক পণ্য আইন এবং ২০০০ সালের রান্নার গ্যাস নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশনামা অনুসারে রাজ্য সরকারগুলি কালোবাজারি ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রত্যেক জেলাশাসক এবং খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ মন্ত্রকের আধিকারিকদের কালোবাজারি রুখতে যথাযথ নজরদারির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন রাজ্যে ৩৪০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০০টি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং হরিয়ানায় এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল বিপণন সংস্থাগুলির আধিকারিকরা ১৫০০টি রান্নার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটারের খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে পরিদর্শন করেছেন। এ পর্যন্ত ৬৪২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ১৫৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
সরকার রান্নার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য শহরাঞ্চলে গ্যাস একবার বুক করলে ২৫ দিন পর আবারও বুক করার অনুমতি দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে তা ৪৫ দিন পর করা যাবে। নাগরিকদের আতঙ্কে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাস না কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রান্নার গ্যাস বুক করতে গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পারস্য উপসাগরে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় জলযানগুলির সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় পতাকা বহনকারী কোনও জাহাজের ওপর হামলা হয়নি। গত রাতে রান্নার গ্যাস বহনকারী দুটি ভারতীয় জাহাজ- পাইন গ্যাস এবং জাগ বসন্ত হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এই মুহুর্তে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২০টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। ওই অঞ্চলে ৫৪০ জন ভারতীয় নাবিক সুরক্ষিত আছেন বলে জানানো হয়েছে। জওহরলাল নেহেরু বন্দর কর্তৃপক্ষ, ভিও চিদামবরনার বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিশাখাপত্তনম বন্দর, মুন্দ্রা, দীনদয়াল বন্দর কর্তৃপক্ষ, নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোচি বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চেন্নাই বন্দর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করেছে। ফলে ওই বন্দরগুলিতে আরও সহজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ চলছে। কামরাজার বন্দর
লিমিটেড পারস্য উপসাগরের জন্য যে গাড়িগুলি জাহাজে করে পাঠানো হবে, সেগুলিকে আরও ২০ দিন বিনামূল্যে তাদের জমিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বন্দর ও জাহাজ চলাচল মন্ত্রক বিভিন্ন বন্দরের কাজকর্ম, জাহাজ চলাচল, নাবিকদের নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক পথে ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে নির্বিঘ্নে হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর মার্কিন বিদেশ দপ্তরের উপসচিব মার্কো রুবিয়ো-র সঙ্গে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিতা হেরাত-এর সঙ্গে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় ভারতের ভিশন মহাসাগর এবং প্রতিবেশী প্রথম নীতি অনুসরণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি নতুন দিল্লিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্যভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির প্রশাসন ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় শ্রী জয়শঙ্কর তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
ওই অঞ্চলের ভারতীয় দূতাবাসগুলি ২৪ ঘন্টা কাজ করে চলেছে। তারা ভারতীয় সম্প্রদায়কে সব ধরনের সহায়তা করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪ লক্ষ ২ হাজার জন ওই অঞ্চল থেকে দেশে এসেছেন। সংযুক্ত আরব আমিশাহি সৌদি আরব এবং ওমান থেকে ভারতগামী বিমান চলাচল করলেও কাতারের আকাশসীমা আংশিক খোলা রাখা হয়েছে। তবে কুয়েত এবং বাহরিনে আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। কুয়েত, বাহরিন এবং ইরাক থেকে যেসব ভারতীয় দেশে ফিরতে চান, তাঁদের সৌদি আরব হয়ে দেশে আনার ব্যবস্থা চলছে। ইরান থেকে যাঁরা ভারতে ফিরতে চান তাঁদের আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলে আটক ভারতীয়রা জর্ডন হয়ে দেশে ফিরছেন।
*****
PS/Agt
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2244827)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 4