পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 18 MAR 2026 5:37PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ১৮ মার্চ, ২০২৬

 

কেন্দ্রীয় সরকার আজ পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একটি আন্তঃমন্ত্রক সম্মেলন করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে নাগরিকদের নিয়মিত তথ্য প্রদানই এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য। আজকের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। তাঁরা দেশে জ্বালানির মজুত, সমুদ্রপথে যাতায়াত এবং পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয়দের সহায়তায় কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও দেশে পেট্রোপণ্য ও রান্নার গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সমস্ত তেল শোধনাগারে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের উৎপাদন যথাযথ পরিমাণে হওয়ায় দেশের চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে এগুলি আমদানি করতে হচ্ছে না। তবে, শোধনাগারগুলিতে রান্নার গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির কাছে খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রে জ্বালানি শেষ হওয়ার কোনো তথ্য নেই। নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অহেতুক জ্বালানি মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাইপলাইন দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত গ্যাস যাতে ১০০ শতাংশ সরবরাহ করা যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, শিল্প ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলির জন্য এই গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান — যেমন হোটেল, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল এবং হস্টেলে রান্নার গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেইসব জায়গায় সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে পাইপলাইন দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আইজিএল, এমজিএল, গেইল এবং ভারত পেট্রোলিয়াম এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের নানারকম সুযোগ দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার ১৬ মার্চ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে শহরাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে বকেয়া আবেদনগুলি দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই যাতে অনুমতি পাওয়া যায়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, ১৮ মার্চ আরেকটি চিঠিতে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে রান্নার গ্যাসের পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে উৎসাহিত করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের ঘোষণা করেছে।

উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাস সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে মজুত নেই, এ ধরনের কোনো তথ্য এসে পৌঁছয়নি। অনলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস বুকিং-এর পরিমাণ ৮২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। রান্নার গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত কোড ৫৩ শতাংশের পরিবর্তে ৮১ শতাংশ গ্রাহকের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে, রান্নার গ্যাস প্রকৃত উপভোক্তার কাছেই পৌঁছবে। দেশে প্রতিটি রাজ্যের জন্য মোট ৪৮ হাজার কিলোলিটার অতিরিক্ত কেরোসিন মজুত করা হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এবং এলপিজি কন্ট্রোল অর্ডারের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নজরদারি চালাতে কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এদের মধ্যে ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জেলাস্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশে যৌথ অভিযানে মজুতদারদের কাছ থেকে রান্নার গ্যাস বাকেয়াপ্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিও রান্নার গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটার এবং বিভিন্ন খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রে ২,৩০০-রও বেশি আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। নাগরিকদের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র সরকারি তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অহেতুক গ্যাস বুক না করা এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে বুক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করতে উৎসাহও দেওয়া হচ্ছে।

বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ এবং বিভিন্ন জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ভারতীয় পতাকাবাহী কোনো জাহাজ সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পশ্চিম দিকে ২২টি ভারতীয় জলযান রয়েছে। এছাড়াও ঐ অঞ্চলে ৬১১ জন ভারতীয় নাবিকও আছেন। শিবালিক এবং নন্দা দেবী জাহাজ দুটি যে রান্নার গ্যাস আমদানি করেছে, তা এখন নির্দিষ্ট ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। জাহাজ চলাচল মন্ত্রকের মহানির্দেশকের কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘন্টা খোলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩,৩০৫টি ফোনকলের জবাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ৬,৩২৪টি মেল-এর উত্তরও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ভারতীয় বন্দরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক আছে। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে রাজ্যস্তরের মেরিটাইম বোর্ড এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেছে। বিভিন্ন বন্দরে অতিরিক্ত পণ্য মজুত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশাখাপত্তনম বন্দরে ২,২৬০ বর্গ মিটার নতুন জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাহাজ চলাচল মন্ত্রক জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সব সময়েই নজরদারি চালাচ্ছে।

বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাকে তাঁরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আল নাহিয়ানকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ওপর হামলার কঠোর নিন্দা করেছে ভারত। এই হামলার ফলে সে দেশে প্রাণহানি ছাড়াও অসামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উভয় নেতা হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে তাঁরা একযোগে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস ইরানে বসবাসরত ভারতীয় ছাত্রদের নানাভাবে সহায়তা করছে। যাঁরা স্থলপথে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ায় যেতে চাইছেন, তাঁদের দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে চলেছে। তারা পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। সিবিএসই পরিচালিত স্কুলগুলির ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসগুলি যোগাযোগ রেখে চলেছে। সিবিএসই-র দশম শ্রেণীর পরীক্ষা ঐ অঞ্চলে বাতিল করা হয়েছে। আইসিএসই এবং কেরালা পর্ষদের পরীক্ষাও বাতিল রয়েছে। সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ডের পরীক্ষাও আপাতত স্থগিত রয়েছে। ইরানে তেহরান, ইসফাহান এবং সিরাজ শহরের ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে দূতাবাসগুলি সবরকমের সহায়তা করছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকা প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার যাত্রী দেশে ফিরে এসেছেন। ঐ অঞ্চলের সঙ্গে বিমানপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে প্রায় ৭০টি বিমান চালানো হয়েছে। আজ এই সংখ্যা বেড়ে ৭৫-এ পৌঁছবে। ৫ মার্চ থেকে প্রতিদিন ৫০টির বেশি উড়ান চালানো হচ্ছে। সৌদি আরব এবং ওমান থেকেও বিমান চলাচল করছে। কাতারের আকাশপথ আংশিকভাবে খোলা হয়েছে। গতকাল পাঁচটি বিমান ভারতে এসে পৌঁছেছে। আজ থেকে ৯টি ভারতীয় শহরে কাতারের বিমান সংস্থা বিমান চালাবে। কুয়েতের আকাশপথ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অবশ্য বন্ধই রয়েছে। জাজিরা এয়ারওয়েজ সৌদি আরবের আল কোয়াশুমা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমান চালাচ্ছে। কুয়েত, বাহরিন এবং ইরাকে থাকা ভারতীয়রা সৌদি আরবের মাধ্যমে দেশে ফিরতে পারছেন। জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, সংস্থা এবং বিভিন্ন রাজ্যের সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার জোর দিচ্ছে।

*****

PS/Agt


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2242264) ভিজিটরদের কাউন্টার : 10
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English