পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
12 MAR 2026 7:53PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভুত পরিস্থিতির ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে জাতীয় স্তরে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক এবং তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তুতি ; সমুদ্র পথের নিরাপত্তা ; এবং প্রবাসী ভারতীয়দের কল্যাণের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানানো হয়েছে। নাগরিকদের কাছে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের আধিকারিকরা আবেদন করেছেন যে, আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস বুক না করতে। এক্ষেত্রে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ও জ্বালানির সহজলভ্যতা :
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক নাগরিকদের জানিয়েছেন প্রতিদিন ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আজ ত্রয়োদশ দিন। আজই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ৪০টিরও বেশি দেশের এবং ভারতের ৭০% অপরিশোধিত তেল এখন হরমুজ প্রণালী ছাড়া অন্য পথে নিয়ে আসা হচ্ছে। ভারত প্রতিদিন ৫৫ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে। বিশ্বে তেল শোধনাগারের সংখ্যার নিরিখে ভারতের স্থান চতুর্থ। এদেশে ২২টি শোধনাগার রয়েছে। এই শোধনাগারগুলিতে পুরোদমে তেল শোধনের কাজ চলছে। আমাদের প্রায় ১ লক্ষ খুচরো ব্যবসা কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস-
উদ্ভুত পরিস্থিতি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ৯ মার্চ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশনামা জারি করেছে।
রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ-
আমাদের দেশে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের ৬০% আমদানি করতে হয়। এই আমদানি করা গ্যাসের ৯০% আসে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। এই পথটি এখন বন্ধ রয়েছে। সরকার চাহিদা অনুযায়ী রান্নার গ্যাস সরবরাহের জন্য একগুচ্ছ প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ৯ মার্চ এলপিজি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশনামায় প্রতিটি শোধনাগারকে সর্বোচ্চ পরিমাণ রান্নার গ্যাস উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩টি তেল বিপণন সংস্থার যাতে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করতে সমস্যা না হয়, তার জন্য গত ৫ দিনে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ২৮% বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশে ২৫,০০০ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটার রয়েছে। তাদের কাছে প্রতিদিন ৫০ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু নাগরিকরা আতঙ্কিত হয়ে বিপুল পরিমাণে সিলিন্ডার বুক করছেন। আমাদের আবেদন, আপনারা আতঙ্কিত হয়ে রান্নার গ্যাস বুক করবেন না, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। আন্তর্জাতিক এই অনিশ্চয়তার পরিবেশে জ্বালানি সংরক্ষণ করুন।
গৃহস্থের গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি অন্য যেসব প্রতিষ্ঠানে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করা হয় তাদের মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে গ্যাস সরবরাহের জন্য আইওসিএল, এইচপিসিএল এবং বিপিসিএল-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরদের নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি রাজ্য সরকার এবং শিল্প মহলের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য ও স্বচ্ছভাবে রান্নার গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এই মর্মে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আজ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে তেল বিপণন সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের মোট চাহিদার ২০% রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহ করবে। কালোবাজারি অথবা মজুতদারদের আটকাতেই এই উদ্যোগ। দিল্লির মুখ্য সচিবের সঙ্গে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে বৈঠক হয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের জন্য বিকল্প জ্বালানির বিষয়গুলি বিবেচনা করা হচ্ছে। খুচরো বিক্রেতা এবং গণবন্টন ব্যবরস্থার মাধ্যমে কেরোসিন তেল বিক্রি করা হবে। এই তেল বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক বিভিন্ন রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে পরামর্শ দিয়েছে রেস্তোরাঁ এবং হোটেল সহ অন্যত্র কেরোসিন, কয়লা সহ বায়োমাস ব্যবহার করার সুযোগ দিতে। সঙ্কটের এই সময়ে এক মাসের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
কয়লা মন্ত্রক রাজ্যগুলির জন্য নির্ধারিত এজেন্সিগুলিকে আরও বেশি পরিমাণে কয়লা সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য অতিরিক্ত ৪৮,০০০ কেএল কয়লা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সমুদ্র পথের নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্র পথের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছে বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করে। এর মধ্যে ২৪টি হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে রয়েছে। এই জাহাজগুলিতে মোট ৬৭৭ জন ভারতীয় নাগরিক আছেন। হরমুজ প্রণালীর পূর্ব প্রান্তে থাকা ৪টি জাহাজে ১০১ জন ভারতীয় নাবিক আছেন। এঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জাহাজ পরিচালনা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত এজেন্সিগুলির সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসগুলি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি জাহাজ চলাচল দপ্তরের মহানির্দেশক ভারতীয় জাহাজগুলির সম্পর্কে যে সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন, তা এখনও বলবৎ থাকবে। জাহাজ চলাচল সংস্থা এবং রপ্তানিকারকদের সুবিধার্থে প্রতিটি বড় বড় বন্দর এবং রাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্ষদের জন্য একটি মান্য পরিচালন পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি বন্দরের জন্য একজন নোডাল অফিসার পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। বড় বড় বন্দরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রান্নার গ্যাস বহনকারী জাহাজ আসলে, সেগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্দরে ঢোকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জাহাজগুলির পণ্য ওঠানামার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জায়গা বরাদ্দের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পচনশীল পণ্য যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বেশ কিছু বিদেশী জাহাজেও ভারতীয় নাবিকরা রয়েছেন। এ ধরনের জাহাজে ৭৮ জন নাবিকের খোঁজ পাওয়া গেছে। এঁদের মধ্যে ৭০ জন সুস্থ আছেন। ৪ জন অল্পবিস্তর আঘাত পেয়েছেন। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ জন নাবিকের এখনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে চলেছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা
বিদেশ মন্ত্রক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়ে সবসময় নজরদারি চালাচ্ছে। দূতাবাসগুলি ওই অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। তাদের বিমান চলাচল সম্পর্কে সব রকমের তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। যেসব ভারতীয় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে বাণিজ্যিক বিমানে দেশে ফিরতে চান, দূতাবাসগুলি তাঁদের প্রয়োজনীয় ভিসা সহ সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করছে। যে ৪ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরা ওই অঞ্চলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিক ছিলেন। ওমান ও ইরাকে ভারতীয় দূতাবাস এবং দুবাইয়ে ভারতীয় বাণিজ্যিক দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে- যাতে ওই ৩ ব্যক্তির মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসা যায়। এই প্রসঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপর যেকোনও পক্ষের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত ।
সর্বশেষ হামলাটি হয়েছে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী সেফসি বিষ্ণু জাহাজে। ইরাকের কাছাকাছি অঞ্চলে থাকা ওই জাহাজটি হামলার শিকার হয়। জাহাজে ২৮ জন নাবিকের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে ১ জন দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত্যু বরণ করেছেন। আমরা মৃত ব্যক্তির স্বজনহারাদের সমবেদনা জানাই। ওই জাহাজে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করে বাসরা-য় নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের দূতাবাস তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে। এঁদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে এ পর্যন্ত ২ ডজনের বেশি ভারতীয় আহত হয়েছেন। তবে এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই এখন সুস্থ। কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে নাগরিকদের প্রতি আবেদন :
তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক সকল নাগরিকের কাছে আবেদন করেছে, তাঁরা যেন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বুক না করেন। এক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন রান্নার গ্যাস সরবরাহের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলাস্তরে নজরদারি কমিটি এবং রাজ্য সরকারগুলি গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে নজরদারি চালাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, আপনারা ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য যাচাই করে পোস্ট করুন।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেহেতু পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে, তাই তারা যেন একই দৃশ্য বারবার প্রচার না করে। নাগরিকরা যাতে সঠিক তথ্য পায়, তা নিশ্চিত করতে ওই ছবিগুলির ওপর সময় ও তারিখ উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী যাতে কেউ মজুত না রাখে এবং এগুলির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
*****
PS/Agt
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2239381)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 8