PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

ডিজিটাল ব্যবধানের নিরসন

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 08 MAR 2026 9:41AM by PIB Agartala

০৮ মার্চ, ২০২৬

 

মূল বিষয়সমূহ

* 'ভারতনেট'-এর মাধ্যমে ২.১৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ৫ লক্ষ ৫জি (5G) বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন গ্রামীণ অঞ্চলে নেটওয়ার্ক কভারেজ প্রদান করছে।

* মোট ৫ লক্ষ কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

* PMGDISHA-র সাহায্যে ৬ কোটিরও বেশি গ্রামীণ নাগরিককে ডিজিটাল স্বাক্ষরতা প্রদান করা হয়েছে।

* ৪.০৯ লক্ষ PM-WANI ওয়াই-ফাই হটস্পট গ্রামগুলিতে সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট সরবরাহ করছে।

ভূমিকা

২০১৫ সালে শুরু হওয়া 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া' কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি, সংযোগের বিস্তার এবং অনলাইনে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। ব্রডব্যান্ড এবং অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কে বিনিয়োগের ফলে, শহর ও গ্রামের ডিজিটাল ব্যবধান কমেছে এবং নাগরিকরা এখন সহজেই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন শিক্ষা এবং সরকারি পরিষেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো নির্মাণ

ভারতের ডিজিটাল কাঠামোর তিনটি প্রধান স্তম্ভ হল: সর্বজনীন সংযোগ, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এবং কম্পিউটিং ক্ষমতা। এই আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থাগুলি নিশ্চিত করে যে ইন্টারনেটের সুবিধা যেন ডিজিটাল অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করে এবং সরকারি পরিষেবার উন্নতিতে সহায়ক হয়।

সর্বজনীন ডিজিটাল সংযোগ ও সাশ্রয়ী সুবিধা

'ভারতনেট'-এর অধীনে ২.১৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতকে ফাইবার সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবারের দৈর্ঘ্য ২০১৯ সালের ১৯.৩৫ লক্ষ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪২.৩৬ লক্ষ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। ভারতের দ্রুত ৫জি রোলআউটের ফলে ৯৯.৯% জেলা এখন নেটওয়ার্কের আওতায়, যার জন্য ৫.১৮ লক্ষেরও বেশি বেস স্টেশন বসানো হয়েছে। ২০১৪ সালে প্রতি জিবি ডেটার খরচ যেখানে ২৬৯ টাকা ছিল, বর্তমানে তা কমে ৮-১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর ফলে, ভারত বিশ্বের অন্যতম সস্তা ডেটা বাজারে পরিণত হয়েছে এবং ব্রডব্যান্ড গ্রাহক সংখ্যা ১০০ কোটিতে পৌঁছেছে।

ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI): অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিষেবা

আধার (Aadhaar), ইউপিআই (UPI) এবং ডিজিলকার (DigiLocker)-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভারতের DPI ইকোসিস্টেম ইন্টারনেট সংযোগকে ব্যবহারযোগ্য সেবায় রূপান্তরিত করেছে।

* আধার: ১৪৩ কোটিরও বেশি ডিজিটাল আইডি, যা জনকল্যাণমূলক সেবা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করছে।

* ইউপিআই: প্রতি মাসে ২৮.৩৩ লক্ষ কোটি টাকার (২১.৭ বিলিয়ন) লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্টকে সহজ করে তুলেছে।

* ডিজিলকার: ৬২ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী, যা কাগজবিহীন নথি সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান সম্ভব করেছে।

হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং এবং ক্লাউড পরিকাঠামো

উন্নত কম্পিউটিং ক্ষমতা উদ্ভাবন এবং গবেষণাকে ত্বরান্বিত করছে। 'ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং মিশন'-এর অধীনে ৪৪ পেটাফ্লপস ক্ষমতার ৩৮টি সুপারকম্পিউটার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম 'মেঘরাজ' (MeghRaj) ২,১৭০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অ্যাপ্লিকেশন হোস্ট করছে। এ ছাড়া ভারতের ডেটা-সেন্টার ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা

ভারতের ডিজিটাল কৌশল কেবল ইন্টারনেট সংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ডিজিটাল স্বাক্ষরতা, স্থানীয় পর্যায়ে পরিষেবার সহজলভ্যতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলেই আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ডিজিটাল স্বাক্ষরতা: দক্ষতা ও সুযোগের সৃষ্টি

সরকারি উদ্যোগের ফলে, দেশজুড়ে ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বেড়েছে:

* NDLM/DISHA (২০১৪-১৬): ৫৩.৬৭ লক্ষেরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

* PMGDISHA (২০১৭): ৬.৩৯ কোটি গ্রামীণ নাগরিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল স্বাক্ষরতা কর্মসূচিগুলির মধ্যে একটি।

* এ ছাড়া NMEICT এবং শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) স্কুল-কলেজে ডিজিটাল লার্নিং ও এআই সরঞ্জামকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল লার্নিং: স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা

ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলি শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করছে:

* দীক্ষা (DIKSHA): ১৯,৬৯৮টি কোর্স, যেখানে ১৮২.৩ মিলিয়ন নাম নথিভুক্ত হয়েছে।

* স্বয়ম (SWAYAM): ১৮,৫০০-এর বেশি কোর্স এবং ৬.১ কোটি এনরোলমেন্ট।

* ইন্সপায়ার-মানক (INSPIRE-MANAK): শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তা উৎসাহিত করছে, যার আওতায় ২০২৫-২৬ সালে ১১.৪৭ লক্ষ আইডিয়া জমা পড়েছে।

কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC): শেষ প্রান্তের ডিজিটাল সেবা

বস্তুত, ৬.৫ লক্ষ ‘ভিলেজ লেভেল এন্টারপ্রেনার’ বা গ্রামস্তরের উদ্যোক্তা দ্বারা পরিচালিত এই কেন্দ্রগুলি গ্রামীণ এলাকায় সরকারি ও আর্থিক পরিষেবা প্রদানের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যাদের নিজস্ব ডিভাইস বা ইন্টারনেটের অভাব রয়েছে, তারা এখান থেকে সহজেই অনলাইন সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।

গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি

* ই-ন্যাম (e-NAM): ১.৭৯ কোটি কৃষক এবং ১,৫২২টি মান্ডিকে সংযুক্ত করেছে।

* ব্যাঙ্কিং সখী (BC Sakhis): গ্রামীণ এলাকায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শক্তিশালী করছে।

* মনরেগা (MGNREGA) ও অন্যান্য প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা প্রদান (DBT) স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে।

PM-WANI: ভারতের জন্য সাশ্রয়ী ওয়াই-ফাই

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি পাবলিক ডেটা অফিস (PDO)-এর মাধ্যমে পাবলিক ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদান করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪,০৯,১১১টি ওয়াই-ফাই হটস্পট স্থাপন করা হয়েছে।

ভবিষ্যতের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন

* অটল ইনোভেশন মিশন: ৭২২টি জেলায় ১০,০০০-এর বেশি অটল টিঙ্কারিং ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

* ফিউচার স্কিলস প্রাইম: ২৯ লক্ষ শিক্ষার্থী এআই, সাইবার নিরাপত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

* ইন্ডিয়া এআই (IndiaAI) মিশন: ১০,৩০০ কোটি টাকার এই উদ্যোগটি এআই গবেষণা এবং স্টার্টআপগুলিকে সহায়তা প্রদান করছে।

স্টার্টআপ-চালিত উদ্ভাবনী ব্যবস্থা

‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’-র অধীনে স্বীকৃত স্টার্টআপের সংখ্যা ৪৪০০ (২০১৬) থেকে বেড়ে ২ লক্ষের বেশি (২০২৫) হয়েছে, যা ২১ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এর অর্ধেকই ভারতের ছোট শহরগুলিতে (Tier-II এবং Tier-III) অবস্থিত।

উপসংহার

বিগত এক দশকে ভারতের ডিজিটাল রূপান্তর সংযোগের বিস্তার, পাবলিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। পরিকাঠামো, স্বাক্ষরতা এবং উদ্ভাবনের সমন্বয়ে ভারত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যেটি দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র

Press Information Bureau

 

Others

Bridging Digital Divide

*****

PS/Agt


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2236805) ভিজিটরদের কাউন্টার : 5
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English