প্রতিরক্ষা মন্ত্রক
আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক এবং প্রস্তুত থাকার একমাত্র পন্থা হল আত্মনির্ভর হয়ে ওঠা: সাগর সংকল্প অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
06 MAR 2026 1:08PM by PIB Agartala
নতুন দিল্লি, ৬ মার্চ, ২০২৬
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) লিমিটেড এবং একটি বেসরকারি সংবাদ সংস্থা কলকাতায় যৌথভাবে আয়োজন করেছে এক আলোচনা সভা। এই সভার মূল বিষয় "সাগর সংকল্প পুনরুদ্ধার ভারতের সমুদ্র গৌরব"। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং এর উদ্বোধন করে বলেন, বর্তমান সময়কালে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুসারে সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাস হচ্ছে। এ ছাড়াও নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি এবং সামুদ্রিক কার্যকলাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
শ্রী সিং বলেন, "পুরোনো ধারণা, পুরোনো বিশ্ব ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তাগুলি আমাদের বুঝতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এমনই এক প্রধান উদাহরণ। সেখানে যা ঘটছে তা বেশ অস্বাভাবিক। মধ্যপ্রাচ্য বা আমাদের প্রতিবেশী অঞ্চলে ভবিষ্যতের ঘটনাবলী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা কঠিন। হরমুজ প্রণালী বা সমগ্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল পৃথিবী জুড়ে জ্বালানী নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন এই অঞ্চলে কোনও অস্থিরতা দেখা দেয়, তখন তা সরাসরি তেল ও গ্যাস সরবরাহের উপর প্রভাব ফেলে। তাছাড়া, আমরা অন্যান্য ক্ষেত্রের সরবরাহ শৃঙ্খলেও ব্যাঘাত লক্ষ্য করছি। এই অনিশ্চয়তাগুলি অর্থনীতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের উপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে।এখন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্বাভাবিক । এই অস্বাভাবিকতা নতুনভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের" ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে "প্রযুক্তিগত গতিশীলতা" আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনছে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চমানের নির্ভুল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার ভবিষ্যতের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, কর্মক্ষমতা সংক্রান্ত মানদণ্ড, গবেষণা ও উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিরক্ষা সামগ্রীর উৎপাদন গুণগত ও পরিমাণগতভাবে শক্তিশালী করার জন্য সরকার কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলি সরকারের স্বনির্ভর হয়ে ওঠার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে, জিআরএসই সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলি দেশীয় শিল্পর পরিবেশকে যাতে ভবিষ্যতের চাহিদা মেনে শক্তিশালী করে তোলে, সেই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাহাজগুলিকে প্রযুক্তি কেন্দ্রে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাহাজের নকশা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিচারে সেগুলি উন্নত হয়ে উঠবে।
শ্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারি শিল্পকে সমান সুযোগ প্রদানের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে জানিয়েছেন। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে উন্নত আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলা, ডিআরডিও পরীক্ষাগারগুলি যাতে আরও বেশী ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করা, গ্রিন চ্যানেল সার্টিফিকেশন যাতে সহজেই পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরক্ষা করিডোর স্থাপন করা। এই পদক্ষেপগুলি বেসরকারি ক্ষেত্রকে সর্বাধিক কর্মক্ষমতা অর্জনের সুবিধা যেমন করবে, পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলিও সমানভাবে অংশ নেবে।
শ্রী সিং জানান, সরকারী উদ্যোগের ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি প্রায় ২৪,০০০ কোটি টাকা ছুঁয়েছে, এগুলি সবই রেকর্ড। এ বছর এপ্রিলের মধ্যে এই রপ্তানি প্রায় ২৯,০০০ কোটি টাকায় এবং ২০২৯-২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫০,০০০ কোটি টাকায় পৌছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সামগ্রীর উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে বেসরকারি শিল্পের অবদান রয়েছে। আগামী দিনে যা ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে তাঁর স্থির বিশ্বাস।
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য অর্ডার করা সমস্ত যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন ভারতীয় শিপইয়ার্ডগুলিতে তৈরি করা হচ্ছে। এগুলি নির্মাণের জন্য নকশা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্র এখন দেশেই হচ্ছে। আত্মনির্ভরতার দিকে যা এক বড় পদক্ষেপ।
শ্রী রাজনাথ সিং বৃহৎ একটি মঞ্চ নির্মাণে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ, স্টার্ট-আপ এবং দেশীয় বিক্রেতাদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন একটি রণতরী যৌথ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে নির্মিত হয়, একে কংগ্লোমেরেট এফেক্ট বলে। এর মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, পাশাপাশি উদ্ভাবনের এক পরিবেশ গড়ে ওঠে। সরকার ভারতের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু করেছে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মের সরলীকরণ করা ছাড়াও সরকারী বেসরকারী অংশীদারিত্বের মডেলকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০ এবং মেরিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭ এর অধীনে, বিশ্বমানের জাহাজ নির্মাণ ক্লাস্টার তৈরির জন্য প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
ভাষণের শেষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে যদি দেশ এগিয়ে যায়, তাহলে ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্র সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী হবে। "ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রস্তুতি, অপারেশন সিন্দুরের মতো অভিযানের সাফল্য এবং আত্মনির্ভরতার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ থেকে এটি স্পষ্ট যে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে আগামীদিনে ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আমাদের লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে প্রথম ১০টি জাহাজ নির্মাণকারী দেশে পৌছে দেওয়া এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রথম পাঁচটি দেশের তালিকায় পৌঁছানো," ।
জিআরএসই-এর চিফ ম্যানেজিং ডিরেক্টর অবসরপ্রাপ্ত কমোডর পিআর হরি ভারতীয় সভ্যতায় সামুদ্রিক ঐতিহ্য এবং দেশীয় পদ্ধতিতে জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতার বিবর্তনের উপর আলোকপাত করেন। ভারতের পরিকল্পনা হল আগামী দিনে সে নৌবাহিনীর জন্য জাহাজ কেনার পরিবর্তে অন্যান্য নৌবাহিনীর জন্য তা সরবরাহ করবে।
এই কনক্লেভে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট জন এবং নীতিনির্ধারকরা মিলিত হয়েছিলেন।
*****
PS/Agt
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2236780)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 4