জাহাজচলাচলমন্ত্রক
‘সাগর সংকল্প’ আলাপচারিতায় ভারতের সমুদ্র সংশ্লিষ্ট ভবিষ্যতে সাগরমালা এবং জাহাজ নির্মাণের ভূমিকার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী শান্তনু ঠাকুর
প্রকাশিত:
06 MAR 2026 5:49PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ৬ মার্চ, ২০২৬
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী শ্রী শান্তনু ঠাকুর আজ কলকাতায় গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং ‘দ্য উইক’ (The Week) পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ন্যাশনাল ম্যারিটাইম ডিফেন্স ডায়ালগ “সাগর সংকল্প – ভারতের সমুদ্র সংক্রান্ত গৌরব পুনরুদ্ধার” (Sagar Sankalp – Reclaiming India’s Maritime Glory) সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
নীতিনির্ধারক, সমুদ্র বিশেষজ্ঞ এবং শিল্প নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ‘সাগরমালা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের সামুদ্রিক খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল, বন্দর-ভিত্তিক উন্নয়নের ভিত শক্ত করা এবং বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
শ্রী ঠাকুর বলেন, ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান সমুদ্র-কেন্দ্রিক অর্থনীতির প্রসারে অপার সুযোগ তৈরি করেছে। ৭,৫০০ কিলোমিটারের বেশি উপকূলরেখা, ১৪,৫০০ কিলোমিটার জলপথ এবং প্রধান বাণিজ্য পথগুলির সংযোগস্থলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারত বন্দর-ভিত্তিক শিল্পায়নের সুবিধা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মন্ত্রী জানান, সাগরমালা প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল, লজিস্টিক খরচ কমানো, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রথাগত পরিকাঠামো-নির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল ও অভ্যন্তরীণ জলপথ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো।
সাগরমালা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল:
● বন্দর আধুনিকীকরণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন।
● বন্দর-ভিত্তিক শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা।
● উপকূলীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
● উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন।
মন্ত্রী জোর দিয়ে আর-ও বলেন যে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, পরিকাঠামো খরচ কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রভাবকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং একটি দক্ষ লজিস্টিক ইকোসিস্টেম তৈরি করা যা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদী সামুদ্রিক কৌশলের কথা তুলে ধরে শ্রী ঠাকুর বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প হবে ভারতের সামুদ্রিক ভবিষ্যতের অন্যতম স্তম্ভ। ‘ম্যারিটাইম অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭’-এর অধীনে সরকার দেশজুড়ে জাহাজ নির্মাণ ক্লাস্টার তৈরির জন্য ৩ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
ভারতের লক্ষ্যসমূহ:
* ২০৩০ সালের মধ্যে জাহাজ নির্মাণে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় স্থান পাওয়া।
* ২০৪৭ সালের মধ্যে জাহাজ নির্মাণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা ভারতের সমুদ্র-কেন্দ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সক্ষমতা এবং শিল্প প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শ্রী শান্তনু ঠাকুর পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, সমুদ্র ও জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে 'আত্মনির্ভর ভারত' গঠন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সুযোগগুলির জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি '১০ ডিগ্রি চ্যানেল'-এর কৌশলগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে একে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অলিন্দ হিসাবে বর্ণনা করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন যে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে ভারতকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা এবং একটি স্পষ্ট কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি উল্লেখ করে বলেন যে, শক্তিশালী বন্দর পরিকাঠামো, আধুনিক জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা এবং প্রাণবন্ত সামুদ্রিক শিল্পের সহায়তায় ভারতের দক্ষিণ এশিয়ায় সমুদ্র-কেন্দ্রিক নেতৃত্বে আসীন হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।
বক্তব্যের শেষে শ্রী ঠাকুর বলেন, সমুদ্র-কেন্দ্রিক শিল্প ভারতের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি দেশের এই উচ্চাভিলাষী সমুদ্র-কেন্দ্রিক স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

******
SSS/PK/6.3.26
(রিলিজ আইডি: 2236174)
ভিজিটরের কাউন্টার : 22