PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

স্টার্টআপগুলির বাস্তব প্রয়োগের প্রদর্শন

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 20 FEB 2026 1:53PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

 

ভূমিকা

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর আরেকটি প্রাণবন্ত দিন দর্শকদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করে দর্শনার্থীরা উদ্ভাবন পর্যবেক্ষণ করেন এবং আলোচনায় অংশ নেন।

প্রদর্শনী স্টলে প্রাথমিক আলাপচারিতা থেকে নীতি নির্ধারক ও উদ্ভাবকদের প্রাণবন্ত আলোচনা পর্যন্ত দিনটি গতিময় ছিল। সরাসরি প্রদর্শনের চারপাশে ছোট ছোট দল জড়ো হয়। একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে দৈনন্দিন ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠছে।

সরকার উদীয়মান প্রযুক্তিকে জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য প্রয়োগে রূপান্তরের ওপর যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তারই প্রতিফলন দেখা যায় এই প্রদর্শনীতে। এখানে ধারণা শুধু উপস্থাপন করা হয়নি। বাস্তব প্রয়োগ দেখানো হয়েছে, পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আলোচনা হয়েছে।

এই বাস্তবমুখী পরিবেশে সামিট কেবল আলোচনার ক্ষেত্র হয়ে থাকেনি। এটি সমাধানকেন্দ্রিক একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা স্টার্টআপ, গবেষক, শিল্প নেতৃত্ব ও উদ্ভাবকেরা এখানে একত্রিত হন। পরিবহন, শিক্ষা, প্রশাসন, পরিকাঠামো-সহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী সমাধান তৈরির বৃহত্তর জাতীয় প্রয়াসের প্রতিফলনও এতে দেখা যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়তায় শিক্ষার প্রস্তুতি

প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করলে একটি স্ক্রিনের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সেখানে একটি অধ্যয়ন ড্যাশবোর্ড প্রদর্শিত হচ্ছিল।

এই প্ল্যাটফর্মের নাম সাথী (SATHEE - Self Assessment, Test and Help for Entrance Exams)। শিক্ষা মন্ত্রক এবং আইআইটি কানপুরের উদ্যোগে ২০২৩ সালে এটি শুরু হয়। আটটি বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও পরামর্শ সহায়তা এখানে দেওয়া হয়। পরীক্ষাগুলি হল - JEE, NEET, CLAT, ICAR, CUET, SSC, RRB এবং IBPS।

প্ল্যাটফর্মটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- ভিত্তিক সন্দেহ নিরসন, অধ্যয়ন পরিকল্পনা তৈরি, বিভ্রান্তি শনাক্তকরণ এবং বক্তৃতার সারাংশ প্রস্তুতির সুবিধা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করে না, এই বাস্তবতা মাথায় রেখে নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বাড়িতে বসেই যে কোনো সময় পড়াশোনার সুযোগ এখানে রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের উপলব্ধ সময় অনুযায়ী, ব্যক্তিগত অধ্যয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। বক্তৃতার নথি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও সারাংশ তুলে ধরা হয় এবং বারবার হওয়া ধারণাগত বিভ্রান্তি চিহ্নিত করা হয়। বর্তমানে ১৩টি ভারতীয় ভাষায় বিষয়বস্তু উপলব্ধ। আরও ভাষা যুক্ত করার কাজ চলছে।

নির্বাচিত সরকারি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল মিলেছে। JEE-তে উত্তীর্ণের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ এবং NEET-এ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বেসরকারি কোচিং-এর সুযোগ না থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য।

ক্যামেরাকে বুদ্ধিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপান্তর

প্রদর্শনীর আরেক অংশে শিক্ষার প্রসঙ্গ থেকে আলোচনা সরে আসে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে।

গুরগাঁও-ভিত্তিক সংস্থা iiris : Value Catalysts-এর স্টলে সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযুক্তির পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। কোনো গুদাম বা সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রথমে পূর্ণাঙ্গ ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। তার ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা সমাধান তৈরি করা হয়।

নতুন যন্ত্র বসানোর পরিবর্তে প্রচলিত ক্যামেরা ব্যবস্থার সঙ্গে সফটওয়্যার যুক্ত করে উন্নত করা হয়। আগে নজরদারির জন্য মানুষের ওপর নির্ভর করতে হত। কোনো ঘটনা ঘটলে পুরো রেকর্ডিং খতিয়ে দেখা ছাড়া উপায় থাকত না। এতে সময় ও শ্রম দুটিই বেশি লাগত।

বর্তমানে সংস্থাটি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের নিরাপত্তা মূল্যায়নের কাজ করছে। এর মধ্যে মথুরার বৃন্দাবন চন্দ্রোদয় মন্দিরও রয়েছে। অভিজ্ঞ পেশাদারদের সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে পরিকল্পিত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণই মূল লক্ষ্য।

রেললাইনের ত্রুটি পূর্বেই চিহ্নিত

রেল নিরাপত্তা বিষয়ক স্টলেও দর্শকদের ভিড় ছিল। রেল ল্যাবস সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাক পরীক্ষণ যন্ত্র আরিস্তা (Arista) প্রদর্শন করেন।

এই যন্ত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়তায় রেললাইনের ত্রুটি পরীক্ষা করে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ফাটল চিহ্নিত করা হয়। লেজার প্রযুক্তি দিয়ে লাইনের গঠন বিশ্লেষণ করা হয় এবং ক্যামেরা দিয়ে অন্যান্য ত্রুটি ধরা হয়। ফিশ প্লেট অনুপস্থিত থাকা, বা গঠনগত সমস্যা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত হয়।

মানবশ্রমের তুলনায় পরীক্ষার দক্ষতা প্রায় ২০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

সংস্থার আরেকটি পণ্য চক্রব্যুহ (ChakrVue) ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি ট্রেনের চাকার ক্ষয় বা ভাঙনের সম্ভাবনা আগে থেকে জানাতে পারে। ফলে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। মুম্বই, আগরতলা ও রাঁচি-সহ বিভিন্ন শহরে এলএইচবি এবং তেজস কোচে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

উপসংহার

সন্ধ্যা নামার পরও দর্শকদের আগ্রহ কমেনি। অনেকে বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং প্রশ্ন করেন। এই শিখর সম্মেলন তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয় না। বরং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে বুদ্ধিমান ব্যবস্থার ধীর সংযুক্তির ছবি তুলে ধরে। পরিবহন ব্যবস্থা, মন্দির চত্বর, শ্রেণীকক্ষ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান কাঠামোর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হচ্ছে। এতে দক্ষতা, নিরাপত্তা ও পরিষেবার নাগাল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই ধীর কিন্তু স্থায়ী সংযুক্তির মধ্যেই ভারতের উন্নয়নযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা নিহিত।

তথ্যসূত্র

Others

https://impact.indiaai.gov.in/

Click here to see PDF

*****

PS/Agt


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2231621) ভিজিটরদের কাউন্টার : 6
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English