দক্ষতা বিকাশ ও উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

“উত্তর-পূর্ব ভারতের যুবসমাজ ভারতের দক্ষ কর্মশক্তিকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত”: জয়ন্ত চৌধুরী

ইন্ডিয়া স্কিলস আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ২০২৫–২০২৬, আসামে ২৬টি দক্ষতা বিভাগে উত্তর-পূর্বের আট রাজ্যের যুবাদের একত্রিত করেছে 

प्रविष्टि तिथि: 19 JAN 2026 1:54PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬: কেন্দ্রীয় সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রী জয়ন্ত চৌধুরী আজ আসামের গুয়াহাটির বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভিত্তিক ইন্ডিয়া স্কিলস আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ২০২৫–২৬'এর উদ্বোধন করেন। এই প্রতিযোগিতায় উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের যুবক-যুবতীরা ২৬টি বিভিন্ন দক্ষতা বিভাগে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন।

দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রক (এম এস ডি ই) তার বাস্তবায়নকারী অংশীদার ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএসডিসি)'র সহযোগিতায়, প্রথমবারের মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের প্রিমিয়ার দক্ষতা চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের তরুণ প্রতিভারা নিজেদের এলাকাতেই জাতীয় স্তরের দক্ষতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের এক মূল্যবান সুযোগ পাচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: ননী গোপাল মহন্ত, অসম সরকারের বর্ডার প্রোটেকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন দপ্তর, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা দপ্তর এবং শ্রম কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব শ্রী জ্ঞানেন্দ্র দেব ত্রিপাঠী (আইএএস), এবং ভারত সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীমতী হেনা উসমান। দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে যুক্ত স্কিলিং ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন অংশীদার এবং উচ্চ পদস্থ আধিকারিকগণও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতি ধারাবাহিক গুরুত্ব—যা ঘন ঘন সফর ও নীতিগত অগ্রাধিকারের মাধ্যমে প্রতিফলিত, এই অঞ্চলের যুবসমাজের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। ইন্ডিয়ান স্কিলস এর মতো উদ্যোগ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করে, কারণ এর মাধ্যমে জাতীয় মঞ্চ সরাসরি উত্তর পূর্বাঞ্চলের তরুণ প্রতিভাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

শ্রী জয়ন্ত চৌধুরী বলেন,
“ইন্ডিয়া স্কিলস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি উৎকর্ষ, শৃঙ্খলা এবং শ্রমের মর্যাদার এক উদযাপন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিপুল প্রতিভা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, এবং এই মঞ্চ প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলের যুবসমাজ ভারতের দক্ষ কর্মশক্তিকে নেতৃত্ব দিতে এবং দেশের উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে প্রস্তুত।”

মন্ত্রী জাতীয় শিক্ষা নীতি (এন ই পি) ২০২০-এর আলোকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও দক্ষতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়া এবং আজীবন শিক্ষার নতুন পথ খুলে যায়, পাশাপাশি দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতির জন্য যুবসমাজ আরও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত হয়ে ওঠে।

প্রতিযোগিতার বাইরেও এই আঞ্চলিক অনুষ্ঠানটি স্কিল ইন্ডিয়া মিশনএর অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্কিলিং ইকোসিস্টেমের ধারাবাহিক শক্তিশালীকরণের প্রতিফলন। শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (আইটিআই) এবং জাতীয় দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (এনএসটিআই)-সহ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেনিং (ডিজিটি)-এর অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একাধিক দক্ষতা বিভাগে অংশগ্রহণ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদি বৃত্তিমূলক শিক্ষার সঙ্গে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান সমন্বয়কে তুলে ধরে।

এই উত্তর-পূর্ব আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় আটটি রাজ্য থেকে মোট ১৬২ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন, যা অঞ্চলের শক্তিশালী অংশগ্রহণ ও প্রতিভার বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। প্রতিযোগিতায় আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী নানা দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—যেমন অটোমোবাইল টেকনোলজি, ক্লাউড কম্পিউটিং, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ও ওয়েব টেকনোলজি, ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স, সিএনসি মিলিং ও টার্নিং, ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন, ফ্যাশন টেকনোলজি, বেকারি ও প্যাটিসেরি, হোটেল রিসেপশন, রেস্টুরেন্ট সার্ভিস, হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, রিটেল সেলস এবং ভিজ্যুয়াল মার্চেন্ডাইজিং।

এই প্রতিযোগিতার দক্ষতার বৈচিত্র্য দেখায় যে অটোমোবাইল টেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, সিএনসি, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন ও ওয়েল্ডিং-এর মতো ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ-প্রধান প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে, ডিজিটাল দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের শক্তিশালী সংযোগ ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ভিত্তিক কর্মসংস্থানের জন্য যুবসমাজকে প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্য ও খুচরো বিক্রয় সম্পর্কিত দক্ষতাগুলির উপস্থিতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি ক্ষেত্র, বিশেষত পর্যটন ও পরিষেবা খাতের সঙ্গে স্কিলিং উদ্যোগের সামঞ্জস্যকে তুলে ধরে। ইন্ডিয়া স্কিলের  মতো প্ল্যাটফর্ম আঞ্চলিক প্রতিভাকে শিল্পের চাহিদা ও জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইন্ডিয়া স্কিলস প্রতিযোগিতাটি একটি কাঠামোবদ্ধ, বহুস্তরীয় মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, যার লক্ষ্য সারা দেশের সেরা প্রতিভাদের চিহ্নিত ও বিকশিত করা। প্রথমে প্রার্থীদের জেলা স্তরে মূল্যায়ন করা হয়, এরপর রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা আঞ্চলিক পর্যায়ে অংশ নেন। আঞ্চলিক স্তরের শীর্ষ পারফর্মাররা ইন্ডিয়া স্কিলস এর জাতীয় প্রতিযোগিতার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন, যেখানে তাদের জাতীয় মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়। নির্বাচিত বিজয়ীরা চলতি বছরের ২২–২৭ সেপ্টেম্বর  সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড স্কিলস কম্পিটিশন অর্থাৎ বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায়  ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।

 

 

 

 

 

*****

PS/PKS/KMD


(रिलीज़ आईडी: 2216172) आगंतुक पटल : 5
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English