শক্তি মন্ত্রক
দেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক পরিচালনার উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মনোহর লাল
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
23 DEC 2025 5:37PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ২৩ ডিসেম্বর,২০২৫: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ, আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী মনোহর লাল আজ ২০০০ মেগাওয়াট ( ৮×২৫০) সুবনসিরি লোয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ইউনিট-২ (২৫০ মেগাওয়াট)-এর বাণিজ্যিক পরিচালনার উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, এই ইউনিটটি চালু করা কেবল একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দলগত পরিশ্রমের প্রমাণ। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সুবনসিরি প্রকল্পটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থায়ী শক্তির প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতির প্রতীক যা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিকাশকে সমর্থন করে, জাতীয় গ্রিডকে শক্তিশালী করে এবং ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব শ্রী পঙ্কজ আগরওয়াল, এন.এইচ.পি.সি'র সি.এম.ডি শ্রী ভূপেন্দর গুপ্ত এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রক ও এন.এইচ.পি.সি'র অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রী পঙ্কজ আগরওয়াল এন. এইচ. পি. সি-র সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, সুবনসিরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপক উন্নতি করবে এবং অত্যাধুনিক, সুস্থায়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ হিসাবে কাজ করবে। তিনি বাকি ইউনিটগুলি সময়মতো চালু করার উপর জোর দিয়ে বলেন, সুবনসিরি প্রকল্পটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য যথেষ্ট আর্থ-সামাজিক সুবিধা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এন.এইচ.পি.সি'র সি.এম.ডি শ্রী ভূপেন্দর গুপ্ত বিদ্যুৎ মন্ত্রক, অরুণাচল প্রদেশ ও অসম সরকার, এন.এইচ.পি.সি'র প্রাক্তন নেতৃত্ব, সমগ্র সুবনসিরি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যুক্ত সমস্ত টিম, সমস্ত মূল অংশীদারদের এই মাইলফলক অর্জনে তাদের অফুরন্ত সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডকে শক্তিশালী করবে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুস্থায়ী উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সরবরাহ করবে।
ইউনিট - ২ চালু হবার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পটি শীঘ্রই ২৫০ মেগাওয়াটের ৩ টি ইউনিট চালু করার দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে । ২০২৬ - ২৭ সালের মধ্যে বাকি চারটি ইউনিট পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়ার পরে ২০০০মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সুবানসিরি লোয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে, জাতীয় গ্রিডের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করবে এবং ব্যাপক পরিচ্ছন্ন শক্তির অবদানের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।
ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসাবে, সুবানসিরি লোয়ার প্রকল্পে ২৫০ মেগাওয়াটের ৮টি ইউনিট রয়েছে এবং এটি রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্প হিসাবে ডিজাইন করা হয়েছে, আটটি হেড রেস টানেলের (এইচ.আর.টি) মাধ্যমে জল ঘুরিয়ে বার্ষিক ৭,৪২২ মিলিয়ন ইউনিট (এম.ইউ) পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ভারতের সবুজ শক্তি ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এই প্রকল্পে উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম বাঁধ, একটি ১১৬ মিটার উঁচু কংক্রিটের বাঁধ রয়েছে, যা আঞ্চলিক পরিকাঠামো এবং গ্রিড স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার পাশাপাশি সুবানসিরি নদী অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জল ব্যবস্থাপনাও বাড়ায়।
এন.এইচ.পি.সি সুবানসিরি বিস্তৃত নদীর তীর সুরক্ষা এবং ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে, ৩০ কিলোমিটার ডাউনস্ট্রিম পর্যন্ত কাজ শেষ করেছে এবং সেগুলি ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত করেছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৫২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এটি কার্যকরভাবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নদীর তীরকে স্থিতিশীল করেছে। তাছাড়াও, এন.এইচ.পি.সি ইরমার সহযোগিতায় শূকর পালন, রেশম চাষ এবং হস্তচালিত তাঁতের শিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আত্ম সামাজিক মান উন্নয়নে প্রভূত সহায়তা করছে। এই উদ্যোগগুলি বর্তমানে প্রায় ৫,০০০ মহিলা কৃষককে উপকৃত করছে এবং এই অঞ্চলে সুস্থায়ী আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো সুনিশ্চিত করছে।
দেশের ১৬ টি রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়াও, সুবানসিরি প্রকল্পটি অরুণাচল প্রদেশ ও অসমকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে, যা আঞ্চলিক শক্তির প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করবে।
প্রকল্পটি নির্মাণের পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৭,০০০ স্থানীয় মানুষকে নিযুক্ত করে এবং ঠিকাদার, পরিষেবা প্রদানকারী এবং স্থানীয় বাজারের মাধ্যমে অসংখ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করে এই অঞ্চলের জন্য শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক সুবিধা তৈরি করেছে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার সাথে সাথে এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রাপ্যতার সাথে, নতুন ক্ষুদ্র শিল্পের উত্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগকে আরও প্রসারিত করবে। উপরন্তু, এই প্রকল্পটি পর্যটন বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এন.এইচ.পি.সি অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমে সি.এস.আর উদ্যোগে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এই অর্থ দিয়ে মূল কাজগুলির মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ বিদ্যালয় অভিযানের মাধ্যমে ৩,১২৯টি শৌচাগার নির্মাণ, দোলুংমুখ-এ ২৫০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য একটি বিবেকানন্দ কেন্দ্র বিদ্যালয় স্থাপন, ১,৮৪১টি স্থানে নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা এবং ৯টি স্থানে স্যানিটেশন সহ পরিশোধিত জল সরবরাহ এবং ঐ দুই রাজ্যে বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি হল, মিটিং হল, সেতুপথ এবং জল সরবরাহ প্রকল্পের মতো একাধিক গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
গত পাঁচ দশক ধরে, এন.এইচ.পি.সি সফলভাবে কয়েকটি চ্যালেঞ্জিং ভূখণ্ডে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে এবং সৌর, বায়ু এবং সবুজ হাইড্রোজেনে বৈচিত্র্যময় করেছে, যা ১০০ শতাংশ গ্রীন এনার্জি সংস্থা হিসাবে কোম্পানি তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। ৩০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৮৩৩৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন মোট ৯৭০৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৪ টি প্রকল্প সহ, এন.এইচ.পি.সি ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং জাতীয় শক্তি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
*****
PS/PKS/KMD
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2207995)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 46