প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে হায়দ্রাবাদে স্যাফ্রন এয়ারক্র্যাফট ইঞ্জিন সার্ভিসেস ইন্ডিয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী
प्रविष्टि तिथि:
26 NOV 2025 12:05PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে হায়দ্রাবাদে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের জিএমআর এয়ারোস্পেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এসইজেড-এ অবস্থিত স্যাফ্রন এয়ারক্র্যাফট ইঞ্জিন সার্ভিসেস ইন্ডিয়ার উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে নতুন যাত্রা শুরু হল। সাফ্রানের এই নতুন কেন্দ্র ভারতকে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও পুনর্গঠনের এক বিশ্বজনীন হাবে পরিণত হতে সাহায্য করবে। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির সুবিধা উচ্চ প্রযুক্তির মহাকাশ খাতে যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গত ২৪ নভেম্বর স্যাফ্রনের পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এর আগেও প্রতিটি বৈঠকে তিনি ভারত নিয়ে স্যাফ্রনের পরিচালকদের আত্মবিশ্বাস ও আশা লক্ষ করেছেন। ভারতে স্যাফ্রনের বিনিয়োগ একইভাবে চলতে থাকবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। নতুন এই কেন্দ্রের জন্য প্রধানমন্ত্রী টিম স্যাফ্রনকে তাঁর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নজিরবিহীন গতিতে ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটেছে। ভারত আজ বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল দেশীয় বিমান চলাচল বাজারগুলির একটি হয়ে উঠেছে। দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে এবং এর ফলে দেশে বিমান ভ্রমণের চাহিদাও বেড়ে চলেছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য বিমান সংস্থাগুলি তাদের বিমানের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি ১,৫০০টিরও বেশি নতুন বিমান কেনার জন্য বরাত দিয়েছে।
ভারতের বিমান চলাচল ক্ষেত্রের এই ব্যাপক সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গেই রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতি সংক্রান্ত সুবিধার চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ভারতের বিমানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতি সংক্রান্ত কাজের প্রায় ৮৫% বিদেশে করানো হত। এতে খরচ বাড়তো, সময়ও বেশি লাগতো। বিমানগুলিকে দীর্ঘ সময় মাটিতে বসিয়ে রাখতে হত। সেই জন্যই সরকার দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান রক্ষণাবেক্ষণ মেরামতি ও পুনর্গঠন কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ হাতে নেয়। এই প্রথম বিশ্বস্তরের কোনও সংস্থা ভারতে গভীর পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে স্যাফ্রনের প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় ও অংশীদারিত্ব আগামীদিনে এমন এক কর্মীশক্তি গড়ে তুলবে যা সমগ্র বিমান রক্ষণাবেক্ষণ মেরামতি ও পুনর্গঠন পরিমণ্ডলকে নতুন গতি ও দিশা দেবে। স্যাফ্রনের এই কেন্দ্রের জন্য দক্ষিণ ভারতের যুব সমাজের সামনে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন। শুধু বিমান ক্ষেত্রের রক্ষণাবেক্ষণ মেরামতি ও পুনর্গঠনের মধ্যে আটকে না থেকে জাহাজ ক্ষেত্রেও এই পরিষেবা গড়ে তোলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রে “ডিজাইন ইন ইন্ডিয়া”র ভাবনার প্রসার ঘটাচ্ছে। তিনি স্যাফ্রনকেও ভারতে বিমান ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ ডিজাইন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান। ভারতের বিশাল এমএসএমই নেটওয়ার্ক এবং তরুণ প্রতিভা এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্যাফ্রন এরোস্পেস প্রপালশন সিস্টেম নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে কাজ করে, তাতে ভারতের তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়ারও অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ভারত শুধু বড় মাপের স্বপ্নই দেখে না, তা অর্জন করতে সাহসী সিদ্ধান্তও নেয়। দেশে ব্যবসা করার সহজতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজনীন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে স্বাধীন ভারতে এ পর্যন্ত সব থেকে বড় বেশ কিছু সংস্কার তাঁর সরকার করেছে। অর্থনীতির দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলিকে আরও মজবুত করা হয়েছে এবং সহজে ব্যবসা করার পরিবেশকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষার মতো যেসব ক্ষেত্রে আগে বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রবেশাধিকার ছিল না, সেখানেও ৭৪ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। মহাকাশ ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এইসব পদক্ষেপ বিশ্বকে এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে ভারত বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়, উদ্ভাবনকে স্বাগত জানায়। উৎপাদন ভিত্তিক উৎসাহদান প্রকল্প সারা বিশ্বের উৎপাদকদের মেক ইন ইন্ডিয়ার প্রতি আকৃষ্ট করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১১ বছরে কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রে ৪০,০০০-এরও বেশি বিধিগত বাধ্যবাধকতার অবসান ঘটানো হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে ব্যবসা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনকে ফৌজদারি অপরাধের আওতার বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। জাতীয় এক জানালা পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য অনুমোদনকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হয়েছে। জিএসটি সংস্কার, মুখবিহীন কর নির্ধারণ, নতুন শ্রমবিধি, নতুন দেউলিয়া বিধি এই সব কিছুই শাসন ব্যবস্থাকে আগের থেকে সহজ ও স্বচ্ছ করেছে।
ভারতে দ্রুত বিকাশ, সুস্থিত সরকার, সংস্কারমুখী মানসিকতা, বিপুল তরুণ প্রতিভা এবং এক বিশাল দেশীয় বাজার রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারতে যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, ভারত তাঁদের শুধু বিনিয়োগকারী হিসেবে নয়, উন্নত ভারতের যাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে গণ্য করবে। এই দশকে ভারতের ওপর বাজি ধরায় সব থেকে স্মার্ট ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী শ্রী রেবন্ত রেড্ডি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী কে রাম মোহন নাইডু প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
*****
PS/Agt
(रिलीज़ आईडी: 2195132)
आगंतुक पटल : 4
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English