বস্ত্রমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

১১তম জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস, ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা

প্রকাশিত: 05 AUG 2025 2:11PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ৫ আগস্ট, ২০২৫

 

২০২৫ সালের ১১তম জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উদযাপন আজ কলকাতার জে. ডি. বিরলা ইনস্টিটিউট-এ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের  ক্ষুদ্র ও মধ্যমানের উদ্যোগ বা MSME ও  বস্ত্র বিভাগের তন্তু শাখার যুগ্ম নির্দেশক শ্রী আশীষ নারায়ণ ব্যানার্জি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল ভি. এন. চতুর্বেদী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, শিল্প বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপকবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীরা।

শ্রী ব্যানার্জি তাঁর ভাষণে পশ্চিমবঙ্গে হ্যান্ডলুম খাতে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১০,০০০-এরও বেশি ওয়ার্কশেড বয়ন শিল্পীদের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে তসর সিল্ক ও মালবেরি সিল্ক ভিত্তিক হ্যান্ডলুমের চাহিদা ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আর-ও জানান, শুধুমাত্র মালদা জেলা থেকেই রাজ্যের মোট রেশম উৎপাদনের প্রায় ১৫% আসে।

তিনি নকশা উন্নয়ন ও পণ্যের বৈচিত্রায়নের উপর বিশেষ জোর দেন এবং এ ক্ষেত্রে তন্তুুজর অগ্রণী ভূমিকা তুলে ধরেন। বাংলার ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, বলে তিনি জানান। বস্তুত, রাজ্যে বর্তমানে ৫০০-রও বেশি "প্রাইমারি উইভারস কো-অপারেটিভ সোসাইটি" সক্রিয়ভাবে শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব রং ব্যবহার, দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বিকাশ কর্মসূচি পরিচালিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, NIFT কলকাতা ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সহযোগিতায় তন্তো শিল্পে উদ্ভাবন, নকশা উন্নয়ন ও গবেষণামূলক কাজ এগিয়ে চলেছে।

শ্রী চতুর্বেদী তাঁর বক্তব্যে তাঁতশিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার আগে ভারতের জিডিপি-র প্রায় ১৪% এই খাত থেকে আসত। তিনি হ্যান্ডলুম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত ও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তবে, এর ঐতিহ্যও যেন বজায় থাকে, সে দিকেও গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যান্য বক্তারা জানান, বর্তমানে মেগা হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার প্রোগ্রাম, স্মল ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি-র মাধ্যমে হ্যান্ডলুম শিল্পে দক্ষতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে সাতটি সক্রিয় হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার রয়েছে এবং ৬ লক্ষেরও বেশি বুনন শিল্পী এই শিল্পে জড়িত। দক্ষতা উন্নয়নে তিনটি মূল বিভাগ: বুনন (Weaving), নকশা উন্নয়ন (Design Development) এবং মুদ্রণ (Printing)-এ কাজ হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক অ্যাডভান্সমেন্ট মেশিন চালু করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারিগরদের তা ব্যবহারে সহায়তা করা হচ্ছে। বাজারজাতকরণে সহায়তা, কাঁচামালের ভর্তুকি এবং সরকারি প্রকল্পের আওতায়ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি, শিল্পীদের প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা ও প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা-র আওতায় বিনা খরচে বিমা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, যেসব শিল্পীর সন্তানরা উচ্চশিক্ষা বা বুনন প্রযুক্তি অধ্যয়ন করছে, তাদের আর্থিক সহায়তা ও মুদ্রা যোজনা (MUDRA Scheme)-র মাধ্যমে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষ হয় ভারতের তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য রক্ষা এবং তার সুস্থায়ীত্ব ও বাজার উপযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।


***

 

SSS/PK


(রিলিজ আইডি: 2152532) ভিজিটরের কাউন্টার : 20
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English