খনি মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় উত্তর-পূর্ব খনি মন্ত্রীদের সম্মেলনের উদ্বোধন

কেন্দ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিজ ও কয়লা সম্ভাব্যতা উন্মুক্ত করতে পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে

प्रविष्टि तिथि: 27 JUN 2025 5:19PM by PIB Agartala

গুয়াহাটি, ২৭জুন, ২০২৫: অসমের গুয়াহাটিতে আজ দ্বিতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খনি মন্ত্রীদের সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিজ ও কয়লার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী, কয়লা ও খনি প্রতিমন্ত্রী,  এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিরা। অন্বেষণ কার্যক্রম, টেকসই খনির অনুশীলন এবং এই অঞ্চলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রদর্শন করে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

মূল বক্তব্য প্রদান করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন যে, রাজ্য ডিমা হাসাও জেলার উমরাঙ্গসো এলাকায় সাতটি চুনাপাথর ব্লকের নিলাম শুরু করেছে, যার মধ্যে পাঁচটি ইতিমধ্যে নিলাম করা হয়েছে এবং লেটার অফ ইন্টেন্ট জারি করা হয়েছে এবং বাকি দুটি ২০২৫ সালের আগস্টের মধ্যে নিলামে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আস্থা প্রকাশ করেন যে, ভারত সরকার এবং ভারতীয় খনি ব্যুরোর সহায়তায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই চুনাপাথর ব্লকগুলির মধ্যে অন্তত একটি চালু করা যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়, খনি ও খনিজ বিভাগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে ১৪ টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। তিনি  আসামে অনুকূল কাজের পরিবেশের আশ্বাস দেন এবং ঘোষণা করেন যে রাজ্য মন্ত্রিসভা টেকসই খনন এবং ক্ষুদ্র খনিজগুলির অনুসন্ধানের জন্য অসম রাজ্য খনিজ ট্রাস্ট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অসম খনিজ নীতি রূপায়ণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এক মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উপর জোর দিয়ে তিনি শিক্ষা, পানীয় জল, স্যানিটেশন, মহিলা ও শিশুদের কল্যাণ, প্রবীণ নাগরিক এবং দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী খনিজ ক্ষেত্র কল্যাণ যোজনার (পি.এম.কে.কে.কে.ওয়াই) আওতায় সম্প্রদায়-স্তরের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি করতে ভারত সরকারের সহায়তায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমস্ত রাজ্যগুলিকে সক্রিয়ভাবে খনিজ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী শ্রী জি কিষাণ রেড্ডি ভারতের খনি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলি এখন অব্যবহৃত সম্পদকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ক্ষমতায়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করার দিকে মনোনিবেশ করছে। মন্ত্রী সমস্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে রাজ্য-নির্দিষ্ট খনির কর্মপরিকল্পনা বিকাশের জন্য কেন্দ্রের পূর্ণ সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পরিবেশগতভাবে দায়বদ্ধ, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত খনির অনুশীলনের গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি দুর্যোগ মোকাবেলা প্রস্তুতি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সম্প্রদায়ের উন্নয়নের সঙ্গে খনিজ উদ্যোগের সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

কয়লা ও খনি প্রতিমন্ত্রী শ্রী সতীশ চন্দ্র দুবে তাঁর ভাষণে এই সম্মেলনকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের দিকে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অসম, মেঘালয় এবং সিকিম জুড়ে প্রচুর পরিমাণে চুনাপাথর ও অক্সাইডের মজুতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খনি থেকে কেবল কর্মসংস্থানই হয় না, আত্মনির্ভর ভারত গঠনেও সরাসরি অবদান রাখে। তিনি অসম এবং অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।

কয়লা মন্ত্রকের সচিব শ্রী বিক্রম দেব দত্ত তাঁর ভাষণে অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম এবং সিকিম জুড়ে সমৃদ্ধ  কয়লার ভান্ডারের কারণে ভারতের জ্বালানি সুরক্ষার জন্য উত্তর-পূর্বের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কয়লা ভান্ডার উচ্চ ক্যালোরিফিক মানের, কম ছাই এবং তুলনামূলকভাবে সালফারের পরিমাণ বেশি। তিনি বলেন, অনুসন্ধানের জন্য কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের অর্থায়নে প্রকল্পগুলির আওতায় ১০ শতাংশ তহবিল বিশেষভাবে উত্তর-পূর্বের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যযুক্ত অনুসন্ধান উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। সচিব আরও জানান যে, এই অঞ্চলের পাঁচটি কয়লা ব্লক সফলভাবে নিলাম করা হয়েছে, যার বার্ষিক ১.২ মিলিয়ন টন সম্মিলিত ক্ষমতা রয়েছে, যা প্রায় ১,৬৫০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং রাজ্যগুলির জন্য বার্ষিক রাজস্ব দাঁড়াবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা । তিনি পুনরায় বলেন যে, এই অঞ্চলে মন্ত্রকের কয়লা উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্থায়িত্ব।

খনি মন্ত্রকের সচিব শ্রী ভি এল কান্তা রাও বলেন, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৩৬,০০০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করেছে, যেখানে খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অসম এখন দৃঢ়ভাবে জাতীয় নিলামের মানচিত্রে প্রবেশ করেছে, যা খনিজ উন্নয়নের জন্য এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দেয়। তিনি খনিজ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সহ অনুসন্ধান ও গবেষণার সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ন্যাশনাল মিনারেল এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্টের অধীনে অনুমোদিত ভারতের প্রথম এআই-সমর্থিত অনুসন্ধান প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি রয়েছে। সচিব সমস্ত রাজ্য সরকারগুলিকে চ্যালেঞ্জিং ভূসংস্থান বিবেচনা করে সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধানের সুবিধার্থে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত ভূতাত্ত্বিকদের স্থায়িত্ব ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অধিবেশনে, উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে আটটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের বিশাল অথচ অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদের বিশদ বিবরণ রয়েছে, যা কৌশলগত অনুসন্ধান, গবেষণা, বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য রোডম্যাপ স্থাপন করেছে। ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইন্স দ্বারা ভারতের উত্তর-পূর্বে খনন সম্পর্কিত নথিটিও প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রক ভবিষ্যতের বিনিয়োগের জন্য ডিব্রুগড় (অসম), পূর্ব কামেং (অরুণাচল প্রদেশ), কামজং (মণিপুর), পূর্ব গারো (মেঘালয়), আইজল (মিজোরাম), ফেক (নাগাল্যান্ড), নামচি (সিকিম) এবং গোমতী (ত্রিপুরা)-কে নিয়ে নতুন জেলা সম্পদ মানচিত্র প্রকাশ করেছে। একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী একটি নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের জন্য উত্তর গুয়াহাটিতে ২বিঘা জমি জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছেন। আঞ্চলিক উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য তিরাপ ও টিকোক  কয়লা খনির সম্প্রসারণের জন্য কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যানের কাছে বরাদ্দ পত্রও হস্তান্তর করা হয়।

উদ্বোধনী অধিবেশনে অসমের খনি মন্ত্রী শ্রী কৌশিক রাই, সিকিমের খনি মন্ত্রী শ্রী পিন্টসো নামগিয়াল লেপচা, অরুণাচল প্রদেশের খনি মন্ত্রী শ্রী ওয়াংকি লোয়াং, নাগাল্যান্ডের বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা শ্রী ডব্লিউ চিঙ্গাং কোনিয়াক, মেঘালয়ের বিদ্যুৎ মন্ত্রী শ্রী এ টি মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী দিনে অনুসন্ধান কার্যক্রম,  সংস্কার, ইনসেনটিভ ,টেকসই কয়লা খনন, উত্তর-পূর্বে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা এবং খনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত অধিবেশনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের খনি ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা, রাজ্যের খনি মন্ত্রীদের বক্তৃতা এবং দায়িত্বশীল খনিজ উন্নয়নের জন্য সহযোগিতামূলক কৌশল  ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারতের খনিজ নিলাম কাঠামো জোরালো গতি অর্জন করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার মোট ২৮৩টি খনিজ ব্লক নিলামে তুলেছে। এর মধ্যে ১৬১টি খনিজ ব্লক সফলভাবে নিলাম করা হয়েছে, যার ফলে মোট খনিজ ব্লকের সংখ্যা ৫১৫-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে অসমের পাঁচটি খনিজ ব্লক এবং অরুণাচল প্রদেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ব্লক, যা এই অঞ্চলে শিল্প বিকাশ ও কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এই নিলামগুলি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কৌশলে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে উত্তর-পূর্বের প্রস্তুতির উপর জোর দেয়, পাশাপাশি সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলকতার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিও প্রতিফলিত করে। এই সম্মেলনটি বিকশিত ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিজ ও কয়লা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার জন্য অনুঘটক হিসাবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে নাগাল্যান্ডে প্রথম উত্তর-পূর্ব ভূতত্ত্ব ও খনি মন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

PS/KMD


(रिलीज़ आईडी: 2140716) आगंतुक पटल : 47
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English