স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ নতুন দিল্লিতে বিএসএফ-এর অষ্টাদশ অলঙ্করণ অনুষ্ঠানে বাহিনীর জওয়ানদের অদম্য সাহস, শৌর্য, বীরত্ব এবং অনন্য সেবার জন্য পদক দিয়ে সম্মানিত করেছেন; রুস্তমজী স্মারক বক্তৃতা দিয়েছেন

Posted On: 17 JUL 2021 10:21PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি,  ১৭ জুলাই, ২০২১

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ নতুন দিল্লিতে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) অষ্টাদশ অলঙ্করণ অনুষ্ঠানে জওয়ানদের অদম্য সাহস, শৌর্য, বীরত্ব ও অসামান্য সেবার জন্য পদক দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এই উপলক্ষে তিনি রুস্তমজী স্মারক বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানে বিএসএফ-এর ওপর চিত্রায়িত 'বাওয়া' তথ্যচিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই, মন্ত্রকের সচিব শ্রী অজয় কুমার, বিএসএফ-এর মহানির্দেশক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএসএফ-এর প্রথম মহানির্দেশক কে এফ রুস্তমজীকে যথোচিত শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ফলেই ভারত বিশ্ব মানচিত্রে গৌরবের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে। বিএসএফ-এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, কেবল শত্রু পক্ষের সঙ্গে মোকাবিলা করেই নয়, দেশের অগ্রগতির পথেও সমান তালে বাহিনী এগিয়ে চলেছে। শ্রী শাহ বলেন, ভারত বিশ্ব মানচিত্রে তার যথোচিত জায়গা করে নিয়েছে এবং এর পেছনে সম্মুখ ভাগে থাকা বাহিনীর প্রতিটি জওয়ানের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, সাহসী ও নির্ভীক যে জওয়ানরা শহীদ হয়েছেন, তাঁরা কখনোই বিস্মৃত হবেন না। লাদাখ সীমান্তে শূন্য থেকে ৪৫ ডিগ্রি নিচে চরম প্রতিকূল আবহাওয়াই হোক বা মরু অঞ্চলে ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা, নতুন কোন অববাহিকায় হোক বা গভীর অরণ্য, সুউচ্চ পর্বত শৃঙ্গই হোক বা পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা - বিএসএফ ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীগুলি সীমান্ত নিরাপত্তার কাজে সর্বদাই নিয়োজিত রয়েছে। বাহিনীর জওয়ানদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ভারত আজ বিশ্ব মানচিত্রে গর্বের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।
শ্রী শাহ বলেন, প্রয়াত রুস্তমজী এমন একটি বাহিনী গঠন করেছিলেন যা জওয়ানদের কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা, সদা-সতর্কতা ও আত্মত্যাগের কারণে দেশের সুরক্ষার কাছে এক অপরিহার্য স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। ১৯৬৫-র যুদ্ধের পর সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে ২৫টি ব্যাটেলিয়ন নিয়ে বিএসএফ-এর গোড়াপত্তন হয়। আজ বিএসএফ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এক মহিরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই বাহিনীতে ২ লক্ষ ৬৭ হাজার জওয়ান রয়েছেন, যাঁরা দেশের নিরাপত্তার কাজে অবিচল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএসএফ সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করেছে। বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ৬ বছরে যখন পূর্ব পাকিস্তানে সবরকম মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছিল, বর্বরোচিত অত্যাচার চলছিল, সেই সময় বিএসএফ-এর জওয়ানরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। আর এর ফল স্বরূপ আজ বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে এক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ ক্ষেত্রই হোক বা শান্তি প্রতিষ্ঠা বাহিনীর জওয়ানরা যাবতীয় পিছুটান দূরে সরিয়ে নিজেদের কর্তব্যে অটল থেকেছেন।
শ্রী শাহ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এটা অনুভূত হয়েছে উপকূল বরাবর এলাকায় এবং স্থলসীমান্ত বরাবর নিরাপত্তার কাজে একটি সুপরিকল্পিত সীমান্তরক্ষী বাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বহু বছর ধরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে কোন নীতি প্রনয়ণ করা হয়নি। অটল বিহারী বাজপেয়ি সরকারের জামানায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি গতি পায়। সেই প্রথমবার অটলজীর সরকার এক সীমান্ত এক বাহিনী নীতি প্রনয়ণ করে।
শ্রী শাহ বলেন, সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামোর কাজে মোদী সরকার যথোচিত গুরুত্ব দিয়েছে। একই ভাবে ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে সীমান্ত বরাবর ৪ হাজার ৭৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মিত হয়েছে। একই ভাবে সড়ক নির্মাণ খাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ ২০০৮-২০১৪ পর্যন্ত সময়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০১৪-২০২০-তে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। শ্রী শাহ বলেন, সীমান্ত এলাকায় মৌলিক পরিকাঠামোর যদি মানোন্নয়ন না করা হয়, তাহলে অনুপ্রবেশ ঘটতেই থাকবে। এর ফলে, জনবসতি শূন্য সীমান্ত এলাকার সুরক্ষার কাজ আরও জটিল হয়ে পড়বে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে ৭ হাজার ২৭০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মিত হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০১৪-২০ পর্যন্ত সময়ে দ্বিগুণের বেশি ১৪ হাজার ৪৫০ মিটার সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৮-১৪ পর্যন্ত সময়ে যেখানে একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ হয়েছিল, সেখানে ২০১৪-২০ পর্যন্ত সময়ে ৬টি নতুন সুড়ঙ্গ নির্মিত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান, ২০২২-এর আগেই সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার আর কোন এলাকা ফাঁকা থাকবে না।
সীমান্ত এলাকার উন্নয়নে মোদী সরকার একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী এলাকাগুলিতে অনুপ্রবেশ রুখতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে আগামী ২ বছরে ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সীমান্ত এলাকা বরাবর একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রী শাহ আরও জানান, সীমান্ত এলাকা বরাবর গ্রামগুলির উন্নয়নে আরও ভাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে আধাসামরিক বাহিনীর কাজকর্ম আরও মসৃণ করা যায়।
শ্রী শাহ বলেন, মোদী সরকারের আগে আমাদের কোন সার্বভৌম সুরক্ষা নীতি ছিল না। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা একটি স্বতন্ত্র সুরক্ষা নীতি প্রনয়ণ করেছি। তিনি বলেন, কার্যকর সুরক্ষা নীতি ছাড়া কোন দেশ উন্নয়ন করতে পারে না বা কোন গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। শ্রী শাহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলিকে সীমান্তের ওপারের গ্রামগুলি থেকে অনুপ্রবেশ রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
শ্রী শাহ বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা আসলে জাতীয় নিরাপত্তার অভিন্ন অঙ্গ। তাই একটি দেশের সীমান্ত এলাকা যদি সুরক্ষিত না হয়, তাহলে সেই দেশটি নিরাপদ থাকতে পারে না। ড্রোন আক্রমণের ক্রমবর্ধমান বিপদ সম্পর্কে শ্রী শাহ জানান, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা সহ একাধিক এজেন্সি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন আক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই ব্যবস্থার কার্যকরিতা যাচাই করে দেখার পর তা সীমান্ত এলাকাগুলিতে কাজে লাগানো হবে।
সুরক্ষা বাহিনীগুলির একাধিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএসএফ ১৫ বিনিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের মাদক, ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সোনা ও রূপা বাজেয়াপ্ত করেছে। এমনকি, ১৫ জন জঙ্গিকে খতম করেছে, পাশাপাশি ২ হাজার জঙ্গি ও অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে। সীমান্ত পারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বিপদ এবং রোবটিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে শ্রী শাহ বলেন, এধরণের প্রযুক্তি নির্ভর চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদী ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রনয়ণের পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রী শাহ বলেন, নকশাল দমন অভিযানেও নিরাপত্তা বাহিনীগুলি প্রশংসনীয় কাজ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিন উপকরণ চিহ্নিতকরণ, সুড়ঙ্গ খুঁজে বের করা, পোর্টেবল এনক্রিপটেড ট্যাকটিক্যাল মোবাইল কমিউনিকেশন এবং অ্যান্টি ড্রোন টেকনিক সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলতে বাহিনীর জওয়ানদের জন্য একাধিক হ্যাকাথন আয়োজন করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার কাজে প্রয়োজনীয় যাবতীয় সরঞ্জাম, উপকরণ ও প্রযুক্তির প্রয়োগের দিক থেকে আমরা আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে চাই। এই লক্ষ্যে উপরোক্ত বিষয়গুলি নিয়ে আয়োজিত হ্যাকাথনগুলি সুদূরপ্রসারি ভূমিকা নিতে পারে।

CG/BD/AS



(Release ID: 1736480) Visitor Counter : 41


Read this release in: English