স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক

কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে সত্য ও অসত্য তথ্য
আইসিএমআর – এর পক্ষ থেকে জারি করা কোভিড-১৯এ মৃত্যুর তথ্য যথাযথ লিপিবদ্ধকরণের নীতি-নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করতে বলা হয়েছে
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জেলাওয়াড়ি আক্রান্তের ঘটনা এবং দৈনিক-ভিত্তিতে মৃত্যুর সংখ্যার ওপর নজরদারির জন্য একটি উপযুক্ত ব্যবস্থা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে

Posted On: 12 JUN 2021 7:26PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১২ জুন,  ২০২১

আন্তর্জাতিক স্তরের একটি প্রখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে অনুমানের ভিত্তিতে ভারতে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় সম্ভবত ৫-৭ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনও প্রামাণ্য ভিত্তি ছাড়াই ভুল তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা নিবন্ধে প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, নিবন্ধটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ছাড়াই তথ্য সংযোজনের ভিত্তিতে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি, পত্রিকাটিতে সমীক্ষার মাধ্যমে আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যার ক্ষেত্রে যে সমস্ত পন্থা-পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলি কোনও দেশ বা অঞ্চলের মৃত্যু হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈধ নয়। এই পত্রিকায় তথাকথিত ‘প্রমাণ’ হিসাবে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্ভবত ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি ক্রিষ্টফার লাফরারের পরিচালিত একটি গবেষণা। পাবড্‌, রিসার্চ ডেট প্রভৃতির মতো বৈজ্ঞানিক ডেটাবেসে সমীক্ষামূলক অধ্যয়ন পত্রিকাটির সমীক্ষার পদ্ধতির সঙ্গে যথোপযুক্ত নয়। এমনকি, এই অধ্যয়নের বিশদ পদ্ধতি পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
পত্রিকাটিতে আরও যে একটি প্রমাণ দেওয়া হয়েছে, তা বিমার দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে তেলেঙ্গানায় পরিচালিত একটি সমীক্ষা সম্পর্কিত। এমনকি, পত্রিকার এই সমীক্ষাতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের পর্যালোচনার কোনও উল্লেখ নেই। সেফোলজি গ্রুপ, যারা ‘প্রসন্নম’ এবং ‘সি-ভোটার’ নামে পরিচিত, তারা ভোটের ফলাফলের আভাস বিশ্লেষণের কাজে যুক্ত। এই সংস্থার প্রকাশিত তথ্যকেও ঐ নিবন্ধে পরিসংখ্যান দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছে। সেফোলজি গ্রুপ কখনই জনস্বাস্থ্য গবেষণার কাজে যুক্ত ছিল না। এমনকি, সেফোলজির নিজস্ব ক্ষেত্রগুলিতেও ভোটের ফলাফল সংক্রান্ত আভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলিকে বারবার পরিবর্তন করেছে। পত্রিকাটির পক্ষ থেকে মৃত্যুর পরিসংখ্যান সম্পর্কে নিজেরাই স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তিমূলক এবং প্রায়শই স্থানীয় প্রশাসনের অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা।
কেন্দ্রীয় সরকার কোভিড তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বদাই স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাবের বিষয়টি নিরসনে ২০২০-র মে থেকেই ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পর্ষদ দেশে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনা লিপিবদ্ধকরণে যথোপযুক্ত নীতি-নির্দেশিকা জারি করেছে। এ ধরনের নীতি-নির্দেশিকা জারির উদ্দেশ্যই হ’ল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে আইসিডি-১০ নামে যে কোড বা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, তা প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা লিপিবদ্ধকরণে মেনে চলা। রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি-নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধকরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে।
এমনকি, স্বাস্থ্য মন্ত্রকও জেলাওয়াড়ি আক্রান্তের ঘটনা ও দৈনিক-ভিত্তিতে মৃত্যুর সংখ্যার ওপর কড়া নজরদারির জন্য এক উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। যে সমস্ত রাজ্য নিয়মিতভাবে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কম হয়েছে বলে জানিয়ে এসেছে তাদেরকে এ সংক্রান্ত তথ্য পুনারায় যাচাই করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একটি ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার বিহারকে জেলাওয়াড়ি আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার স্বতন্ত্র বিবরণ লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রককে জানাতে নির্দেশ দেয়।
এটা খুবই স্বাভাবিক যে, কোভিড মহামারীর মতো দীর্ঘ সময় ধরে চলা জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সঙ্কটের সময় মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে কিছুটা তারতম্য হতেই পারে। তবে, অত্যাধিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে গবেষণামূলক সমীক্ষাগুলি তখনই পরিচালিত হয়, যখন কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়। এ ধরনের গবেষণামূলক সমীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পন্থা-পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত এবং এতে পরিসংখ্যানের উৎসের কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়, যাতে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা যাচাই করা যেতে পারে।

CG/BD/SB



(Release ID: 1726628) Visitor Counter : 58


Read this release in: English