শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক

২০২০-২১ অর্থবর্ষে ভারতের কৃষিক্ষেত্রে রপ্তানী উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে

Posted On: 10 JUN 2021 10:00PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ১০ জুন, ২০২১

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য দপ্তরের সচিব ডঃ অনুপ ওয়াধওয়ান জানিয়েছেন ২০২০-২১ অর্থবর্ষে দেশের কৃষিপণ্যের রপ্তানী উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে কৃষি ও অনুসারী পণ্যের রপ্তানীর পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩৮৪৩ কোটি মার্কিন ডলার, ৩৮৭৪ কোটি মার্কিন ডলার এবং ৩৫১৬ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে আগের বছরের হিসেবে ১৭.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানী হয়েছে ৪১২৫ কোটি মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রার অঙ্কে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এই পরিমাণ ৩.০৫ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ভারতের কৃষি ও অনুসারী পণ্য সামগ্রীর আমদানির পরিমাণ ছিল ২০৬৪ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ২০৬৭ কোটি মার্কিন ডলার। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও কৃষিক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের ভারসাম্য ১৪৫১ কোটি মার্কিন ডলার থেকে ৪২.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২০৫৮ কোটি মার্কিন ডলার।
সামুদ্রিক ও বাগিচা পণ্য ছাড়া অন্যান্য কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ভারত থেকে রপ্তানী হয়েছিল ২৩২৩ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য সামগ্রী। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ২৮.৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তা ২৯৮১ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাসমতি নয় এ ধরণের চাল এবং ডালশস্য রপ্তানী ১৩৬.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৭,৯৪৫.৪ লক্ষ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গম রপ্তানী ৭৭৪.১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৪৯১.৬ লক্ষ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে জোয়ার-বাজরা সহ অন্যান্য দানাশস্যের রপ্তানীর পরিমাণ ২৩৮.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬৯৪১.৪ লক্ষ মার্কিন ডলার।
২০১৯-২০ অর্থবর্ষের সঙ্গে তুলনা করলে অন্যান্য কৃষি পণ্যের রপ্তানীর পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তৈলবীজের রপ্তানী ৯০.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৫,৭৫৩.৪ লক্ষ মার্কিন ডলার। চিনির রপ্তানী ৪১.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৭,৮৯৯.৭ লক্ষ মার্কিন ডলার। কাঁচা তুলোর রপ্তানী ৭৯.৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮,৯৭২ লক্ষ মার্কিন ডলার। তাজা শাকসব্জি রপ্তানী ১০.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২১৪.৭ লক্ষ মার্কিন ডলার।
ভারতের কৃষি পণ্যের সব থেকে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ভিয়েতনাম, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ইরান এবং মালয়েশিয়া। ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় কৃষি পণ্যের রপ্তানীর পরিমাণ সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হার ১০২.৪২ শতাংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হার ৯৫.৯৩ শতাংশ। নেপালে এই হার ৫০.৪৯ শতাংশ।
আদা, গোলমরিচ, দারুচিনি, এলাচ, হলুদ, জাফরান ইত্যাদি মশলাগুলির রপ্তানীর পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এইসব মশলাপাতি রোগ প্রতিরোধের কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২০-২১ সালে পূর্ববর্তী বছরের হিসেবে বিভিন্ন মশলাপাতির রপ্তানী বৃদ্ধির পরিমাণ :
গোলমরিচের রপ্তানী ২৮.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১২,৬৯৩.৮ লক্ষ মার্কিন ডলার। দারুচিনি রপ্তানী ৬৪.৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১১২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার। এলাচ, জায়ফল এবং জয়িত্রি রপ্তানী ১৩২.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮৯৩.৪ লক্ষ মার্কিন ডলার। আদা, জাফরান, হলুদ, তেজপাতা রপ্তানী ৩৫.৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫৭০৬.৩ লক্ষ মার্কিন ডলার।
জৈব চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের বিক্রি ৫০.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০,৪০০ লক্ষ মার্কিন ডলার। মূলত তৈলবীজ, ডালশস্য, জোয়ার-বাজরা, মশলাপাতি, চা, ঔষধী ফসল, শুকনো ফল, চিনি, কফি ইত্যাদি জৈব চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত সামগ্রীর বিদেশের বাজারে চাহিদা যথেষ্ট বেশি।
প্রথম বারের মতো বিভিন্ন অঞ্চলে ক্লাস্টার তৈরি করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য রপ্তানী করা হয়েছে। বারাণসী থেকে শাকসব্জি ও আম এবং চান্দৌলি থেকে কালো চাল সরাসরি কৃষকরা বিদেশের বাজারে রপ্তানী করেছেন। এছাড়াও নাগপুর থেকে কমলালেবু, থেনি ও অনন্তপুর থেকে কলা এবং লক্ষ্মৌ থেকে আম রপ্তানী হয়েছে। মহামারী সত্ত্বেও দুবাই, লন্ডন সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাগান থেকে উৎপাদিত তাজা ফল প্রচুর পরিমাণ রপ্তানী হয়েছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী সংগঠনগুলির মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানী করেছেন। ডালশস্যের রপ্তানীতে যথেষ্ট সাফল্য এসেছে। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো তিমোর, পুয়োর্ত রিকো, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশে চাল, ইয়েমেন, ইন্দোনেশিয়া, ভুটানে গম এবং সুদান, পোল্যান্ড, বলিভিয়ায় এই প্রথম ডালশস্য রপ্তানী হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে সব রকমের সতর্কতা মেনে কৃষিপণ্য রপ্তানী করা হয়েছে। ২০১৮ সালে কেন্দ্র যে কৃষি রপ্তানী নীতি ঘোষণা করেছিল সেই নীতি প্রথমবার কার্যকর হয়েছে। ১৮টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই নীতি অনুসরণ করে উৎপাদিত ফসল বিদেশে রপ্তানী করেছে। ৪৬টি জেলাকে শনাক্ত করে সেখানকার একটি নির্দিষ্ট উৎপাদিত ফসলকে বিদেশে রপ্তানীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য দপ্তর কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী সংগঠন এবং রপ্তানীকারকদের সঙ্গে কৃষিজ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ রপ্তানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তুলেছে। এর ফলে যেসব রাজ্যে জলপথ নেই সেখান থেকে উৎপন্ন ফসল রপ্তানীতে সুবিধা হয়েছে। কৃষিপণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য দপ্তর কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতীয় পণ্যের বাজার গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ভারত সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় ডালিম, আর্জেন্টিনায় আম ও বাসমতি চাল, ইরানে গাজর, উজবেকিস্তানে গম, আটা, বাসমতি চাল, ডালিম, আম, কলা ও সোয়াবিন তেল, ভুটানে টমেটো, পেঁয়াজ, ঢেঁড়শ এবং সার্বিয়ায় কমলা রপ্তানী করা শুরু করেছে। ভারতের কৃষিপণ্য ও উদ্যান পালনে উৎপাদিত ফলমূল বিদেশে রপ্তানী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ কাজে ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম মেনে বাসমতি ধান চাষের ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুটি বিশেষ রসায়নিক পদার্থের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেখানে খাদ্যশস্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। মূলত বাসমতি ধানের চাষে ব্যবহৃত কিছু রসায়নিক পদার্থ ইউরোপে নিষিদ্ধ থাকায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। যেসব জায়গায় বাসমতি ধানের চাষ হয় সেখানে যাতে ওই রসায়নিক পদার্থ কৃষিকাজে প্রয়োগ না করা হয় সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

CG/CB/NS



(Release ID: 1726109) Visitor Counter : 163


Read this release in: English