প্রকাশিত:
04 JUN 2021 6:14PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লী, ৪ জুন, ২০২১
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট-সিএসআইআর) সোসাইটির বৈঠকে পৌরোহিত্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই উপলক্ষ্যে বলেন এই শতাব্দীতে করোনা মহামারী সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কিন্তু অতীতে যখনই মানব সভ্যতার কোনো বড় সংকট দেখা গেছে বিজ্ঞান তখনই উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজ্ঞানের মূল বৈশিষ্ট্য হল সংকটের সময় সমস্যার সমাধান ও বিভিন্ন সংকটে যেসব সম্ভাবনা দেখা দেবে সেগুলিকে কাজে লাগানোর জন্য নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মহামারী থেকে মানব জাতিকে রক্ষা করতে এক বছরের মধ্যে বিজ্ঞানীরা যে গতিতে টিকা আবিষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেছেন, ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় একটি ঘটনা ঘটল। বিগত শতাব্দীতে অন্যান্য দেশে বিভিন্ন উপাদানের উদ্ভাবন হত আর ভারতকে সেই উদ্ভাবনের সুফল পেতে অনেক বছর অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই গতিতে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরাও কাজ করছেন। কোভিড-১৯ টিকা, নমুনা পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং করোনার বিরুদ্ধে নতুন ওষুধ আবিষ্কারে ভারতের বিজ্ঞানীরা দেশকে আত্মনির্ভর করে তোলায় প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, শিল্প ও বাজারের জন্য উন্নত রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সমমানে নিয়ে আসা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দেশে বিজ্ঞান, সমাজ ও শিল্পকে একই মাত্রায় রাখতে সিএসআইআর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে। শান্তি স্বরূপ ভাটনগরের মতো বহু মেধাবী বিজ্ঞানীকে এই প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছে, যারা এই প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। সিএসআইআর-এর গবেষণা ও স্বত্ত্বের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। দেশ যেসব সমস্যার সম্মুখীন সেগুলির সমাধান করতে সিএসআইআর সবসময়ই উদ্যোগ নিয়ে থাকে।
শ্রী মোদী বলেছেন, ভারতের লক্ষ্য ও একবিংশ শতকে দেশবাসীর স্বপ্ন একই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আজ সিএসআইআর-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি অসাধারণ কাজ করে চলেছে। জৈব প্রযুক্তি থেকে ব্যাটারির প্রযুক্তি, কৃষি থেকে জ্যোর্তিবিজ্ঞান, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং টিকা থেকে ভার্চুয়াল বাস্তবতা প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারত আজ আত্মনির্ভর হতে চায়। আজকের ভারত স্থিতিশীল উন্নয়ন ও পরিবেশ বান্ধব জ্বালানীর বিষয়ে সারা বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। সফ্টওয়্যার থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ- সব ক্ষেত্রে ভারতের উন্নয়ন অন্যান্য দেশের থেকে দ্রুত গতিতে হচ্ছে। বিশ্বের উন্নয়নে ভারত প্রধান চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করছে। তাই তিনি বলেছেন, এই দশক এবং আগামী দশকের চাহিদা পূরণের জন্য ভারত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
শ্রী মোদী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা প্রতিনিয়ত আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যাতে বিজ্ঞান সম্মত হয় তিনি সেটি নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস থেকে শক্তি সঞ্চয় এবং পরিবেশ বান্ধব হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রগুলিতে নেতৃত্বদানের জন্য তিনি বিজ্ঞানীদের অনুরোধ জানিয়েছেন। সিএসআইআর-কে সমাজ এবং শিল্পকে একসঙ্গে নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন চাহিদা সম্পর্কে জানার জন্য যে পরামর্শ গ্রহণ করছে তিনি তার প্রশংসা করেছেন। ২০১৬ সালে অ্যারোমা মিশন শুরু করার পিছনে সিএসআইআর-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশে বর্তমানে হিং চাষে এই প্রতিষ্ঠানের সাহায্য করার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। এতদিন ভারত হিং-এর বিষয়ে পুরোটাই আমদানি নির্ভর ছিল।
প্রধানমন্ত্রী সিএসআইআর-কে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য একটি রূপরেখা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। কোভিড-১৯এর জন্য উন্নয়নের গতি প্রভাবিত হয়েছে। কিন্তু আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের স্বপ্ন পূরণে আমরা দায়বদ্ধ। আমাদের দেশের সুযোগগুলির পূর্ণ সদ্ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কৃষি থেকে শিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং নতুন উদ্যোগগুলির প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। কোভিড সংকটের সময়েও প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী ও শিল্পসংস্থাগুলিকে সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
CG/CB/NS