প্রকাশিত:
07 NOV 2020 10:18PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ৭ নভেম্বর, ২০২০
‘শুধু আনন্দ উপভোগ করার জন্য শব্দবাজি ফাটানোর আগে দয়া করে আমাদের কথা ভেবে দেখুন এবং সতর্ক, সহানুভুতিশীল ও মানবিক হয়ে উঠুন’ বলে আর্জি জানালেন মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডঃ আশীষ কুমার নন্দী এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপিকা রিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় শব্দবাজি ফাটানো নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের রায়কে অনুগ্রহ কর মেনে চলার আবেদনও জানান তাঁরা। ডঃ নন্দী এবং শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায় এই নামদুটি কোনটিই আমাদের কাছে পরিচিত নয়। তবে এই দুজনের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। কোভিড-১৯এর মতো যে ভয়াবহ মহামারী সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে, সেই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন তাঁরা । দীপাবলীর উৎসবে সাধারণ মানুষকে আতশবাজি জ্বালানো থেকে বিরত রেখে যাতে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং কোভিড-১৯ সংক্রমিত মানুষদের দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করা যায় তারজন্যই এই আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অন্তর্গত রিজিওনাল আউটরিচ ব্যুরো কলকাতা শাখা এবং ফিল্ড আউটরিচ ব্যুরো চুঁচুড়া শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত "কোভিড-১৯ মহামারী- নিয়ম, দূষণ এবং সমাধান" শীর্ষক ওয়েব ভিত্তিক আলোচনা সভায় এই মত ব্যক্ত করেছেন শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডঃ নন্দী। শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘যদিও আমি কোভিড থেকে আরোগ্য লাভ করেছি, কিন্তু আমার ফুসফুস এবং হৃদয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে এটির ক্ষয়ক্ষতি আরও তীব্র হতে পারে।’ ডঃ নন্দী বলেন, আরোগ্য লাভের পর তিনি এখনও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে পারেননি।
সিএসআইআর-এনইইআরআই-এর কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের মুখ্য বিজ্ঞানী তথা প্রধান ডঃ দীপাঞ্জন মজুমদার জানান, প্রত্যেক বছর ৯ লক্ষেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয় দূষণের ফলে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে। তিনি বলেন, বায়ুমন্ডলীয় ধূলিকণা মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে দেয়। তিনি সার্স কোভ- ২ অর্থাৎ কোভিড-১৯এর মতো নিউমোনিয়া ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যারফলে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা তৈরি হয়। এমনকি সেখান থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তিনি বলেন,শব্দবাজি ফাটানোর ফলে বায়ুর দূষণ মাত্রা বেড়ে যায়। তাই এক্ষেত্রে সমস্যার মোকাবিলায় আগে থেকেই হাসপাতালের সংখ্যা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট পরিবেশ কর্মী এবং পরিবেশ দপ্তর ও পশ্চিমবঙ্গের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রাক্তণ মুখ্য আইনী আধিকারিক শ্রী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় হাইকোর্টের নির্দেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, দীপাবলির উৎসব শুধুমাত্র কারোর শব্দবাজি ফাটিয়ে আনন্দ উপভোগ করার জন্য নয়। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা এবং সহানুভুতির সঙ্গে ভাবারও পরামর্শ দেন তিনি। শ্রী মুখোপাধ্যায় বলেন, এই ধরণের বিষয়ের সঙ্গে কোনরকমভাবে আপোষ কার উচিত নয়। তিনি বলেন, কোভিড থাকুক বা না থাকুক দূষণ নিয়ন্ত্রণে জন্য শব্দ বাজি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। শ্রী মুখোপাধ্যায় বলেন, যানবাহন, নির্মাণ কাজ, কলকারখানা, শিল্প সংস্থার বর্জ্য নিষ্কাশন সহ অন্যান্য নানান কারণে এমনিতেই বায়ু দূষিত হয়ে পড়েছে। যার ফলে ক্যান্সার, ফুসফুস জনিত রোগ এবং অন্যান্য নানান উপসর্গের সংখ্যা বাড়ছে। তাই আতশবাজি পোড়ানো ও শব্দ বাজি ফাটানোর ওপর নজরদারির প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
***
CG/SS/NS