স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
লোকসভায় অস্ত্রশস্ত্র (সংশোধন) বিল, ২০১৯ পাশ
প্রকাশিত:
10 DEC 2019 7:59PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
লোকসভায় আজ অস্ত্রশস্ত্র (সংশোধন) বিল, ২০১৯ পাশ হয়েছে। এ সংক্রান্ত বর্তমান আইনে অবৈধভাবে অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদন, বিক্রি, হস্তান্তর; অবৈধভাবে সংগ্রহ, নিষিদ্ধ অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখা বা নিয়ে যাওয়া তথা আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ উৎপাদন, বিক্রয়, সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের রূপান্তর, আমদানি এমনকি রপ্তানির মতো ক্ষেত্রে যে শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে, তা এই বিলে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও, প্রস্তাবিত বিলটিতে পুলিশ বা সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া, সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকা, বিদেশে প্রস্তুত আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান-সহ পাচার, জীবনহানির সংশয় রয়েছে, এমন ক্ষেত্রে বেপরোয়াভাবে অথবা অবহেলাচ্ছলে গুলি চালানোর সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ধারা ও শাস্তির সংস্থান রাখা হয়েছে। বিলটিতে অস্ত্র লাইসেন্সের বর্তমান মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার কথাও বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র আইন সংশোধন প্রস্তাবের অত্যন্ত তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, আইন বলবৎকারী বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান গোপন আঁতাতের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিগত বছরগুলিতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আরও আধুনিক রূপ পেয়েছে এবং ফায়ার পাওডার বা বারুদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রের সীমান্ত পারের চোরাচালানের দরুণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিপদের কারণ হয়ে উঠছে এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ঠেকাতে আরও কড়া আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রেখে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠিত অথবা এ ধরণের অপরাধের সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার দমন করে আইন ভঙ্গকারীদের বিরত রাখার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই ১৯৫৯ সালের অস্ত্রশস্ত্র আইনের সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। একইভাবে, ব্যক্তি-বিশেষ ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের অনুমোদিত অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার আরও যুক্তিসম্মত ও সরল করে তোলার বিষয়টিকেও বিলে রাখা হয়েছে।
অস্ত্র আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারগুলির এক্তিয়ারে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করতে চাইছে বলে যে ভীতি ছড়িয়েছে, তা দূর করে দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সভায় বলেন, এই বিলে রাজ্যগুলির অধিকার খর্ব করার কোনও উদ্দেশ্য নেই, বরং ভারতের সংবিধানে অস্ত্রশস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত। আইন মান্যতাদানকারী ও শান্তিপূর্ণ সমাজের ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
২
অস্ত্র আইনের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে শ্রী শাহ বলেন, ব্রিটিশরা ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের পর এই আইন বলবৎ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে অস্ত্রশস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধ করা। স্বয়ং গান্ধীজী ভারতীয়দের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে নিজস্ব অস্ত্র রাখার বিষয়টিতে সামিল হয়েছিলেন এবং ১৮৭৮ সালের ভারতীয় অস্ত্র আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছিলেন। লর্ড আরউইন-কে সেই সময় গান্ধীজী যে আট দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাতেও অস্ত্র আইন সংশোধনের দাবি করা হয়েছিল।
শ্রী শাহ সভাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের নিজস্ব অস্ত্র রাখার অনুমতির যে সংস্থান রয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিলটিতে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত এই বিলে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের জন্য অস্ত্রশস্ত্রের সংখ্যা ও ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বিলটির ফলে সশস্ত্র বাহিনীগুলির অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের নিজস্ব অস্ত্র রাখার বর্তমান সংস্থানে কোনও সমস্যা হবে না।
এই বিল সংশোধনের ফলে সাজার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে শ্রী শাহ বলেন, বিদেশে নির্মিত পাচার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র বা নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্র-সহ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের চোরাচালানের ক্ষেত্রে কারাবাসের মেয়াদ ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ বা সশস্ত্র বাহিনীগুলির কাছ থেকে অস্ত্র চুরি বা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন। অস্ত্রশস্ত্রের অবৈধ উৎপাদন, বিক্রয়, রূপ পরিবর্তন, মেরামত, আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ সাত বছর থেকে যাবজ্জীবনের প্রস্তাব রয়েছে। অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ, সঙ্গে রাখা, নিষিদ্ধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহনের ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ হবে ৭ – ১৪ বছর। অন্যদিকে, সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন করা হয়েছে। তিনি জানান, আগ্নেয়াস্ত্রের বেপরোয়াভাবে ব্যবহারবা অবহেলাচ্ছলে উত্তেজনাবশত গুলি চালানোর ঘটনার ফলে জীবনহানির মতো ঘটনায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানার পাশাপাশি, দু’বছরের কারাবাস অথবা উভয়ই হতে পারে।
শ্রী শাহ আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে এই বিলটি সম্পর্কে জনগণের মতামত ও পরামর্শ আহ্বানের জন্য এক মাস আগেই দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত আইনটির সংশোধনীতে একটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। এটি হ’ল – নিজের কাছে অনুমোদিত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সংখ্যা একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, শ্রী শাহ বলেন, একটা সময় ছিল, যখন থানা একদিকে যেমন দূরবর্তী কোথাও হ’ত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল খারাপ, তখন একাধিক অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত। কিন্তু, বর্তমান সমাজের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বিষয়টিকে উপলব্ধি করেই বিল সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়।
SSS/BD/SB
(রিলিজ আইডি: 1595813)
ভিজিটরের কাউন্টার : 656