স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

করতারপুর সাহিব চুক্তি সম্পন্ন

প্রকাশিত: 24 OCT 2019 6:24PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

 

 

 

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে করতারপুর সাহিব করিডর চুক্তি সম্পন্ন হ’ল। ডেরা বাবা নানকের আন্তর্জাতিক সীমান্তে জিরো পয়েন্টে বিদেশ মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি, পাঞ্জাব সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে।

 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০১৮ সালের ২২শে নভেম্বর শ্রী গুরু নানক দেবজীর ৫৫০তম জন্ম বার্ষিকীর ঐতিহাসিক মুহূর্তটি গোটা দেশে এবং বিদেশে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করার জন্য এক প্রস্তাব নিয়েছিল।

 

ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সারা বছর সুষ্ঠুভাবে ভারত থেকে গুরদুয়ারা দরবার সাহিব করতারপুরে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ডেরাবাবা নানক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত করতারপুর সাহিব করিডরের নির্মাণ ও উন্নয়নের প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল।

 

এই চুক্তির ফলে, করতারপুর সাহিব করিডর চালু করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো নির্দিষ্ট করা হয়।

 

চুক্তির মূল্য বৈশিষ্ট্যগুলি হ’ল – যে কোনও ধর্মের ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত তীর্থযাত্রী এই করিডর ব্যবহার করতে পারবেন; কোনও ভিসা লাগবে না; শুধুমাত্র বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে; ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের তাঁদের দেশের পাসপোর্ট ছাড়াও ওসিআই কার্ড রাখতে হবে; সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত করিডর খোলা থাকবে। যে সমস্ত তীর্থযাত্রী সকালে যাবেন, তাঁদের ঐ দিনই ফিরে আসতে হবে; শুধু মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট দিন ছাড়া সারা বছর করিডর খোলা থাকবে। যে দিনগুলি বন্ধ থাকবে তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে; তীর্থযাত্রীরা একজন বা দলবেঁধে যেতে পারবেন, এমনকি পায়ে হেঁটেও যেতে পারবেন; ভ্রমণ তারিখের ১০ দিন আগে পাকিস্তানকে তীর্থযাত্রীদের তালিকা দেবে ভারত। নির্দিষ্ট দিনের চারদিন আগে তীর্থযাত্রীদের অনুমতির কথা জানানো হবে; পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, যথেষ্ট পরিমাণ লঙ্গর এবং প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হবে।

 

 

প্রধান আলোচ্য বিষয় যেটি ছিল, তা হ’ল – ইতিপূর্বে পাকিস্তান প্রতিবার তীর্থযাত্রী পিছু ২০ মার্কিন ডলার মাশুল দাবি করে এবং ভারত বার বার পাকিস্তানকে ঐ মাশুল না বসানোর অনুরোধ জানায়গত তিনটি যৌথ সচিব স্তরের বৈঠকে এবং কূটনৈতিক স্তরেও বলা হয়েছিল যে, এই মাশুল ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। ওই মাশুল প্রত্যাহারের আবেদন পাকিস্তান খারিজ করায় ভারত ক্ষোভের কথা জানিয়ে দেয়। তবে, তীর্থযাত্রীদের স্বার্থে এবং ৫৫০তম প্রকাশ পরবের আগে করতারপুর সাহিব করিডর সময় মতো চালু করার জন্য ভারত আজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়যদিও চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিন্তু ভারত সরকার কিন্তু ঐ মাশুল প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য পাকিস্তান সরকারকে নিয়মিত তাগিদ দিয়ে যাবে। সেই মতো, চুক্তিটি সংশোধন করতেও প্রস্তুত ভারত।

 

করিডর দিয়ে যাতে সারা বছর সব ঋতুতেই যাতায়াত করা যায়, তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে ভারত। এই সূত্রে ভারত সরকার নিজেদের দিকে একটি সেতু বানিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসাবে একটি অস্থায়ী সার্ভিস রোড-ও তৈরি করেছে। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তানও তাদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মতো শীঘ্রই তাদের দিকে একটি সেতু বানাবে।

 

করতারপুর সাহিব করিডর সময়ে উদ্বোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিকাঠামো, যেমন – রাস্তা, যাত্রী আবাস ইত্যাদি প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। সুষ্ঠু ও সহজভাবে তীর্থযাত্রীরা যাতে যাতায়াত করতে পারেন তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

 

নথিভুক্তি করার জন্য আজ থেকে চালু হ’ল prakshpurb550.mha.gov.in নামের অনলাইন পোর্টাল। তীর্থযাত্রীরা এই পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নাম নথিভুক্তি করতে পারবেন এবং যাওয়ার দিনটিও বেছে নিতে পারবেন। যাত্রা শুরুর তিন – চার দিন আগে এসএমএস এবং ই-মেল – এর মাধ্যমে নথিভুক্তির কথা জানিয়ে দেওয়া হবে তীর্থযাত্রীদের। একটি ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন চালু করা হবে। প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং – এ পৌঁছনোর সময় পাসপোর্টের সঙ্গে সঙ্গে তীর্থযাত্রীদের ওই ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনটিও সঙ্গে রাখতে হবে।

 

 

CG/AP/SB


(রিলিজ আইডি: 1589113) ভিজিটরের কাউন্টার : 126
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English