প্রতিরক্ষামন্ত্রক
নতুন দিল্লীতে ডিআরডিও আধিকারিকদের ৪১তম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব ডঃ পি কে মিশ্রের ভাষণ
প্রকাশিত:
17 OCT 2019 3:49PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯
“আমি খুবই আনন্দিত, বিশেষ করে এই যুব বিজ্ঞানীদের উদীয়মান প্রযুক্তির উপস্হাপনা সেশনে উপস্হিত হতে পেরে। এটা সত্যি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা উৎসাহিত করার নতুন উদ্যোগ। তিনি সবসময়ই ৩৫ বছরের নীচে যুব বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন এবং অন্বেষণের ক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়ার কথা বলে এসেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডিআরডিও পাঁচটি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন গুরুত্বপূর্ণ ‘৫টি যুব বিজ্ঞানী গবেষণাগার’ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ৫টি প্রযুক্তিক্ষেত্র হল- কৃত্রিম মেধাসত্ত্বা, পরিমাণ প্রযুক্তি, জ্ঞান সম্বন্ধীয় প্রযুক্তি, সামঞ্জস্যহীন প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক উপকরণ। এই ৫টি ক্ষেত্র নিয়েই আজ যুব বিজ্ঞানীরা আমার সামনে উপস্হাপনা করেছেন। আমি নিশ্চিত ডিআরডিও-র এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
আজ আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন মাত্রায় প্রযুক্তির বিবর্তন লক্ষ্য করছি। এর অর্থ হল আমাদের প্রযুক্তিগত যে পরিবর্তনগুলি হচ্ছে তার গভীরে প্রবেশ করতে হবে। তারপর আমাদের অর্জন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিযোগিমুখী এই তিন ধাপে লক্ষ্য স্হির করে এগোতে হবে।
আমি আজ তিনটি R-এর কথা বলবো। প্রথম R-টি হল রিক্যুয়ারমেন্ট অর্থাৎ প্রয়োজনীয়তা, দ্বিতীয় R হল রিসোর্স অর্থাৎ সম্পদ, তৃতীয় R হল রেলেভেন্স অর্থাৎ প্রাসঙ্গিকতা। এই তিনটি R-ই আমাদের দেশে উদীয়মান শক্তিক্ষেত্রে আধুনিক চাহিদাগুলি পূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামীদিনে আমাদের দেশের জাতীয় স্বার্থে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে অনুধাবন করা প্রয়োজন। এমনকি সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নতিতে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের দরকার। তবে এই নতুন প্রযুক্তিকে কারোর ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য বা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করলে চলবেনা। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে অন্যের সমতুল্য হয়ে উঠতে হবে।
আমাদের সম্পদের পরিমাণ এবং তার অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে প্রচুর। তাই ডিআরডিও এ ধরণের উদীয়মান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আরও মূল্যযুক্ত সম্পদ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে।
উদীয়মান প্রযুক্তিকে সবসময় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ব্যবহার করা প্রাসঙ্গিক। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের উন্নতিতে সাহায্য করবে। যেমন ইসরো কৃষকদের স্বার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহাকাশ সংক্রান্ত গবেষণায় প্রযুক্তিগত উন্নতি ঘটিয়েছে।
আজ আমরা প্রযুক্তির কর্মকান্ডকে দুটি ভাগ করতে পারি। একটি হল প্রযুক্তির মূল্যায়ণ, অন্যটি হল প্রযুক্তির পূর্বাভাস। যুব বিজ্ঞানীদের গবেষণাগারের কর্মকান্ডে কখনই বিফলে যাবে না। তাঁদের সবসময় সহকারী গবেষকদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্রয়োজনী ক্ষেত্রে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এমনকি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এবং তার প্রয়োগে তাঁদের সকলেই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে কাজ করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে অনেকসময় বাধার সম্মুখীন হতে হবে। অনেক সময় অনেক প্রকল্প ঝিমিয়ে পড়বে। তবে তাই বলে হাল ছেড়ে দিলে চলবেনা। প্রতিটি পদক্ষেপের অগ্রগতি নজরে রাখতে হবে। এমনকি দেশের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি যাতে বাস্তব জীবন ও শিল্পক্ষেত্রে কাজে লাগে সেইভাবে কাজ করতে হবে।
আমি এই সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে চাই। যখন আমরা উন্মুক্ত পরিবেশে কাজের কথা বলছি, তখন আমাদের যুব বিজ্ঞানীদের শুধুমাত্র গবেষণাগারে বসে সীমাবদ্ধভাবে কাজ করলে চলবেনা, মুক্ত পরিবেশে দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে গবেষণার কাজ কতটা কম অর্থ ব্যয় করে করা যায়। কোথা থেকে গবেষণার স্বার্থে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা যায় এবং কোথায় কাঁচামাল পাওয়া যায়, তা নিয়েও ভাবার প্রয়োজন। এতে আমি দেশীয় প্রযুক্তির ওপরই বেশি জোর দেওয়ার কথা বলছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেক ইনি ইন্ডিয়া কর্মসূচি এক্ষেত্রে খুবই প্রশংসনীয়।
আমাদের শুধু নতুন প্রযুক্তির উন্নতি এবং তার প্রয়োগ করলেই চলবেনা। একইসঙ্গে আমাদের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। ডিআরডিও-র এই ৫টি গবেষণাগার আমাদের দেশের উদীয়মান প্রযুক্তির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমাদের দেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্হান দখল করবে। এই নতুন প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মানোন্নয়নে সাহায্য করবে।
আমি আরও একবার যুব বিজ্ঞানীদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। তাঁদের উদ্যোগ, উদ্যম এবং দক্ষতা এটাই প্রমাণ করে যে আগামীদিনে ডিআরডিও-র এই গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড দেশকে এক নতুন উচ্চাতায় পৌঁছে দেবে।”
CG/SS/NS
(রিলিজ আইডি: 1588366)
ভিজিটরের কাউন্টার : 81