প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ঔরঙ্গাবাদে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে বার্তালাপ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
13 SEP 2019 5:26PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
ভারতমাতার জয়
ভারতমাতার জয়
মঞ্চে উপস্থিত সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ এবং দূরদূরান্ত থেকে বিপুল সংখ্যায় সমাগত মা, বোন ও বন্ধুগণ। আমি ওদিকে দেখতে পাচ্ছি, কত দূরে বোনেরা দাঁড়িয়ে আছেন, সম্ভবত, তাঁরা কিছু দেখতেও পাচ্ছেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও এত বিপুল সংখ্যায় এখানে উপস্থিত হয়ে আমাদের সবাইকে আশীর্বাদ প্রদানের জন্য আপনাদেরকে হৃদয় থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
আপনারা সবাই দেশের উন্নয়নে আমাদের গ্রাম – দেহাত, আমাদের পরিবারগুলিকে আর্থিক দিক থেকে ক্ষমতায়িত করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে দেশকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন ভারত নির্মাণে অংশগ্রহণকারী সমস্ত বোনেদের আমি প্রণাম জানাই আর ভগিনী পঙ্কজাকে বিশেষ রূপে অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ, আজ কিছুক্ষণ আগে ঔরঙ্গাবাদের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন উদ্বোধন হ’ল। ঔরঙ্গাবাদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির সিগনেচার বিল্ডিং এখন পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত। এটি নতুন ঔরঙ্গাবাদ শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে পরিণত হবে। এই ভবন থেকে সমগ্র শিল্প নগরীর অনেক ব্যবস্থা সঞ্চালিত হবে।
বন্ধুগণ, ঔরঙ্গাবাদ নতুন স্মার্ট সিটি হয়ে ওঠার পাশাপাশি, দেশের শিল্প গতিবিধির-ও বড় কেন্দ্র হয়ে উঠবে। দিল্লি – মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরেরও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক বড় কোম্পানি এখানে কাজ করা শুরু করেছে। আগামীদিনে এখানে আরও অনেক সংস্থা আসবে। সেই সংস্থাগুলি এখানকার লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।
বন্ধুগণ, ঔরঙ্গাবাদ আজ আরেকটি সাফল্যের সাক্ষী হচ্ছে। এই সাফল্য আপনাদের, দেশের কোটি কোটি বোনেদের।
উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে আমরা বিনামূল্যে যে ৮ কোটি রান্নার গ্যাস সংযোগ প্রদানের সংকল্প নিয়েছিলাম, আজ এই মঞ্চলে লক্ষ লক্ষ বোনেদের উপস্থিতিতে তা সম্পূর্ণ হয়েছে। শুধু সম্পূর্ণ হয়নি, নির্ধারিত সময়ের সাত মাস আগেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি।
এই ৮ কোটি সংযোগের মধ্যে প্রায় ৪৪ লক্ষ, শুধু মহারাষ্ট্রের গরিব মা ও বোনেরা পেয়েছেন। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের সবাইকে, দেশের যে বোনেরা ধোঁয়ার জ্বালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তাঁদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। যাঁদের কঠোর পরিশ্রমে ও সাহায্যে সারা দেশে এই সাফল্যে এসেছে, আমি সেই লক্ষ লক্ষ সাথীদেরকেও প্রণাম জানাই।
বন্ধুগণ, শ্বাসরুদ্ধকর ধোঁয়ার জ্বালায় কষ্ট পাওয়া গরিব বোনেদের সাহায্য করার জন্য শুরুতে বিনামূল্যে ৫ কোটি রান্নার গ্যাস সংযোগ প্রদানের লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। গত বছর মার্চ মাসে এই লক্ষ্যকে সম্প্রসারিত করে ৮ কোটি করে দেওয়া হয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় আমি যখনই আপনাদের মাঝে এসেছি, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সংকল্পের কথা বলেছি। আমি আনন্দিত যে, দ্বিতীয়বার আমাদের সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
বন্ধুগণ, এই কাজ নিছকই রান্নার গ্যাস সংযোগ প্রদানের মধ্যে সীমিত ছিল না। এর জন্য আরও ব্যাপক ব্যবস্থা করা হয়েছে, সামগ্রিক পদ্ধতিতে কাজ হয়েছে। এর জন্য একটি বড় পরিকাঠামোর প্রয়োজন ছিল, যা অত্যন্ত কম সময়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর জন্য ১০ হাজার নতুন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটার এজেন্সি গড়ে তুলতে হয়েছে, সেগুলি অধিকাংশই গড়ে উঠেছে গ্রামাঞ্চলে। শুধু তাই নয়, সারা দেশে নতুন এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে গ্যাস সিলিন্ডারের যোগান অব্যাহত থাকে। সামুদ্রিক বন্দরগুলির কাছাকাছি টারমিনাল ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকার গ্যাস পাইপ লাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করে।
বন্ধুগণ, আমাদের প্রচেষ্টা ছিল, যাতে দেশে এমন কোনও পরিবার না থাকে, যাঁদের বাড়িতে রান্নার গ্যাস সংযোগ নেই। এর পাশাপাশি, এই প্রকল্পকে আরও সুবিধাজনক করে তুলতে ৫ কেজির সিলিন্ডারকেও উৎসাহ যোগানো হয়েছে। দেশের অনেক অঞ্চলে পাইপ লাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস সরবরাহের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
ভাই ও বোনেরা, এখন আমরা আরেকটি বড় অভিযান শুরু করেছি, যার সঙ্গে আপনাদের সকলের স্বার্থ জড়িত, দেশের কোটি কোটি বোনের স্বার্থ জড়িত। পরিবারের প্রয়োজনে জল সংগ্রহ করতে আপনাদের কত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা আমি খুব ভালোভাবেই জানি। দেশের প্রত্যেক বোনকে এই সমস্যা থেকে মুক্ত করতে আমরা ‘জল জীবন মিশন’ চালু করেছি। এই মিশনের মাধ্যমে জল সাশ্রয়ের জন্য, বাড়িতে বাড়িতে জল পৌঁছে দিতে গোটা দেশ সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। এটা ঠিক করা হয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা এই জল অভিযানে খরচ করা হবে।
আপনারা হয়তো শুনেছেন যে, সমাজবাদী নেতা রাম মনোহর লোহিয়াজি বিগত শতাব্দীর ষাট-সত্তর দশকে সংসদে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ভারতে আমাদের মহিলাদের দুটি প্রধান সমস্যা দ্রুত সমাধান করা উচিৎ। প্রথমটি হ’ল শৌচাগার আর দ্বিতীয়টি হ’ল জল। এই দুটি সমস্যার সমাধান করতে পারলে এদেশের মহিলারা দেশের অন্যান্য সমস্যা দূরীকরণের ক্ষেত্রে শক্তি হয়ে উঠবেন। লোহিয়াজী প্রয়াত হয়েছেন, সরকারও অনেক এসেছে আর গেছে, অনেক নেতা এসেছেন আর গেছেন, অবশেষে আমরা এসে সংকল্প নিলাম যে, দেশের সমস্ত মা-বোনেদের জন্য শৌচালয় এবং জল – এই দুটিই সুনিশ্চিত করবো।
এই মারাঠওয়ারা অঞ্চল এমনিতেও এই প্রকল্প দ্বারা উপকৃত হবে আর আপনারা সবাই দেবেন্দ্রজীর সরকারের সঙ্গে মিলে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। একটু আগে দেবেন্দ্রজী আপনাদের সামনে তাঁর এলাকায় জল পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। মারাঠওয়ারায় যে তাঁর প্রথম ‘ওয়াটার গ্রিড’ গড়ে তোলা হচ্ছে, তা প্রশংনীয় প্রচেষ্টা। এই গ্রিড গড়ে উঠলে এই এলাকায় জলের যোগান বাড়বে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক গ্রামে পানীয় জল পৌঁছনো, প্রত্যেক ক্ষেতে সেঁচের জল পৌঁছনো সহজ হবে।
বন্ধুগণ, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার কৃষকদের সেচের সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি, অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রত্যেক কৃষক পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ প্রদান, ৬০ বছর পর কৃষকদের পেনশন পরিষেবা, পশু ধনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে টিকাকরণ অভিযান, এমন অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, গ্রামের আর্থিক অবস্থা উন্নত করতে আপনাদের সকলের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ‘মহিলা সাশ্রয় ঘট’ রূপে আপনারা যে কাজ চলেছেন, তার মাধ্যমে আপনাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন তো হচ্ছেই, পরিবারের আর্থিক উন্নতি হচ্ছে। যখন পরিবারগুলির আর্থিক উন্নতি হয়, তখন দেশের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
বন্ধুগণ, দেশের উন্নয়নে আপনাদের এই ভূমিকা অনুভব করে বিগত পাঁচ বছরে দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ আজীবিকা মিশনের মাধ্যমে মহিলাদের জন্য শিল্প স্থাপনের নতুন সুযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন ভারতে আমরা নারী কল্যাণ থেকে এগিয়ে গিয়ে মহিলাদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রকল্যাণের ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলেছি।
সেজন্য এ বছরের বাজেটে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য সুদে ছাড়ের ব্যবস্থা সারা দেশে চালু করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির যে সদস্যদের জন ধন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাঁরা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ওভার ড্রাফট্ - এর অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন। এখন আর কোনও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হবে না। এর মানে, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এমনকি ১ টাকা না থাকলে প্রয়োজনের সময় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অল্প সুদে ঋণ নিতে পারবেন। যাঁদের জন ধন অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাঁরা এই সহজ ঋণের সুবিধা পাবেন।
এভাবে মুদ্রা যোজনার মাধ্যমেও প্রত্যেক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর একজন মহিলা সদস্যকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। এতে আপনাদের নতুন ব্যবসা শুরু করতে কিংবা পুরনো ব্যবসা সম্প্রসারিত করতে সুবিধা হবে। এই মুদ্রা যোজনা আমাদের বোনেদের শিল্পোদ্যোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ২০ কোটি প্রার্থীকে ঋণ বন্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি গ্রহীতা হলেন আমাদের বোন ও কন্যারা। মহারাষ্ট্রেও এই মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে যে দেড় কোটি মানুষ ঋণ পেয়েছেন, তার মধ্যে ১২৫ কোটি গ্রহীতা হলেন আমাদের মা ও বোনেরা। মহিলারা যেভাবে শিল্প ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছেন, এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া আমাদের আরও ত্বরান্বিত করতে হবে, আরও শক্তিশালী করতে হবে। সেজন্য সরকারি স্তরে যে যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা অবশ্যই নেওয়া হবে।
বন্ধুগণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীরূপে আপনারা আর্থিক ক্ষমতায়নের শক্তিশালী মাধ্যম তো বটেই, সামাজিক পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রহরী। ভ্রুণ হত্যা রোধ থেকে শুরু করে শিশুকন্যাদের বাঁচানোর সমস্ত প্রচেষ্টা, তাঁদের লেখাপড়া শেখানো এবং তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। মহারাষ্ট্রে এই লক্ষ্যে দেবেন্দ্রজীর নেতৃত্বাধীন সরকারি প্রকল্প আর আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আমাদের সমাজে মেয়েদের প্রতি ভাবনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাদের মতো সচেতন বোন ও কন্যাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি আপনারা দেখেছেন যে, মুসলিম বোনেদের তিন তালাকের কুপ্রথা থেকে মুক্তি দিতে একটি কড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন আপনাদের সমাজের মধ্যে এই আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বন্ধুগণ, নির্ধারিত সময়ের আগে লক্ষ্যসাধনে সাফল্য এলে, বড় বড় সংকল্প বাস্তবায়নের উৎসাহ নিজে থেকেই বেড়ে যায়। যখন সততার সঙ্গে কাজ করা হয়, পরিষ্কার মন নিয়ে চেষ্টা করা হয়, তখন প্রচেষ্টায় কোনও খামতি থাকে না। সম্প্রতি চন্দ্রযান অভিযান নিয়ে যা হয়েছে, তা আপনারা অনেকেই জানেন। আমাদের বৈজ্ঞানিকরা একটি বড় লক্ষ্যসাধনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাতে একটি বিপত্তি এসেছে। এই অভিযানের জন্য বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে পরিশ্রম করছিলেন।
ভাই বোনেরা, গত রাতে এবং আজ সকালে আমি তাঁদের সঙ্গে ছিলাম। তাঁরা মর্মাহত ছিলেন, কিন্তু দৃঢ় সংকল্পে অটল ছিলেন যে, এখন নতুন উদ্যমে কাজ করতে হবে; যা হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ইসরো’র মতো দায়বদ্ধতা নিয়েই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলা যেতে পারে।
বন্ধুগণ, ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এমনই ঐকান্তিক মানুষদের দায়বদ্ধতা সম্বল করে দেশের প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, ৮ কোটি দরিদ্র পরিবারে রান্নার গ্যাস সংযোগ, এমন অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন আমরা গোটা দেশকে উন্মুক্ত স্থানে শৌচমুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ২০২২ সালে আমরা স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উৎসব পালনের আগেই এই সংকল্প অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
ভাই ও বোনেরা, ২০২২ সালের মধ্যে প্রত্যেক গরিবকে পাকা ছাদযুক্ত গৃহ প্রদানের লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি। ইতিমধ্যেই দেশের গ্রাম ও শহরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। উপকৃতরা সেই বাড়িগুলিতে থাকতে শুরু করেছেন। অনেকেই আমাদের জিজ্ঞেস করেন যে, গরিবদের জন্য গৃহ নির্মাণের প্রকল্প তো আগেও চালু ছিল, এর জন্য আগেও অর্থ বরাদ্দ হ’ত, তা হলে আপনারা নতুন কী করেছেন?
সবার আগে আমি বলতে চাই যে, আমাদের চার দেওয়ালে ঘেরা গৃহ নির্মাণ নয়, স্বপ্নের বাড়ি বানাতে হবে। আমরা এমন গৃহ নির্মাণ করতে চাই, যেখানে সমস্ত সুবিধা থাকবে। সেজন্য আমরা কোনও নির্ধারিত ফর্মুলা মেনে গৃহনির্মাণ না করিয়ে মানুষের স্থানীয় প্রয়োজন এবং তাঁদের ইচ্ছাকে মাথায় রেখে গৃহ নির্মাণের চেষ্টা করেছি। সেই বাড়িতে সমস্ত বুনিয়াদী সুবিধা সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পকে একসঙ্গে যুক্ত করেছি, যাতে ঐ বাড়িগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস সংযোগ, শৌচালয় ও পানীয় জলের মতো বুনিয়াদী সুবিধাগুলি সুনিশ্চিত করা যায়।
মানুষের মনে মতো বাড়ি তৈরি করার জন্য আমরা সাধারণ মানুষের চাহিদা বিবেচনা করে গৃহের ক্ষেত্রফল ও নির্মাণরাশি বৃদ্ধি করেছি। এই প্রক্রিয়ায় আমরা স্থানীয় রাজমিস্ত্রী ও শ্রমিকদের নিযুক্ত করেছি। আমাদের মা বোনেরা যদি ঝাড়খন্ডে যান, একটি নতুন শব্দ শুনতে পাবেন – রানী মিস্ত্রী। অর্থাৎ, সে রাজ্যে মেয়েরাও নির্মাণের কাজে সমান দক্ষতা অর্জন করেছেন। এভাবে কোনও অতিরিক্ত বিনিয়োগ না করে, ন্যূনতম সময়ে নির্মিত গৃহের চাবি উপকৃতদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।আধুনিক প্রযুক্তির বহুল ব্যবহার এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সহজ করেছে।
ভাই ও বোনেরা, আমরা সেই মানুষদের স্বপ্নকেও গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাঁরা নিজেরাই নিজেদের বাড়ি কেনার ইচ্ছা রাখেন। সুলভ গৃহ নির্মাণকে আরও উৎসাহ প্রদানের জন্য সরকার গৃহ ঋণের ক্ষেত্রে দেড় লক্ষ টাকা সুদে আয়করে অতিরিক্ত ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে, যাতে মধ্যবিত্তরা নিজেদের বাড়ি বানাতে পারেন।
বন্ধুগণ, আমরা দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ লেনদেনকে গুরুত্ব দিয়ে গৃহ নির্মাণের নানা পর্যায়ের ফটো অনলাইনে আপলোড করেছি। স্বচ্ছভাবে প্রশাসনকে সমস্ত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা খুবই কম ছিল। সেজন্য বাড়ি কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হ’ত। সরকার রেরা আইন পাশ করে ক্রেতাদের মনে বিশ্বাস গড়ে তোলার কাজ করেছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ রাজ্যে রেরা আইন ‘নোটিফাই’ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-ও কাজ করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেখলে গৃহ নির্মাণ বিষয়ে সংহত ভাবনা নিয়ে কাজ করেছি। আমরা যদি আলাদাভাবে একেকটি প্রকল্প নিয়ে এগোতাম, তা হলে এতবড় সাফল্য পেতাম না। বড় মাত্রায় সমাধান তখনই সম্ভব, যখন সমস্ত বিভাগ সমস্ত সিদ্ধান্ত এক বড় লক্ষ্যের কথা ভেবে গ্রহণ করা হয়। সমস্ত মন্ত্রক এবং যাবতীয় প্রকল্প মিলে একই ট্র্যাকে কাজ করাই আমাদের সরকারের কাজের পরিচিতি হয়ে উঠেছে – টুকরো টুকরোভাবে নয়, সামগ্রিক ভাবনা এবং সবকটি বিষয় একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা।
বন্ধুগণ, বিগত পাঁচ বছরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের লেনদেন পর্যন্ত, সমাজের ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে যেকটি গণআন্দোলন হয়েছে, আপনারা সবাই মহাউৎসাহে অংশগ্রহণ করেছেন। সেজন্য আগামী ৫ বছরের জন্য যত সংকল্প করা হয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়নে আপানাদের ওপর আমি ভরসা করি। এই বিশ্বাস নিরন্তর শক্তিশালী হবে, এই কামনা করে আপনাদের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই।
উৎসবের দিনে এত বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হয়ে আমাদের আশীর্বাদ প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আপানাদের এই আবেগ আমার মনে একটি শক্তির অনুভূতি সঞ্চার করে। এই মাতৃশক্তিকে প্রণাম জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। আমার সঙ্গে দু’হাত উপরে তুলে পূর্ণশক্তি দিয়ে বলুন –
ভারতমাতার জয়।
ভারতমাতার জয়।
ভারতমাতার জয়।
CG/SB/SB
(রিলিজ আইডি: 1585000)
ভিজিটরের কাউন্টার : 151