উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়

মহিলাদের প্রতি ন্যায়-বিচার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিন তালাক প্রথা রদ বিল : উপ-রাষ্ট্রপতি আর্থিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মহিলাদের সক্ষমতার প্রতি সুবিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

प्रविष्टि तिथि: 02 AUG 2019 10:51PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০২ আগস্ট, ২০১৯

 

 

রাজ্যসভায় সদ্য পাশ হওয়া মুসলিম মহিলা (বিবাহ অধিকার সুরক্ষা) বিল, ২০১৯ প্রসঙ্গে উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেছেন, মহিলাদের প্রতি ন্যায় বিচার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিল। ভারতের আইন প্রণয়নের ইতিহাসে এই বিল পাশ এক উজ্জ্বল মুহূর্ত। ‘এই বিল সামাজিক সংস্কারের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা মুসলিম মহিলাদের প্রতি ন্যায়-বিচার সুনিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা নেবে’ বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

 

নতুন দিল্লিতে বৃহস্পতিবার জানকী দেবী মেমোরিয়াল কলেজের হীরক জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে শ্রী নাইডু বলেন, দেশে তিন তালাক প্রথা রদের জন্য মুসলিম মহিলাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমন একটি দেশে এই অপেক্ষা করতে হয়েছে, যার গণতন্ত্র, বহুত্ববাদীতা ও সমতার মূল্যবোধগুলি গভীরে প্রোথিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আর্থিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মহিলাদের সক্ষমতা এবং ক্ষমতায়নের প্রতি সুবিচার অত্যন্ত জরুরি। মহিলাদের শিক্ষার ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সুস্থায়ী উন্নয়নের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। মহিলাদের স্বাক্ষরতা প্রসঙ্গে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজে  ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে জ্ঞানের প্রসার ও সচেতনতার বড় ভূমিকা রয়েছে। ভারতের মতো দেশ শিক্ষার গুরুত্ব ও মহিলাদের ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে কোনও ভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না বলে অভিমত প্রকাশ করে শ্রী নাইডু বলেন, ৫ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার অর্থনীতির দেশ হয়ে ওঠার পাশাপাশি, বিশ্ব মঞ্চে নেতৃত্ব দানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণের দিক থেকে এটি অত্যন্ত জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে শ্রী নাইডু বলেন, পুরুষদের পাশাপাশি, শ্রম ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে জিডিপি-তে মহিলাদের অবদান ভারতে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। শ্রম ক্ষেত্রে যদি ৫০ শতাংশ দক্ষ মহিলাকে সামিল করা যায়, তা হলে ভারতের বিকাশ ১.৫ শতাংশ হারে বেড়ে বার্ষিক ৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে। দেশে শ্রম ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ুক, এটা সময়ের চাহিদা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মহিলাদের ক্ষমতায়ন তাঁদেরকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের আরও কার্যকর মোকাবিলায়, পরিবারে তাঁদের মর্যাদা বাড়াতে এমনকি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সাহায্য করবে বলে অভিমত প্রকাশ করে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, সুখী পরিবার, স্বাস্থ্যকর ও সুস্থ সমাজ বজায় রাখতে গেলে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আবশ্যক।

 

শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেশের ভিত্তি হিসাবে বর্ণনা করে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির অগ্রগতি শিক্ষার ওপরই নির্ভরশীল। এই বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখেই শ্রী নাইডু দেশের যুবসমাজকে সুলভে উন্নতমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ভারতকে তার জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্যগুলির সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি পূরণেও সাহায্য করতে পারে।

 

বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শিক্ষার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসাবে পরিণত করতে প্রয়াসী হওয়ার পাশাপাশি, জ্ঞান ও শিক্ষার আদান-প্রদান তথা পড়ুয়াদের নৈতিক গুণাবলীকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও তিনি জোর দেন। এই লক্ষ্য অর্জনে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় আশু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও শ্রী নাইডু অভিমত প্রকাশ করেন। যদি নিজে না চান, তা হলে শিক্ষা একজন ব্যক্তিকে, কর্মযোগ্য হিসাবে গড়ে তুলতে পারে না বলে অভিমত প্রকাশ করে উপ-রাষ্ট্রপতি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দক্ষতা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। একবিংশ শতাব্দীর আন্তঃসংযুক্ত জ্ঞান-নির্ভর এই বিশ্বে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

 

শ্রী নাইডু বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানে জানকী দেবী মেমোরিয়াল কলেজ যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক যোগেশ ত্যাগী, জানকী দেবী মেমোরিয়াল কলেজের পরিচালন পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ব্রজেশ চৌধুরী, প্রিন্সিপাল ডঃ স্বাথী পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

SSS/BD/SB


(रिलीज़ आईडी: 1581214) आगंतुक पटल : 267
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English