অর্থমন্ত্রক

গত ৫ বছরে গড় অভ্যন্তরীন উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সামাজিক ক্ষেত্রের ব্যয় ১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে : আর্থিক সমীক্ষা

প্রকাশিত: 04 JUL 2019 9:21PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি,  ০৪  জুলাই, ২০১৯

 

 

    ২০১৮-১৯ আর্থিক সমীক্ষায় সামাজিক পরিকাঠামো বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্হ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। অন্তভুক্তিমূলক বিকাশের লক্ষ্যেই উন্নয়নের এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দারিদ্র দূরীকরণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বঞ্চনা দূর করতে হাতে হাত মিলিয়ে কৌশল ঠিক করা প্রয়োজন যাতে দেশে স্বাস্হ্য ও শিক্ষার উন্নতি, সাম্যতা বজায় রাখা এবং  আর্থিক গতি ত্বরান্বিত করা যায়। ২০৩০ সালের মধ্যে স্হির উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত বদ্ধপরিকর। কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী শ্রীমতি নির্মলা সীতারমন আজ সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক সমীক্ষার রিপোর্ট পেশ করেছেন।

 

    কেন্দ্র ও রাজ্যে সামাজিক ক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ব্যয় হয়েছিল ৭.৬৮ লক্ষ কোটি টাকা, তা ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে বেড়ে হয়েছে ১৩.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে গড় অভ্যন্তরীন উপাদনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সামাজিক ক্ষেত্রের ব্যয় ১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের যেখানে ব্যয় হয়েছিল ৬.২ শতাংশ, তা ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে বেড়ে হয়েছে ৭.৩ শতাংশ। মহিলাদের ক্ষমতায়ণ এবং সমাজে পরিবর্তন আনতে কেন্দ্রীয় সরকার বেটি বাঁচাও বেটি পঢ়াও, উজ্জ্বলা প্রকল্প, পোষণ অভিযান, প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার মতো বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। বাড়িতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ৫ বছরে সামাজির সুরক্ষার একাধিক প্রকল্পের কথা অর্থনৈতিক সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি যোজনা ২০১৯-এ (পিএম কিষাণ)৩.১০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক প্রথম দফায় ২০০০ টাকা করে পেয়েছেন। ২০১৯এর তেশরা এপ্রিল পর্যন্ত এই যোজনায় ২.১০ কোটি কৃষক দ্বিতীয় দফার টাকা পেয়েছেন। ২০১৮র ৩০এ ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্গত প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী যোজনায় ৬.১৮ লক্ষ গরিব মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং ৩৯.৪৮ লক্ষ মানুষকে স্বাস্হ্য বিষয়ক ই-কার্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় সকলের জন্য শিক্ষা একনজরে (ইএসএজি) ২০১৮ তথ্য অনুযায়ী বলা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। উচ্চ প্রাথমিকে গত এক বছরে মহিলাদের উপস্হিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমনকি ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বিদ্যালয়ে নাম নথিভুক্তিকরণের সংখ্যাও বেড়েছে। এই প্রথম অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সকলের জন্য সমান ক্লাস এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্হা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার ২০১১-১৩ অর্থবর্ষে যেখানে ছিল প্রতি লক্ষে ১৬৭ জন, তা ২০১৪-১৬ অর্থবর্ষে কমে হয়েছে প্রতি লক্ষে ১৩০ জন। মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার কমাতে এবং নবজাতকের স্বাস্হ্য পরিষেবায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় আয়ুষ প্রকল্পে সকলের জন্য সমান এবং সুলভ স্বাস্হ্য পরিষেবার ব্যবস্হা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দক্ষতাবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্হানে উন্নতির কথাও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৌশল কেন্দ্র এবং জাতীয় শিক্ষানবীশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মতো দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক নীতি চালু করে দেশে কর্ম উপযোগী দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্হ্য পরিষেবা, স্কুল, বাজার এবং অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটিয়ে মানুষের জীবন-যাপনের মানোন্নয়নের প্রয়াস চালানো হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ২৬৭.৯৬ কোটি শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। ২০১৯এর ৩১শে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ১ কোটি মানুষকে পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ১.৫৪ কোটি বাড়ি তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। আর্থিক ঘাটতি কমিয়ে মানবসম্পদে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে সামাজিক উন্নয়নের পথে দেশ এগিয়ে চলেছে বলে আর্থিক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে।  

 

 

CG/SS/NS


(রিলিজ আইডি: 1577319) ভিজিটরের কাউন্টার : 250
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English