প্রকাশিত:
03 JUL 2019 1:19PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০২ জুলাই, ২০১৯
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন একটি নতুন প্রকল্প – ট্রান্স – ডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ফর ইন্ডিয়া’স ডেভেলপিং ইকনোমি বা স্ট্রাইড প্রকল্প চালুর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। মোটের ওপর, ভারতের উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য আন্তঃবিষয়ক গবেষণা সংক্রান্ত প্রকল্পটি সামাজিকভাবে যথাযথ, স্থানীয় প্রয়োজন-ভিত্তিক, জাতীয় ও বিশ্ব স্তরে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কাজগুলিতে সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, স্ট্রাইড দেশে গবেষণার ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রসারে সাহায্য করবে এবং প্রত্যেকটি মানুষের কল্যাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দেশের আবশ্যিক প্রয়োজন মেটাতে যে গবেষণার কাজগুলি চলছে, তাতে সহায়তা যোগাবে। সৃষ্টিশীলতা, উন্নয়ন, নতুন নতুন চিন্তাভাবনাকে সুসংহত করা, সার্বিক মঙ্গলের ভাবনাচিন্তা ও অভ্যাসগুলিকে তথা সামাজিক উন্নয়নমূলক গবেষণার কাজকে সমর্থন করবে স্ট্রাইড।
একাধিক ক্ষেত্রে সম্মিলিত গবেষণা এমন একটি দলবদ্ধ প্রয়াস, যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আসা গবেষকরা একটি নতুন ভাবনাচিন্তা, তত্ত্ব, পদ্ধতিগত উদ্ভাবন সৃষ্টি করে এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ বিষয়-ভিত্তিক চিন্তাভাবনার পরিবর্তে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হয়। এইসব গবেষণার কাজ কেবল জ্ঞানলাভই নয়, বরং অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগের ওপর জোর দেয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পণ্ডিতরা নিজের বিষয়ের গণ্ডী পেরিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে গবেষণার কাজে সামিল করে সমস্যা সমাধানের প্রয়াস চালায়।
কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ডঃ রমেশ পোখরিয়াল ‘নিশাঙ্ক’ বলেন, স্ট্রাইড প্রকল্পগুলি গবেষণা সংস্কৃতিকে এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উদ্ভাবনী কাজকর্মকে সমর্থন যোগাবে। এই প্রকল্পটি ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের একযোগে গবেষণাকে সফল করার মাধ্যমে ভারতের উন্নয়নশীল অর্থনীতির বিকাশে সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পে কলা বিভাগ ও মানব বিজ্ঞানের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার ফলে ভারতীয় ভাষা ও জ্ঞান ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গবেষণার মানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে।
২
মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব শ্রী আর সুব্রহ্মোনিয়াম জানিয়েছেন যে, জাতীয় উদ্ভাবন প্রতিষ্ঠান – এর কাছে ৬০৮টি জেলা থেকে প্রাপ্ত ৩ লক্ষ প্রযুক্তিগত চিন্তাভাবনার তথ্য রয়েছে, যেগুলি নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে।
স্ট্রাইড প্রকল্পে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ রয়েছে। প্রথমভাগে বলা হয়েছে যে, নবীন প্রতিভাদের চিহ্নিত করে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের গবেষণা করতে নানাভাবে অনুপ্রেরণা যোগানো হবে। তাঁদের গবেষণার জন্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করাও হবে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক উদ্ভাবন ও মানুষের কল্যাণার্থে এবং দেশের উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অবদান রাখতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিল্প ক্ষেত্রগুলিকেও উৎসাহ যোগানো হবে এবং এই স্তরে গবেষণার জন্য ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করা হবে। প্রকল্পের তৃতীয় ভাগে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চ প্রত্যাশাযুক্ত গবেষণা কর্মসূচিগুলির জন্য ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করা হবে। এই পর্যায়ের গবেষণার কাজে দেশের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলি বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন এবং একাধিক প্রতিষ্ঠান একত্রিতভাবেও কাজ করতে পারে।
অধ্যাপক ভূষণ পট্টবর্ধনের সভাপতিত্বে ইউজিসি’র এই প্রকল্পের ওপর নজরদারির জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে। ৮ই জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ইউজিসি-র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ২০শে জুলাই ইউজিসি গবেষণার প্রস্তাব জমা দেওয়ার ঘোষণা করবে। আবেদনগুলি অনলাইনে জমা দিতে হবে। আবেদন জমার জন্য স্ট্রাইড ওয়েবসাইট ৩১শে জুলাই থেকে চালু হবে।
CG/SC/SB