ভূ-বিজ্ঞানমন্ত্রক

প্রবল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ তেসরা মে বিকেলে ওডিশা উপকূলে পুরীর কাছে গোপালপুর এবং চাঁদবালির মধ্যবর্তী জায়গায় আছড়ে পড়বে

প্রকাশিত: 01 MAY 2019 6:28PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০১ মে, ২০১৯

 

বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশে প্রবল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ অবস্থান করছে : ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম, বিজয়ানাগ্রাম এবং বিশাখাপত্তনম জেলার উপকূলে হলুদ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে পশ্চিম-মধ্য এবং সন্নিহিত দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ঘনীভূত সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় “ফণী” ঘন্টায় ১৪ কিলোমিটার বেগে বিগত ৬ ঘণ্টা ধরে উত্তর-পশ্চিম দিকে তীব্র গতিবেগে ধেয়ে আসছে। বর্তমানে এটি ১৪.১ উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৩.৯ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ওডিশার পুরী থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছে। এই ঝড় ক্রমশ উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। এরপর এর অভিমুখ পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে এগিয়ে ওড়িশা উপকূলে গোপালপুর এবং চাঁদবালির মধ্যে কোনও জায়গা থেকে পুরীর নিকটবর্তী অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ৩রা মে বিকেলে ঘন্টায় ১৭০ – ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসবে

 

তারিখ/ভারতীয় সময়

অবস্থান (অক্ষাংশ-উত্তর/দ্রাঘিমাংশ- পূর্ব)

ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ গতিতে বায়ু প্রবাহিত হবে (কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা)

ঘূর্ণিঝড়ের প্রকারভেদ

০১.০৫.১৯/রাত ১১টা ৩০

১৫.৪/৮৩.৮

১৮০-১৯০ থেকে ২১০

প্রবল তীব্র ঘূর্ণিঝড়

০২.০৫.১৯/সকাল ৫টা ৩০

১৬.১/৮৩.৯

১৮০-১৯০ থেকে ২১০

প্রবল তীব্র ঘূর্ণিঝড়

০২.০৫.১৯/বিকেল ৫টা ৩০

১৭.৪/৮৪.২

১৭৫-১৮৫ থেকে ২০৫

প্রবল তীব্র ঘূর্ণিঝড়

০৩.০৫.১৯/সকাল ৫টা ৩০

১৮.৫/৮৪.৮

১৭০-১৮০ থেকে ২০০

প্রবল তীব্র ঘূর্ণিঝড়

০৩.০৫.১৯/বিকেল ৫টা ৩০

২০.০/৮৫.৮

১৫০-১৬০ থেকে ১৭৫

অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়

০৪.০৫.১৯/সকাল ৫টা ৩০

২২.১/৮৭.৪

১০০-১১০ থেকে ১২৫

তীব্র ঘূর্ণিঝড়

০৪.০৫.১৯/বিকেল ৫টা ৩০

২৩.৭/৮৯.১

৭০-৮০ থেকে ৯০

ঘূর্ণিঝড়

০৫.০৫.১৯/বিকেল ৫টা ৩০

২৫.৬/৯১.২

৪৫-৫৫ থেকে ৬৫

গভীর নিম্নচাপ

 

সতর্কবার্তা

বৃষ্টিপাতজনিত সতর্কবার্তা

২রা মে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর উপকূলে (সৃকাকুলাম, বিশাখাপত্তনম ও বিজয়নাগ্রাম জেলায়) এবং ৩রা মে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে

ওডিশা : ২রা মে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়রা মে ওডিশার উপকূলবর্তী এলাকা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এবং ৪ঠা মে বিক্ষিপ্ত কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ : ৩রা মে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলির বেশিরভাগ জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ঠা মে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের কিছু জায়গায় এবং হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

অরুণাচল প্রদেশ, আসাম ও মেঘালয় : ৪ঠা ও ৫ই মে বেশিরভাগ জায়গায় মাঝে মাঝে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বায়ুপ্রবাহের সতর্কবার্তা

রা মে থেকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূলে ঘন্টায় ৪০-৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩রা মে বায়ুর গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় ১৭০-১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ২রা মে ঘন্টায় ৪০-৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার, ৩রা মে ঘন্টায় ৬০-৭০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ঠা মে সকালে এই ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে ঘন্টায় ৯০-১০০ থেকে ১১৫ কিলোমিটার হতে পারে।

 

সমুদ্র পরিস্থিতি

বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। ৩রা মে পর্যন্ত উত্তর তামিলনাডু, পুদুচেরী এবং দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আর ২রা থেকে ৪ঠা মে পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

এই ঝড়ের ফলে ওডিশার গনজাম, খুরদা, পুরী এবং জগৎ সিংপুর জেলায় নীচু জমি ১.৫ মিটার উচ্চতার বানে ভেসে যেতে পারে।

মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা

৪ঠা মে পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যে সমস্ত মৎস্যজীবী মাঝ সমুদ্রে চলে গেছেন, তাঁদের উপকূলে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ওডিশার গনজাম, গজপতি, খুরদা, পুরী, জগৎ সিংপুর জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

যে কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রেল ও সড়ক পরিবহণে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওডিশার কেন্দ্রাপাড়া, ভদ্রক, জাজপুর, বালাসোর জেলা, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের সৃকাকুলাম ও বিজয়নাগ্রাম জেলায় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে, কাঁচাবাড়ি, পুরনো পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে ফসল, বাগিচা এবং নারকেল ও তালগাছের ক্ষতি হতে পারে। যেসব জমিতে ধান পেকে গেছে, তা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লতানো সব্জির মাচা এবং পান বরজের চারিদিকে খুঁটি পুঁতে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহের খুঁটি থেকে সবাইকে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। বড় বড় নৌকা এবং জাহাজ এই ঘূর্ণীঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

 

CG/CB/SB


(রিলিজ আইডি: 1571443) ভিজিটরের কাউন্টার : 321
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English