প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

ষোড়শ লোকসভার শেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

प्रविष्टि तिथि: 14 FEB 2019 5:45PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ষোড়শ লোকসভার শেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন।

 

লোকসভার কার্যপরিচালন প্রণালী সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অধ্যক্ষ শ্রীমতী সুমিত্রা মহাজনের ভূমিকারও তিনি প্রশংসা করেন। ষোড়শ লোকসভার মেয়াদকালে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার তিনি উচ্ছ্বশিত প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী লোকসভায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রাক্তন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রয়াত অনন্ত কুমারের কথাও স্মরণ করেন।

 

সংসদের এই কক্ষে তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় তিন দশক পর দেশ পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠ এক সরকারের কাজকর্ম দেখতে পেল। লোকসভার উৎপাদনশীলতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোট ১৭টি অধিবেশনের মধ্যে ৮টিতে কাজকর্মের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গেছে। এই কক্ষের কাজকর্মের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ৮৫ শতাংশ ছিল বলেও তিনি জানান।

 

এই কক্ষের সাংসদদের প্রশংসা করে শ্রী মোদী বলেন, ষোড়শ লোকসভার মেয়াদকালে মানুষের স্বার্থে শাসক সহ বিরোধী দলের প্রত্যেক সদস্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রথমবার লোকসভায় সর্বাধিক মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪৪ জন প্রথমবার সদস্য হিসাবে এসেছেন। এইসব কারণে ষোড়শ লোকসভা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহিলা সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিকে স্বীকার করে নিয়ে শ্রী মোদী বলেন, এই প্রথমবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মহিলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন। এমনকি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটিতে দু’জন মহিলা মন্ত্রী রয়েছেন।

 

শ্রী মোদী বলেন, “ভারতের আত্মবিশ্বাস এখন সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমি মনে করি, এ এক ইতিবাচক লক্ষণ, যা উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে আরও গতি সঞ্চারিত করবে”।

 

তিনি আরও বলেন, ভারত এখন বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং খুব শীঘ্রই ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি হয়ে উঠবে।

 

শক্তি তথা বিদ্যুৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তি, মহাকাশ এবং উৎপাদন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমগ্র দুনিয়া জুড়ে এখন বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলচনা হচ্ছে। ভারত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সৌর জোট গঠন করে উষ্ণায়নের ভীতি দূর করার লক্ষ্যে প্রয়াসী হয়েছে”।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব আজ আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কারণ, তারা পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠ এক সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। অবশ্য, এই স্বীকৃতি দানের কৃতিত্ব ভারতীয়দের প্রাপ্য, যাঁরা ২০১৪ সালে আমাদের সমর্থন জানিয়েছিলেন”।

 

ভারতের বিদেশ নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে ভারত মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নেপালে ভূমিকম্পের সময় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনো থেকে শুরু করে মালদ্বীপে জলসঙ্কট এমনকি, ইয়েমেনে আটকে পড়া মানুষের উদ্ধারে ভারতের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ভারতের সফট্‌ পাওয়ার যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্ব যোগচর্চাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বহু দেশ এখন বাবাসাহেব আম্বেদকর জয়ন্তী, মহাত্মা গান্ধী জয়ন্তী উদযাপন করছে।

 

সরকারি কাজকর্মের এক খতিয়ান পেশ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ষোড়শ লোকসভার মেয়াদকালে ২১৯টি বিল পেশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০৩টি বিল পাশ হয়েছে।

 

কালো টাকা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, এই লোকসভাতেই ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা ও ব্যাঙ্ক দেউলিয়া বিধি, ফেরার অর্থনৈতিক অপরাধী আইনের মতো কঠোর আইন-কানুন পাশ হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই লোকসভাতেই অভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি পাশ হয়। সমগ্র জিএসটি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতামূলক মনোভাব ও বিরোধী পক্ষের সমর্থন স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে”।

 

প্রধানমন্ত্রী মোদী আধার, আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা সহ একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের অঙ্গ হিসাবে ষোড়শ লোকসভার মেয়াদকালে ১ হাজার ৪০০-রও বেশি অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিল করা হয়েছে।

 

ষোড়শ লোকসভা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সম্পন্ন হওয়ার জন্য শ্রী মোদী এই কক্ষের প্রত্যেক সদস্যকে তাঁদের সমর্থন ও অবদানের জন্য ধন্যবাদ দেন।

 

CG/BD/SB


(रिलीज़ आईडी: 1564600) आगंतुक पटल : 220
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English