প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
বাহাদুরগড়-মুন্ডকা মেট্রো রেল লাইনের উদ্বোধন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
प्रविष्टि तिथि:
06 JUL 2018 3:37PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৪ জুন, ২০১৮
বাহাদুরগড়-মুন্ডকা মেট্রোরেল লাইন কার্যকর হওয়া উপলক্ষে আমি প্রথমেই হরিয়ানা ও দিল্লির সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানাই।
আজ হরিয়ানার বাহাদুরগড় দিল্লি মেট্রোর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। গুরগাঁও ও ফরিদাবাদের পর বাহাদুরগড় হচ্ছে হরিয়ানার তৃতীয় বড় এলাকা, যার সঙ্গে দিল্লি মেট্রোর সংযোগসাধিত হ’ল। সাধারণ মানুষের জন্য লাইনটি আজ উৎসর্গ হওয়ার পর হরিয়ানায় মেট্রো নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য বেড়ে ২৬ কিলোমিটার হবে।
বন্ধুগণ,
যাঁরা দিল্লি মেট্রোয় ভ্রমণ করেছেন একমাত্র তাঁরাই জানেন যে, এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা কিভাবে মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে। আমি বেশ কয়েকবার দিল্লি মেট্রোয় ভ্রমণ করেছি। বাহাদুরগড়-মুন্ডকা লাইনে ভ্রমণকারীরা আজ থেকে সেই অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।
বাহাদুরগড় অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোরেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, কারণ, এই অঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়ন ঘটেছে। তাছাড়াও, বেশ কয়েকটি কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ও এই অঞ্চলে থাকায় প্রচুর ছাত্রছাত্রীকে দিল্লি থেকে দৈনিক বাহাদুরগড়ে যাতায়াত করতে হয়। এখন থেকে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী, উদ্যোগপতি এবং সাধারণ মানুষ এখান থেকে সহজেই দিল্লিতে যাতায়াত করতে পারবেন।
সাধারণভাবে বাহাদুরগড়কে হরিয়ানার প্রবেশদ্বার বলা হয়। তবে, এই মেট্রোরেল যেন এই অঞ্চলে উন্নয়নের প্রবেশদ্বার হিসাবে পৌঁছে গেছে।
যখন শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাবে, সেই সময়ে মেট্রো, মানুষের জীবনকে সহজতর করবে, নতুন নতুন জনবসতি গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন পথ সৃষ্টি হবে। এই ধরণের মেট্রো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ ও উন্নয়নের সম্পর্কটি যথাযথভাবে বোঝা যায়।
বর্তমানে দিল্লি অঞ্চলে ২৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলের লাইন কার্যকর হয়েছে। যে দ্রুততার সঙ্গে এই নেটওয়ার্ক বেড়ে চলেছে, খুব শীঘ্রই সাংহাই, বেজিং, লণ্ডন ও নিউ ইয়র্কের পর দিল্লি, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক হিসাবে পরিচিত হবে।
বন্ধুগণ,
দিল্লিতে এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। দিল্লি-জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের যে সুফল দেখতে পাচ্ছেন, সারা দেশ জুড়ে এই সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে একই ধরণের উদ্যোগ অব্যাহত আছে।
আগে মেট্রো নেটওয়ার্কের কাজের সবচেয়ে বড় ত্রুটি ছিল এক একটি শহরের কাজ পৃথকভাবে করা হ’ত। মেট্রো সংক্রান্ত কাজের জন্য কোনও নীতি ছিল না, যার ফলে এর কোনও নির্দিষ্ট সীমারেখা ছিল না এবং পূর্বনির্ধারিত মানকও ছিল না। রাজনীতিবিদরা তাঁদের পছন্দ অনুসারে স্টেশনগুলির জায়গা স্থির করতেন এবং বিভিন্ন দপ্তরের স্বার্থ অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হ’ত।
২০১৭ সালে দেশের প্রথম মেট্রো সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নের পর এইসব বিষয়গুলিকে বিবেচনা করা হয়েছে। শহরগুলির সম্পূর্ণ পরিবহণ ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে মানুষকে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে অথবা তাঁদের অফিস থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য অসুবিধায় পড়তে না হয়। বর্তমানে দেশে যে কোনও স্থানে মেট্রো নির্মাণ করা হলে তা অনুরূপ পূর্বনির্ধারিত মানের ভিত্তিতে করা হবে।
বন্ধুগণ, সরকারের প্রত্যয় হচ্ছে একুশ শতকের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানুষের জন্য শহরগুলিতে স্মার্ট, সহজ, সুলভ এবং পরিচ্ছন্ন জন-পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বর্তমানে দেশের ১২টি শহরে মেট্রো নেটওয়ার্ক প্রসারিত হয়েছে। রাজ্য সরকারগুলিকে দেশের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরেই মেট্রো কোচ নির্মাণেরও ব্যবস্থা হয়েছে। গুজরাটের ভদোদরায় এবং তামিলনাডুর চেন্নাইয়ে অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। সরকার মেট্রো প্রকল্পে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিকে উৎসাহ দিতে সংগ্রহ নীতি সংশোধন করেছে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে নির্মিত ৭৫ শতাংশ জিনিসপত্র মেট্রো নির্মাণের কাজে ব্যবহারকে বাধ্য করা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
মেট্রো নেটওয়ার্ক হচ্ছে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার এক সুন্দর উদাহরণ। এর আগে মেট্রো নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি দেশ আমাদের সাহায্য করেছিল এবং বর্তমানে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রো কোচ সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কই নয়, এই ব্যবস্থা আমাদের দেশের সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয়তারও এক উদাহরণ। বর্তমানে দেশের কোনও রাজ্যে মেট্রো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হলে, তা করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির মধ্য দিয়ে।
বন্ধুগণ, যদি আমরা দিল্লি-জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের মেট্রো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার গতির কথা ভাবি, তা হলে দেখা যাবে যে, এই ব্যবস্থা দৈনিক ৬ লক্ষ যানবাহনের প্রয়োজন কমিয়ে দিয়েছে। মেট্রো মানুষের অর্থ ও সময় সাশ্রয় করেছে। এছাড়া, দূষণও বহুলাংশে কমিয়েছে। মেট্রোর সঙ্গে সরকার দিল্লি-জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সম্পূর্ণ পরিবহণ ব্যবস্থার রদবদল করে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তা গড়ে তোলার কাজ করছে। দিল্লি থেকে সোনেপত, আলোয়ার এবং মীরাটের মধ্যে দ্রুতগতির রেলের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য একটি আঞ্চলিক দ্রুতগতির পরিবহণ ব্যবস্থার কাজ চলেছে। এছাড়াও, দিল্লির আশেপাশে এক্সপ্রেসওয়ের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলেছে। এই কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে মানুষ কাজ করে চলেছেন।
এই কয়েকদিন আগে আমি ইস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম পর্যায়ের কাজ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছি। হরিয়ানায় ওয়েস্টার্ন পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগিয়ে চলেছে। এই পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়েগুলি দিল্লির মধ্য দিয়ে চলাচলকারী ছোট ও বড় যানবাহনের সংখ্যা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করেছে। এটা যে কেবলমাত্র যান চলাচল কমিয়েছে তাই নয়, দূষণের জন্য দায়ী প্রধান কারণগুলিকেও এই ব্যবস্থা কমিয়ে এনেছে।
ভাই ও বোনেরা, এই সরকার নতুন ভারতের জন্য একটি নতুন ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বদ্ধপরিকর। পরিকাঠামো ক্ষেত্রে গত চার বছরে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে সড়ক, রেলপথ এবং জলপথের ক্ষেত্রে। কার্গিল থেকে কন্যাকুমারী এবং কচ্ছ থেকে কামাক্ষ্যা পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘতম সূড়ঙ্গ-ই হোক বা বৃহত্তম সেতু, এই সব কাজই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একের পর এক সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। ভারতমালা প্রকল্পের আওতায় সারা দেশ জুড়ে ৩৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আধুনিক হাইওয়ে বা মহাসড়ক গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।
নিকট ভবিষ্যতে একদিকে যেমন ১০০টিরও বেশি জলপথ ও বুলেট ট্রেন দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন আনবে, অন্যদিকে দেশের ছোট ছোট শহরগুলিতে ছোট বিমানবন্দর গড়ে ওঠার ফলে মানুষ আকাশপথে ভ্রমণে উৎসাহিত হবেন। এই ধরণের আধুনিক পরিকাঠামো আমাদের শহরগুলিকে একুশ শতকের বৃদ্ধি কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা নেবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকাঠামো যত শক্তিশালী হবে, যোগাযোগ যত সুবিধাজনক হবে, বিভিন্ন ধরণের পরিবহণ ব্যবস্থা যত বাড়বে মানুষের জীবন তত বেশি সহজতর হয়ে উঠবে। এছাড়া, কর্মসংস্থানের এবং ব্যবসার আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বন্ধুগণ,
সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, এই উদ্যোগ সফল করে তোলা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।
অনুগ্রহ করে এগিয়ে আসুন, নতুন ভারতের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করুন।
আরও একবার আমি হরিয়ানা এবং বাহাদুরগড়ের মানুষকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আমাদের নাগরিকরা যেন এই ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ করেন এবং ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করেন – এই অনুরোধ রেখে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
CG/PB/SB……
(रिलीज़ आईडी: 1537999)
आगंतुक पटल : 92
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English