রেলমন্ত্রক

রেল মন্ত্রকের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সাফল্য : গত চার বছরে

প্রকাশিত: 12 JUN 2018 4:22PM by PIB Kolkata

আমেদাবাদ, ভোপাল, চেন্নাই, গুয়াহাটি, ইম্ফল, জয়পুর, কলকাতা, লক্ষ্ণৌ, পুণে, পাটনা, রায়পুর এবং রাঁচি এই ১২টি শহরের সংবাদ মাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক ভিডিও সম্মেলনে আজ মিলিত হলেন কেন্দ্রীয় রেল ও কয়লা প্রতিমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) তথা রেল প্রতিমন্ত্রী শ্রী মনোজ সিনহা এবং অপর এক রেল প্রতিমন্ত্রী শ্রী রাজেন গোহাইন-ও যোগ দেন এই বিশেষ বৈঠকে। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন রেল পর্ষদের চেয়ারম্যান শ্রী অশ্বিনী লোহানি-ওএই উপলক্ষে শ্রী গোয়েল রেল ও কয়লা মন্ত্রকের গত চার বছরের সাফল্যের বিশদ তথ্য সম্বলিত দুটি পুস্তিকাও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। এছাড়াও, ‘রেল মদত’ এবং ‘মেনু অন রেলস্‌’ নামে দুটি মোবাইল অ্যাপ-ও এই উপলক্ষে চালু করা হয়।

 ‘সাফ নিয়াত, সহি বিকাশ’ - এই দর্শন ও চিন্তাভাবনাকে অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় সরকার গত চার বছরে নিরাপত্তাকে ভারতীয় রেলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি বিষয় বলে চিহ্নিত করেছে। রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা সার্বিকভাবে হ্রাস পাওয়ার ঘটনাই একথা প্রমাণ করে। তথ্য ও পরিসংখ্যানের দিক থেকে জানা গেছে যে, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে দেশে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা যেখানে ছিল ১১৮, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩-এ। অর্থাৎ দুর্ঘটনার সংখ্যা সার্বিকভাবে হ্রাস পেয়েছে ৬২ শতাংশ। রেল নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করে তুলতে পাঁচ বছরের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় রেল সুরক্ষা তহবিল-ও গঠন করা হয়েছে। রেলের লেভেল ক্রসিংগুলিতে দুর্ঘটনা এড়াতে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে প্রহরা বিহীন রেল ক্রসিংগুলিকে তুলে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এক নতুন ভারত গঠনের বিশেষ পদক্ষেপ হিসাবে রেলের পরিকাঠামো ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করে তোলার ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে মূলধনী ব্যয়ের মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে অনেকটাই। গত চার বছরে মূলধন খাতে বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি করে তোলা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে রেল সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন নতুন রেলপথ চালু করার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৯ শতাংশ। ২০০৯-১৪ এই সময়কালে দেশে গড়ে প্রতিদিন নতুন রেলপথ চালু করা হয়েছিল ৪.১ কিলোমিটার বরাবর। তুলনায়, ২০১৪-১৮ এই চার বছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন গড়ে ৬.৫৩ কিলোমিটার।

শহরাঞ্চলে রেল পরিবহণ ব্যবস্থা এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের প্রসারের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরু শহরতলীর রেল পরিবহণ খাতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য বাজেট সংস্থান রাখা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, ঐ একই অর্থবর্ষের জন্য মুম্বাই শহরতলী এলাকায় রেল পরিবহণ খাতে বাজেট বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। মুম্বাই-আমেদাবাদ উচ্চগতির রেল পরিবহণ ব্যবস্থাটি গতি, নিরাপত্তা এবং পরিষেবার দিক থেকে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে চলেছে। এই ধরণের উচ্চ গতির রেল প্রকল্পগুলিতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সুফল লাভের পাশাপাশি ব্যপক কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক বিকাশের দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে ভারতীয় রেল। এই ধরণের বেশ কিছু প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে লাতুর, নিউ বঙ্গাইগাঁও, লামডিং, ঝাঁসি, বুন্দেলখন্ড এবং শোনপাতে। রেল বৈদ্যুতিকরণের ক্ষেত্রেও বিশেষ জোর দিয়েছে ভারতীয় রেল। ২০১৩-১৪ সালে রেল বৈদ্যুতিকরণের মাত্রা ছিল ৬১০ রুট কিলোমিটার। তুলনায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০৮৭ রুট কিলোমিটারে।

পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রেও বিশেষ সাফল্য দেখিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও জোরদার করে তুলতে সাহায্য করেছে ভারতীয় রেল। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে পণ্য পরিবহণের মাত্রা যেখানে ছিল ১১০৭ মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১১৬২ মেট্রিক টনে। এর সুবাদে পণ্য পরিবহণ খাতে রেলের মাশুল আদায়ের পরিমাণও পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মাশুল খাতে রেলের আয় ও উপার্জন ১.১৭ লক্ষ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল। আগামী ২০১৯-২০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর। এর সুবাদে, ভারতীয় অর্থনীতি আরও মজবুত হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত করে তোলার জন্যও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেল মন্ত্রক। এজন্য নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে দেশের স্টেশনগুলিকে। এসক্যালেটর, লিফট্‌, বিনা খরচে ওয়াইফাই সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে এই স্টেশনগুলিতে। স্থানীয় ও আঞ্চলিক শিল্প ও সংস্কৃতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রেল স্টেশনগুলিকে সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রেআগামী মার্চ ২০১৯-এর মধ্যে এই ধরণের ৬৮টি রেল স্টেশনকে অত্যাধুনিক মানের করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছেতেজস, অন্ত্যোদয় এবং হামসফর ট্রেন চালু করার পাশাপাশি বিভিন্ন ট্রেন ও ট্রেনের কামরাগুলিকে আরও উন্নত করে তোলার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য গত চার বছরে চালু করা হয়েছে ৪০৭টি নতুন ট্রেন পরিষেবা। উৎসবের মরশুমগুলিতে পরিষেবার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজারের মতো। রেলের ক্যাটারিং ব্যবস্থাকে উন্নত করে তুলতে প্রতিটি খাদ্য সামগ্রীর ওপর সর্বোচ্চ খুচরো দাম উল্লেখ করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে তোলা হয়েছে। ৩০০টিরও বেশি ট্রেনে এই ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উন্নত মানের খাবার তৈরির জন্য রেলের বেস কিচেনগুলিতে কৃত্রিম মেধা ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা প্রাথমিকভাবে চালু করা হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদ ট্রেন চলাচলকে নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সময়ের সাশ্রয় নিশ্চিত করতেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে নজর দেওয়া হয়েছে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ব্লকগুলির পরিকল্পনার ওপর। কোনও ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে কিনা, সে সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য যাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৩৭৩টি ট্রেনে চালু হয়েছে এসএমএস পরিষেবাও।

মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদযাপনের দিকে বিশেষ নজর দিয়ে পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাফাই অভিযান, বায়ো টয়লেট ইত্যাদির প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল।

জোর দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও। রেল পরিষেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাকে নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈদ্যুতিন পদ্ধতি চালু হচ্ছে রেলের নিলাম ব্যবস্থাতেও। এর ফলে, ২০ হাজার কোটি টাকার মতো সাশ্রয় ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। রেলের রিসার্চ ডিজাইনস্‌ অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস্‌ অর্গানাইজেশন (আরডিএসও)-এর প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা ৩০ মাস থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ছয় মাসে।

১৩ লক্ষেরও বেশি রেলকর্মীর ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ক্ষমতা হস্তান্তর সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভারতের প্রথম জাতীয় রেল ও পরিবহণ বিশ্ববিদ্যালয়টি ভাদোদরায় চালু হতে চলেছে এ বছরের আগস্ট মাসে। ১৩০ কোটি ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্খার বাস্তবায়নে এবং ভারতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ভারতীয় রেল এক জীবনরেখার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছে।

আজকের অনুষ্ঠানে রেল ও কয়লার ওপর হিন্দি ও ইংরাজিতে বিশদ তথ্য সম্বলিত যে দুটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা সংগ্রহ করা যাবে যথাক্রমে https://static.pib.gov.in/writeReadData/userfiles/4%20Yr%20Rail$20&%20Coal%20Booklet_Hindi.pdf এবং https://static.pib.gov.in/writeReadData/userfiles/4%20Yr%20Rail$20&%20Coal%20Booklet_English.pdf – এই দুটি ওয়েবসাইটে।


(রিলিজ আইডি: 1535166) ভিজিটরের কাউন্টার : 193
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English