প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ‘প্ল্যাটিনাম জুবিলি মাইলস্টোন’ বই প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ‘প্ল্যাটিনাম জুবিলি মাইলস্টোন’ বইটি প্রকাশ করে অত্যন্ত আনন্দিত
প্রকাশিত:
25 MAY 2017 2:09PM by PIB Kolkata
শ্রদ্ধেয় শ্রী রতন টাটা মহোদয়,
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ডাইরেক্টর ডঃ আর এ বড়ওয়ে,
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের সকল চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং বন্ধুগণ,
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ‘প্ল্যাটিনাম জুবিলি মাইলস্টোন’ বইটি প্রকাশ করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার’কে এই জায়গায় পৌঁছে দিতে টাটা পরিবারের নিরন্তর সেবার মনোভাব আর সামাজিক দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আজ এই প্রতিষ্ঠানের ৭৫তম জয়ন্তীতে এর সঙ্গে যুক্ত সকলকে মনে করার সময় হয়েছে।
এই বইয়ের পাতা উল্টে আমি ১৯৩১ সালের একটি ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি, সেই সময় মেহর বাঈ টাটা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যাওয়ার সময় নিজের স্বামী দোরাব জি টাটা’কে বলেছিলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবতী যে, এই মারণ রোগের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা পাঠানোর সামর্থ্য আমার পরিবারের রয়েছে, কিন্তু এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা কী করে হবে, যাঁদের এত অর্থ নেই”।
শ্রদ্ধেয়া মেহর বাঈ-এর মৃত্যুর পর দোরাবজি টাটা একথা মনে রেখেছেন, আর সেইপ্রেরণা থেকেই তিনি এই টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার গড়ে তোলার কথা ভেবেছেন।
আজ ৭৫ বছর পর এই প্রতিষ্ঠান ক্যান্সারের চিকিৎসা, ক্যান্সারের চিকিৎসা সংক্রান্ত পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা এবং ক্যান্সার নিয়ে উন্নত গবেষণার একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশে এরকম অনেক কম প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা এত বছর ধরেদেশের সেবায় নিয়োজিত।
লক্ষ লক্ষ গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য এই প্রতিষ্ঠান যেভাবে এগিয়ে এসে কাজ করেছে, তা দেশের বাকি হাসপাতালগুলির জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠান সরকারি এবং বেসরকারি সংগঠনগুলি মিলেমিশে কিভাবে দরিদ্র জনসাধারণকে আধুনিকত মস্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ যে কোনওপরিবারের জন্য অগ্নি পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার মতো পরিস্থিতি গড়ে তোলে। শারীরিক কষ্ট, মানসিক কষ্ট আর অর্থ সংকুলান – এই সমস্ত বিষয়ই পরিবারটিকে সংকটের দিকে ঠেলেদেয়।
কোনও দরিদ্র মানুষ যদি অসুস্থ হন, তা হলে তাঁর সামনে ওষুধের থেকেও আগেখাদ্য আর কর্মসংস্থানের সঙ্কট প্রকট হয়ে ওঠে। সেজন্য যখন টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠান, সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীরা যখন দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য দিন-রাত এক করে তাঁদের চিকিৎসা করেন, তাঁদের শারীরিক জ্বালা-যন্ত্রণা উপশমের চেষ্টা করেন, তা হয়ে ওঠে সত্যিকারের মানবসেবা।
আমি শ্রদ্ধেয় রতন টাটা, টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার এবং তার সঙ্গে যুক্তচিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী এবং প্রশাসনে কর্মরত সকলকে আরেকবার টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ, ক্যান্সার মানবতার বড় সংকটগুলির মধ্যে অন্যতম। শুধু আমাদের দেশেইপ্রতি বছর ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন বলে চিহ্নিত হন। প্রতি বছর ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে মারা যান। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চঅন ক্যান্সার-এর অনুমান অনুসারে আগামী ২০ বছরে এই হার দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সকলক্যান্সার হাসপাতালগুলিকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। একটি এমন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসা সুলভে করার সাহায্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, চিকিৎসার সময়ে আধুনিকতম প্রযুক্তিরও সাহায্য পাওয়া যাবে।
২০১৪ সালে যখন আমরা সরকারে এসেছি, তখন ৩৬টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র জাতীয় ক্যান্সার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমরা চেষ্টা চালিয়ে ইতি মধ্যেই তারদ্বিগুণেরও বেশি ১০৮টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রকে এই গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছি।
সম্প্রতি, ডিজিটাল ক্যান্সার নার্ভ সেন্টার-ও কাজ শুরু করে দিয়েছে। এভাবেই ভার্চ্যুয়াল টিউমার বোর্ডের সাহায্যে ক্যান্সারের নানা ধরণের ক্যান্সার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের এক সঙ্গে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যুক্ত করে রোগীদের চিকিৎসার রূপরেখা ঠিক করার ক্ষেত্রে সাহায্য করা সম্ভব হচ্ছে।
ক্যান্সারের চিকিৎসায় টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের অভিজ্ঞতা এখানে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের দক্ষতাকে ব্যবহার করে, তাঁদের সাহায্যে দেশে ক্যান্সার উপশমে আরও নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক।
(রিলিজ আইডি: 1490896)
ভিজিটরের কাউন্টার : 19
রিলিজের প্রেক্ষাপট
মারণ রোগের চিকিৎসার জন্য আমেরিকা পাঠানোর সামর্থ্য আমার পরিবারের রয়েছে, কিন্তু এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা কী করে হবে, যাঁদের এত অর্থ নেই